‘আমি সন্দীপ ঘোষকে চিনতাম, দুর্নীতির বিরুদ্ধে কিন্তু আমি বরাবর প্রতিবাদ করেছি…’, আর জি কর কাণ্ড নিয়ে মুখ খুলে কী জানালেন মদন মিত্র?

আর জি করের তরুণী চিকিৎসককে ধর্ষণ-খুনের ঘটনায় রাজ্য এখন উত্তাল। দিকে দিকে চলছে প্রতিবাদ-বিক্ষোভ। সকল স্তরের মানুষ পথে নেমে প্রতিবাদ জানাচ্ছেন। এই ঘটনায় শাসক দলের বিরুদ্ধেও সুর চড়েছে। এবার এই নিয়ে এক সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মুখ খুললেন কামারহাটির তৃণমূল বিধায়ক মদন মিত্র।   

আর জি করের ঘটনা প্রসঙ্গে মদন বলেন, “এই ঘটনা আমাদের সকলকে লজ্জিত করছে। মাথা নীচু করেছে। দুঃখের বিষয় আমরা এখনও সব জানতে পারলাম না। সিবিআই বলছে, তথ্যপ্রমাণ লোপাট হয়েছে বলা হচ্ছে, তার তো একটা প্রমাণ লাগবে। এই যে দীর্ঘদিন অপেক্ষা”।

আর জি করের তরুণী চিকিৎসকের ধর্ষণ-খুনের ঘটনায় প্রমাণ লোপাট ও আর জি করের আর্থিক দুর্নীতির ঘটনায় গ্রেফতার হয়েছেন প্রাক্তন অধ্যক্ষ সন্দীপ ঘোষ। মদনের কথায়, তিনি সন্দীপ ঘোষকে চিনতেন। তিনি জানান, “সন্দীপ বাবুকে আমি চিনতাম যখন তখন উনি ছিলেন চিত্তরঞ্জনে। তারপরে এসেছেন আরজি করে। আমি মদন মিত্র। লোকে আমায় চেনে হাসপাতালে ভর্তি করার লোক হিসেবে। আমি হাসপাতালের কর্মকর্তাকে চিনি না। কেমন বোকা বোকা হয়ে গেল না বিষয়টা? নিশ্চয়ই চিনতাম। দেখেছি”।

সরকারি হাসপাতালে যে এই এত এত দুর্নীতির অভিযোগ উঠছে, জুনিয়র চিকিৎসকরা নানান অভিযোগ করছেন, এর কোনও কিছুই কী টের পান নি মদন মিত্র? তৃণমূল নেতার কথায়, “আমার গত জীবনের বেশ কিছু বছর দেখেন, দেখবেন আমি দালালরাজ থেকে দুর্নীতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করেছি। এই ব্যাপারে পার্টিও আমার ব্যাপারে অবহিত। আমি যদি সবসময় হাসপাতালে দাঁড়িয়ে গোলমাল করি। হাসপাতালে সমস্যা হবে। পিজিতে যখন ছিলাম.. পিজির ডাক্তারদের উপর অত্যাচার, রোগী ভর্তির নাম গুন্ডামি-আমি সবসময় হাজির ছিলাম”।

আরও পড়ুনঃ কয়লা-গরুর পর এবার বিদ্যুৎও! প্রভাবশালী তৃণমূল নেতার বিরুদ্ধে উঠল বিদ্যুৎ চুরির অভিযোগ, এফআইআর দায়ের বিদ্যুৎ দফতরের 

মেডিক্যাল কলেজে থ্রেট কালচার চালানোর অভিযোগে অভিযুক্ত চিকিৎসক নেতা বিরুপাক্ষ বিশ্বাস। অনেকের কথাতেই, মদন মিত্রের হাত ধরেই নাকি এই বিরুপাক্ষের উত্থান হয়েছে। সেই দাবীকে নস্যাৎ করে দিয়ে কামারহাটির বিধায়ক বললেন, “প্রমাণ করুক। মদন মিত্রের হাত ধরে লক্ষ ছেলের উত্থান। আমার সঙ্গে কার ছবি নেই? দিলীপ ঘোষেরও ছবি রয়েছে। একমাত্র উত্তমকুমারের ছবি নেই। ওর নামে অভিযোগ পেয়েছিলাম আমি ব্যবস্থা নিয়েছিলাম ওকে হস্টেলে ঢুকতে না দেওয়ার জন্য। ওর আসা বন্ধ করা হয়েছিল। ওর নাকি কোনও বন্ধু ছিল তাই না কি ও এসে থাকত। বিরূপাক্ষ বা অভীককে তৈরি করার জন্য কারা দায়ী সেটা তলিয়ে দেখা হোক”।

RELATED Articles