‘আর জি কর কাণ্ডের প্রতিবাদও করেছি, উৎসবও করব’, লক্ষীর ভান্ডারের টাকায় পুজো করার উদ্যোগ মহিলাচালিত এই পুজো কমিটির!

আর জি করের (R g kar incident) ঘটনা রীতিমত রাজ্য রাজনীতির ভিত কাঁপিয়ে দিয়েছে। নিজের কর্মক্ষেত্রে একজন মহিলা কতটা অসুরক্ষিত হলে কাজ করতে গিয়ে সে আর ফিরে আসে না, নির্মম ভয়ঙ্কর পরিণতির মুখোমুখি হতে হয় তাকে-এই প্রশ্ন ভাবিয়ে তুলছে ৮ থেকে ৮০-র মানুষকে। তিলোত্তমার ন্যায়বিচারের এই লড়াই তাই সকলের। এইবছর অনেকেই যখন উৎসব থেকে মুখ ফিরিয়েছেন তখন এই রাজ্যের একটি পাড়ার মহিলারা ঠিক করেছেন তারা উৎসব (Durga Puja) করবেন নিজেদের মত করে।

হ্যাঁ, ঘরের মেয়ে তিলোত্তমার ন্যায় বিচার চেয়ে অনেকেই এই বছর শোক পালন করবেন তাই তারা মা দুর্গার পুজো করবেন না বলে ঠিক করেছেন। সেই মুহূর্তে দাঁড়িয়ে পশ্চিমবঙ্গের একটি জায়গায় মহিলারা জানালেন তারা মায়ের আরাধনা করবেন তাদের টাকায়। হ্যাঁ, লক্ষীর ভান্ডার এর টাকা জমিয়ে তারা মায়ের পুজোর আয়োজন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। পুজোর আলোচনার প্রথম দিকেই যখন মায়ের পুজোর অর্থ সংগ্রহের প্রশ্ন ওঠে তখন তাতে সকল সদস্যা সম্মতি দেন।

পশ্চিমবঙ্গের দত্তপুকুরের কালাচাঁদপাড়ায় প্রায় আড়াই হাজার মানুষ থাকেন। দীর্ঘ বেশ কয়েক বছর ধরে এলাকায় একটি পুজো হয়, তবে এই বছর সেখানকার মহিলারা ঠিক করেন তারা মায়ের পুজো করবেন। তাই কয়েকজন মহিলা মিলে মায়ের পুজোর প্রস্তুতি শুরু করেন। এরপর এই পুজোয় সদস্য সংখ্যা বেড়ে হয় ৭০। এরপর এই পুজো কমিটির সদস্যারা নিজেরাই সিদ্ধান্ত নেন, লক্ষীর ভান্ডারের যে টাকা তারা প্রতি মাসে পান সেই টাকা জমিয়েই তারা মায়ের আরাধনা করবেন।

৭০ জন সদস্যা মিলে এক মাসের লক্ষ্মীর ভান্ডারের টাকা একত্রিত করে এই বছরের পুজোর আয়োজন করেছেন। অনেকেই ইতিমধ্যেই টাকা দিয়ে দিয়েছেন আর যারা দেননি তারাও জানিয়েছেন পরের মাসে টাকা ঢুকলেই পুজো কমিটিকে দিয়ে দেবেন তারা। এই পুজো প্রসঙ্গে পুজো কমিটির সম্পাদিকা নন্দিতা সিকদার বলেন, “আমরা ৭০ জন মিলে একমাসের লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকায় প্রথম বছরের পুজো করব বলে ঠিক করেছি। পুজোর সব ব্যবস্থাপনাই মহিলারাই রয়েছি। সাধারণভাবেই পুজোর আয়োজন হচ্ছে। মা দুর্গার সাজ থাকবে ডাকের”।

আরও পড়ুনঃ কোনও ডোনেশন নয়, নিজের মেধার জোরেই চিকিৎসক হয়েছেন, নিজের WBJEE-র র‍্যাঙ্ক জানিয়ে অনিকেত চট্টোপাধ্যায়ের আক্রমণের জবাব দিলেন কিঞ্জল

একই সাথে এই বছর তিলোত্তমা কান্ডের প্রতিবাদ করে অনেকেই যেখানে উৎসবে সামিল হবেন না বলে ঠিক করেছেন সেখানে কালাচাঁদ পাড়ার মহিলাদের এই উদ্যোগ রীতিমত আলোচিত হচ্ছে সব জায়গায়। এই সিদ্ধান্ত প্রসঙ্গে পুজো কমিটির সম্পাদিকা বলেন, “আমরা পুজো কমিটির মহিলারাও আর জি করের ঘটনার প্রতিবাদ জানাচ্ছি। পাশাপাশি উৎসবও করছি। কারণ বহু মানুষ রোজগারের আশায় দুর্গোৎসবের দিকে তাকিয়ে থাকেন।”

Sangita Chatterjee

আরও পড়ুন

আরও অন্যান্য খবর