আর জি কর কাণ্ড নিয়ে যখন চারিদিক উত্তপ্ত, সকলেই যখন তরুণী চিকিৎসকের ন্যায় বিচারের দাবী করছেন, সেই সময় দাঁড়িয়ে অনেকেই জুনিয়র চিকিৎসকদের আন্দোলনকে কটাক্ষ করতে ছাড়ছেন না। তাদের নানান হুমকিও দেওয়া হচ্ছে। নানান মন্তব্য করে আক্রমণ করা হচ্ছে তাদের। সেই তালিকায় পড়েন পরিচালক অনিকেত চট্টোপাধ্যায়।
কিছুদিন আগেই আন্দোলনরত জুনিয়র চিকিৎসক তথা অভিনেতা কিঞ্জল নন্দকে বেশ আক্রমণ করেন পরিচালক অনিকেত চট্টোপাধ্যায়। নাম না করেই বলেছিলেন, কিঞ্জল নাকি ১ কোটি টাকা ডোনেশন দিয়ে প্রাইভেট হাসপাতাল থেকে পাশ করে চিকিৎসক হয়েছেন। এবার তাঁর সেই দাবীর পাল্টা দিয়ে নিজের WBJEE-র র্যাঙ্ক প্রকাশ্যে আনলেন কিঞ্জল।
কী বলেছিলেন অনিকেত চট্টোপাধ্যায়?
এক সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে পরিচালক লিখেছিলেন, “মগজ নিয়ে কিছু কথা। এক কোটি টাকা ডোনেশন দিয়ে প্রাইভেট মেডিকেল কলেজে পড়েছেন জুনিয়র ডাক্তারদের বিপ্লবী মুখ। বিপ্লব দীর্ঘজীবি হোক”। পরিচালকের অনুরাগীরা এই পোস্টে কিঞ্জলকে বেশ কটাক্ষ করেছিলেন। তাঁর আন্দোলন নিয়েও কটাক্ষ করেছিলেন।
এবার অনিকেত চট্টোপাধ্যায়ের সেই আক্রমণের জবাব দিলেন কিঞ্জল। সেই পোস্টে মন্তব্য করে লিখলেন, “ইচ্ছে হল তাই লিখছি। অনেকেই অনেক কথা বলছেন, সত্যটা একটু বলা উচিত। যেহেতু অনিকেত বাবুকে আমি কিছুটা চিনি এবং উনি আমার সিনিয়র সেই জায়গাতে শ্রদ্ধা জানিয়ে লিখছি, আমি যে বছর WBJEE দিই আমাদের পশ্চিমবঙ্গে টোটাল সিট ছিল বোধহয় ৯০০ এর কাছাকাছি। তখন এত মেডিক্যাল কলেজ হয়নি। আমি র্যাঙ্ক করেছিলাম ৮৫৯ জেনারেল। কিছুটা শেষের দিকে। জেলার কিছু সরকারি কলেজে চান্স পাচ্ছিলাম শেষের দিকে। যেহেতু বাবা মা একা থাকেন সেহেতু আমি বাইরে যেতে চাইনি। বরাবরই ঘরকুনো। তারপর কাউন্সেলিংয়ে কেপিসিতে পাই। তখন কেপিসিতে সরকারি ৫০টা সিট ছিল। তার মধ্যেই আমি প্রবেশ করি। সাড়ে পাঁচ বছরে আমার খরচ হয়েছিল ৫ লাখ”।
তিনি আরও লেখেন, এই টাকা তিনি বাবার থেকে নেন নি। ব্যাঙ্ক থেকে লোন নিয়েছিলেন যা চিকিৎসক হওয়ার পর রোজগার করে শোধ করেন। কিঞ্জল লেখেন, “বিশ্বাস করুন এই টাকাটা আমি বাবার থেকে নিইনি। নিজে লোন করেছিলাম। বাকিটা আমি টিউশন পড়াতাম কেমিস্ট্রি আর অঙ্ক। বাবার শিক্ষাটা এমন ছিল বড় হয়েছ নিজের খরচ নিজে চালাও। তাই হয়তো পড়াশোনা, টিউশন, নাটক নিয়েই থাকতাম। ডাক্তারি পাশ করার পর নিজে কাজ করে, সৎ ভাবে রোজগার করে লোন শোধ করি। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের SBI ব্রাঞ্চে। আপনি পরিচালক খুবই সম্মানীয় ব্যক্তি, সাধারণ জীবন যাপন করেন। তাই আপনার কথায় একটু সত্যতা আশা করি। কষ্ট দিয়ে থাকলে মাফ করবেন। শ্রদ্ধা নেবেন। আমার বাবা সবসময় শিখিয়েছেন মানুষ হতে”।

কিঞ্জল নন্দের এই মন্তব্যে তাঁকে বাহবা জানিয়েছেন অনেকেই। আর জি কর কাণ্ডের আন্দোলনের প্রতিবাদী এক মুখ হয়ে উঠেছেন কিঞ্জল নন্দ। যদিও তিনি বলেছেন, এই আন্দোলন সকলের। তিনি একা ও গুটি কয়েকজন আন্দোলনের মুখ নন। কিঞ্জলের এই মন্তব্যে তাদের আন্দোলনকেও কুর্ণিশ জানিয়েছেন অনেকে।





