‘অভয়ার বিচারের জন্য লড়াইটা দীর্ঘ, আসল কার্নিভাল হবে ব্রিগেডে’, জানানো হল চিকিৎসকদের তরফে, কীসের বার্তা?

ব্রিগেড ময়দান! এই ব্রিগেড সাধারণত রাজনৈতিক সভার স্থল বলেই পরিচিত। তবে এবার আর রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব নয়, সেই ব্রিগেডে দেখা যাবে অন্য এক আন্দোলন। দেখা যাবে জুনিয়র চিকিৎসকদের। ওয়েস্ট বেঙ্গল জয়েন্ট প্ল্যাটফর্ম অফ ডক্টরসের তরফে অন্তত এমনটাই বিবৃতি দিয়ে জানানো হল।

গত ৯ আগস্ট আর জি করের সেমিনার রুমে উদ্ধার হয় এক তরুণী চিকিৎসকের ক্ষতবিক্ষত দেহ। ধর্ষণ করে খুন করা হয়েছিল তাঁকে। সেই ঘটনার প্রতিবাদে আন্দোলন দিনদিন বেড়েছে। দীর্ঘদিন কর্মবিরতি পালন করেছেন জুনিয়র চিকিৎসকরা। গত ৫ অক্টোবর থেকে ১০ দফা দাবীতে আমরণ অনশন করছেন তারা।

এরই মধ্যে গতকাল, মঙ্গলবার দ্রোহের কার্নিভাল করেন চিকিৎসকরা। এদিন পুজোর কার্নিভাল থাকায় পুলিশ দ্রোহের কার্নিভালে অনুমতি না দিলে চিকিৎসকরা দ্বারস্থ হন কলকাতা হাইকোর্টের। এরপর হাইকোর্টের অনুমতি মিল্লে রানি রাসমনি রোডে হয় চিকিৎসকদের দ্রোহের কার্নিভাল। সেখানে সাধারণ মানুষের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো।

এরপরই ওয়েস্ট বেঙ্গল জয়েন্ট প্ল্যাটফর্ম অফ ডক্টরসের তরফে জারি করা হয় এক বিবৃতি। তাতেই জানানো হয়েছে, পচে যাওয়া স্বাস্থ্য ব্যবস্থা খোলনলচে পাল্টে না দেওয়া পর্যন্ত তাদের এই আন্দোলন চলবে। জনগণের উদ্দেশে জানানো হয়েছে, “অভয়ার বিচারের লড়াই যে দীর্ঘ সেটা আমাদের সাথে আপনারাও নিশ্চয়ই বুঝে গেছেন। আসল কার্নিভাল হবে সব দাবী পূরণের পর। সেদিন আর কোথাও নয়, সেদিন আপনারা ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডের দখল নেবেন এ বিশ্বাস আমাদের আছে”।

ওয়েস্ট বেঙ্গল জয়েন্ট প্ল্যাটফর্ম অফ ডক্টরসের এই বিবৃতির কথা প্রকাশ্যে আসতেই, তা নিয়ে তুমুল হইচই পড়ে গিয়েছে। এমনিতেই শাসকদলের তরফে বারবার দাবী করা হয়েছে জুনিয়র চিকিৎসকদের এই আন্দোলনের নেপথ্যে বামেদের হাত রয়েছে। এবার ব্রিগেডে কার্নিভালের কথা উঠতেই ফের এর নেপথ্যে বামেদের কলকাঠি নাড়াই দেখছে তৃণমূল।  

আরও পড়ুনঃ দুর্ঘটনায় খোয়া গিয়েছে এক চোখ, অভাব-অনটন নিত্যসঙ্গী, সংসারের ঘানি টানতে এক চোখেই লক্ষ্মীসরা আঁকেন বছর সত্তরের শিল্পী 

তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষের দাবী, আর জি করের বিষয়টি সুপ্রিম কোর্টে বিচারাধীন। কিন্তু তা সত্ত্বেও ইচ্ছাকৃতভাবে রাজ্যে অশান্তি জিইয়ে রাখা হচ্ছে। যদিও কুণালের সেই মন্তব্য বিশেষ আমল দিতে রাজি নন জুনিয়র চিকিৎসকরা। তাদের কথায়, “আর জি করের মূল ইস্যু থেকে উনি আন্দোলনের অভিমুখ ঘুরিয়ে দিতে চাইছেন”।

RELATED Articles