ধর্মীয় বচন শুনেই গুরুজির ভক্ত হয়েছিলেন তরুণী। এরপর হন তাঁর শিষ্যা। তারপর সাধনসঙ্গিনী। সেই গুরুজির বিরুদ্ধেই লাগাতার ধর্ষণ, এমনকি হুমকি ও আত্মহত্যায় প্ররোচনা দেওয়ার অভিযোগ তুললেন ওই তরুণী। গুরুজির বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেন তরুণী। পুলিশের জালে সেই ‘গুরুজি’।
সেই গুরুজির নাম গোবিন্দ বল্লভ শাস্ত্রী। সমাজ মাধ্যমে বেশ পরিচিত মুখ তিনি। বৃন্দাবনের বাসিন্দা ধর্মীয় কথাবাচক। তাঁর ধর্মীয় বচনের ভিডিও নিয়মিত ইউটিউবে আপলোড হয়। সেই ভিডিও দেখে গুরুজির মুখে ধর্মীয় বচন শুনে আকৃষ্ট হয়েছিলেন বছর ২৭-এর এক তরুণী। মঙ্গলকোট থানা এলাকার বাসিন্দা তিনি।
জানা গিয়েছে, গুরুজির সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ হয়েছিল ওই তরুণীর। এরপর ২০২৩ সালের মে মাসে বীরভূমের এক ভাগবত পাঠের আস্রে দেখা হয় তাদের। জুন মাসে মুর্শিদাবাদ জেলার বেলডাঙা এলাকায় ওই তরুণী দীক্ষা নেন। ওই তরুণী গোবিন্দ বল্লভের সাধনসঙ্গিনী হতেও রাজি হয়ে গিয়েছিলেন। তরুণীর দাবী, গুরুজি নাকি তাঁর সারাজীবনের দায়িত্বভার নেওয়ার প্রতিশ্রুতি নিয়েছিলেন।
এভাবেই ধীরে ধীরে দু’জনের মধ্যে ঘনিষ্ঠতা বাড়তে থাকে। তরুণীর দাবী, তাঁর ইচ্ছার বিরুদ্ধেই গুরুজি তাঁর সঙ্গে সহবাস করেন। একাধিকবার এমন ঘটনা ঘটে। তারপর হঠাৎ করেই গুরুজি তরুণীকে এড়িয়ে চলতে থাকেন বলে দাবী। তরুণী যোগাযোগ করার চেষ্টা করলে গুরুজি ও তাঁর স্ত্রী তাঁকে অপমানজনক কথা বলেন বলে অভিযোগ।
তরুণী জানান, মানসিক অবসাদে ভুগে তিনি গায়ে আগুন লাগিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টাও করেছিলেন। দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি। একটু সুস্থ হওয়ার পর গত জুলাই মাসে ওই তরুণী মঙ্গলকোট থানায় গুরুজির বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ দায়ের করেন। এদিকে এই অভিযোগ দায়েরের পরই আগাম জামিন চেয়ে উচ্চ আদালতে আবেদন করেন গোবিন্দ বল্লভ। তবে তাঁর সেই জামিনের আবেদন খারিজ হয়ে যায়।
আরও পড়ুনঃ ‘ঝড় দেখব, থাকতে দিন…’! ‘দানা’কে বুড়ো আঙুল, সতর্কতা সত্ত্বেও সমুদ্রের পাড় থেকে সরানো যাচ্ছে না পর্যটকদের, উত্তাল সমুদ্রের সামনে সেলফি তোলার হিড়িক
গত মঙ্গলবার মঙ্গলকোট থানায় গিয়ে আত্মসমর্পণ করেন গোবিন্দ বল্লভ। তাঁকে প্রথমে একদিনের জেল হেফাজতের নির্দেশ দেন বিচারক। তদন্তের স্বার্থে পুলিশ তাঁকে নিজেদের হেফাজতে নেওয়ার আবেদন জানায়। গতকাল, বুধবার ফের তাঁকে আদালতে তোলা হয়। এদিন ধৃতকে ৭ দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দেন বিচারক।






