‘ঝড় দেখব, থাকতে দিন…’! ‘দানা’কে বুড়ো আঙুল, সতর্কতা সত্ত্বেও সমুদ্রের পাড় থেকে সরানো যাচ্ছে না পর্যটকদের, উত্তাল সমুদ্রের সামনে সেলফি তোলার হিড়িক

দ্রুত বেগে শক্তি বাড়িয়ে এগিয়ে আসছে ঘূর্ণিঝড় দানা। রাজ্যের সমস্ত উপকূলীয় এলাকায় সতর্কতা জারি করা হয়েছে। সরিয়ে ফেলা হচ্ছে মানুষজনকে। কিন্তু তাতেও যেন কোনও ভ্রূক্ষেপই নেই কিছু মানুষের। সমুদ্র সৈকত থেকে সরানোই যাচ্ছে না কিছু পর্যটকদের। বাড়ছে ছবি, সেলফি তোলার হিড়িক।

শক্তি বাড়াচ্ছে দানা। আজ, বৃহস্পতিবার রাত ৮টা থেকে শুক্রবার সকাল ৮টার মধ্যেই আছড়ে পড়বে ঘূর্ণিঝড়। বাংলায় ল্যান্ডফল হবে না। তবে সাগরদ্বীপ ও ওড়িশার মাঝে ভিতরকণিকা-ধামরা এলাকার মাঝেই আছড়ে পড়বে দানা। সেই সময় এর গতিবেগ থাকতে পারে ১০০-১২০ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টা। তা শক্তি বাড়িয়ে ১৩০ কিলোমিটারও হতে পারে বলে খবর।   

এই ঝড়ের কারণে আশঙ্কার জেরে উপকূলীয় এলাকায় কড়া নজরদারি চালাচ্ছে প্রশাসন। দিঘা, তাজপুর, মন্দারমনি, বকখালি নানান সমুদ্র সৈকত পর্যটন কেন্দ্রে পর্যটকদের সতর্ক করা হয়েছে। বুধবার দুপুরের মধ্যেই তাদের হোটেল ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। ২৩-২৫ অক্টোবর নতুন করে কোনও হোটেল বুকিংয়ের উপরেও নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। সমুদ্রে স্নানে নিষেধাজ্ঞা জারি রয়েছে। উপকূলের স্থানীয় মানুষদের অন্যত্র সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

কিন্তু প্রশাসনের এমন কড়া নির্দেশিকার পরও যেন হুঁশ ফিরছে না পর্যটকদের একাংশের। সোশ্যাল মিডিয়ায় ট্রেন্ডিং হচ্ছে ‘সাইক্লোন টুরিজম’ অর্থাৎ ঝড় দেখার জন্য উপকূলে বাড়ছে ভিড়। এমন রোমাঞ্চ উপভোগ করতে গিয়ে যে তারা কত বড় বিপদ ডেকে আনছেন, তা নিজেরাও জানেন না। প্রশাসনের চোখ রাঙানি তো নয়ই, ঘূর্ণিঝড়কেও বুড়ো আঙুল দেখাতে প্রস্তুত এরা।

Cyclone Dana, tourists, sea beaches, Digha, administration, awareness, selfie, photos

দিঘা, মন্দারমনি বা তাজপুরের সমুদ্র সৈকতে এখনও বেশ কিছু পর্যটকদের দেখা মিলছে। তারা কেউ সেলফি তলায় মত্ত তো কেউ আবার ঢেউয়ের ছবি তুলতে ব্যস্ত।  বিপদের ঝুঁকি রয়েছে জেনেও তারা থেকে গিয়েছেন। প্রশাসনের বারণ যেন কানেই যাচ্ছে না তাদের। অনেক সময় পুলিশ লাঠিচার্জ করতেও বাধ্য হচ্ছে।

Cyclone Dana, tourists, sea beaches, Digha, administration, awareness, selfie, photos

আরও পড়ুনঃ শুরু ‘দানা’র প্রভাব! সকাল থেকেই বইছে ঝোড়ো হাওয়া, সঙ্গে দোসর বৃষ্টি, কোথায় কেমন বৃষ্টি হবে?

এক পর্যটকের কথায়, “প্ল্যানিং ছিল ফিরে যাওয়ার। ট্রেন বাতিল হয়েছে। আজ সেই জন্য বাসেই চলে যাচ্ছি”। অন্য এক পর্যটক জানালেন, “আজ যেহেতু ঘূর্ণিঝড় আছড়ে পড়বে। সেই কারণ আজ ফিরব। এতদূর থেকে এসেছি। দেখতে পাব না কিছুই। তাই রয়েছি”।

আরও অন্যান্য খবর