প্রবীণদের জন্য বিনামূল্যে স্বাস্থ্যবিমার ঘোষণা নরেন্দ্র মোদীর, কিন্তু বাংলার বয়স্ক ব্যক্তিরা পাবেন না এই সুবিধা, কেন জানেন?

বরাবরই স্বাস্থ্য নিয়ে খুব সচেতন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। সেই কারণে প্রতি বছরই বেশ আড়ম্বরের সঙ্গে যোগ দিবস পালন করা হয় ভারতে। এই বছরও এর অন্যথা হয়নি। হিন্দু দেবতা তথা আয়ুর্বেদ চিকিৎসার জনক ধন্বন্তরির জন্মবার্ষিকীর দিনটি দেশে আয়ুর্বেদ দিবস হিসেবে পালন করা হয়। আজ, মঙ্গলবার আয়ুর্বেদ দিবস। এই দিন উপলক্ষ্যে স্বাস্থ্য সংক্রান্ত নানান প্রকল্প ও পরিষেবার উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী।

এদিন দেশের ৭০ বছর ও এর বেশি বয়স্কদের জন্য আয়ুষ্মান বয়ঃ নামের একটি স্বাস্থ্যবিমার কার্ড চালু করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। এই কার্ডের মাধ্যমে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে চিকিৎসা করাতে পারবেন বয়স্করা। আয়ুষ্মান ভারতের আওতায় রয়েছে এই স্বাস্থ্যবিমা। তবে এই বিমার সুবিধা পাবেন না পশ্চিমবঙ্গের প্রবীণ ব্যক্তিরা। মোদী জানান, রাজনৈতিক কারণে এই সুবিধা পাবেন না দিল্লি ও বাংলার বয়স্ক ব্যক্তিরা।

এদিন দিল্লি ও বাংলার সরকারকে ঠেস দিয়েই প্রধানমন্ত্রী বললেন, “দিল্লি ও পশ্চিমবঙ্গের প্রবীণদের নাগরিকদের কাছে আমি ক্ষমা চাইছি আপনাদের সেবা করতে পারব না। কারণ, দিল্লিতে যে সরকার আছে, আর বাংলার সরকার এই আয়ুষ্মান প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে না। এরা রাজনীতি করছে নিজের রাজ্যেরই অসুস্থ মানুষদের সঙ্গে। এটাকে মানবতা বলে না। এর জন্য আমার কষ্ট হয়। দিল্লি ও বাংলার প্রবীণ নাগরিকরা আমার কথা নিশ্চয়ই শুনছেন”।

শুধু স্বাস্থ্যবিমাই নয়, এদিন ১২ হাজার ৮৫০ কোটি টাকার স্বাস্থ্য উন্নয়ন প্রকল্পেরও ঘোষণা করেন মোদী। এরই সঙ্গে আয়ুষ্মান ভারত স্বাস্থ্য চিকিৎসা প্রকল্পকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার কথাও বলেন। দেশের প্রথম অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অফ আয়ুর্বেদের ফেজ টু-র এর উদ্বোধন করেন এদিন প্রধানমন্ত্রী। জানান, দিল্লির পঞ্চকর্ম হাসপাতালে  তৈরি হবে আয়ুর্বেদ ফার্মেসি। সেখানে শুধুমাত্র আয়ুর্বেদিক ওষুধ তৈরিই নয়, ক্রীড়া ওষুধ নির্মাণ ও একটি গ্রন্থাগারও থাকবে বলে জানান তিনি। এছাড়াও ৫০০ আসন বিশিষ্ট একটি সভাগৃহ তৈরি করা হবে বলে জানালেন প্রধানমন্ত্রী।

আরও পড়ুনঃ ইঞ্জেকশন দিয়ে অচৈতন্য করে লাগাতার ধর্ষণ রোগীকে, মহিলার আপত্তিকর ছবি তুলে মুখ বন্ধ রাখার হুমকি, কাঠগড়ায় চিকিৎসক

এদিন মোদী ১১টি জায়গায় চিকিৎসা পরিষেবায় ড্রোন পরিষেবা চালু করেন। এর ফলে খুব দ্রুত পরিষেবা দেওয়া এবং চিকিৎসাকে আরও মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে। এই ১১টি জায়গা হল-  উত্তরাখণ্ডের হৃষিকেশ, তেলঙ্গানার বিবিনগর, অসমের গুয়াহাটি, মধ্যপ্রদেশের ভোপাল, রাজস্থানের যোধপুর, বিহারের পাটনা, হিমাচল প্রদেশের বিলাসপুর, উত্তরপ্রদেশের রায়বরেলি, ছত্তীসগড়ের রায়পুর, অন্ধ্রপ্রদেশের মঙ্গলাগিরির এইমস এবং মণিপুরের ইম্ফলের আরআইএমএস।

আরও অন্যান্য খবর