দেরি করে হাজিরা বা স্কুল টাইমের মাঝেই স্কুল থেকে বেরিয়ে যাওয়া আর হবে না। এবার স্কুলে শিক্ষক-শিক্ষিকাদের হাজিরায় আসছে কড়াকড়ি। ফাঁকিবাজ শিক্ষক-শিক্ষিকাদের চাপে রাখতেই নতুন অ্যাপ আনছে প্রশাসন। এই অ্যাপের মাধ্যমে বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে শিক্ষক-শিক্ষিকাদের স্কুলে হাজিরা দিতে হবে।
প্রশাসনের তরফে জানানো হচ্ছে, নানান প্রাথমিক স্কুল থেকেই নানান সময় অভিযোগ আসে যে শিক্ষক-শিক্ষিকারা সঠিক সময়ে স্কুলে আসেন না। অনেক শিক্ষক-শিক্ষিকা আবার স্কুল টাইমের মাঝেই বাইরে বেরিয়ে যান বলেও অভিযোগ করা হয়। এর জেরে নানান স্কুলে বিক্ষোভ দেখান পড়ুয়া-অভিভাবকরা। জেলা শিক্ষা দফতরে এমন একাধিক অভিযোগ জমা পড়েছে। সেই কারণেই এই বিশেষ অ্যাপ বলে খবর।
জানা গিয়েছে, এই অ্যাপটি শিক্ষক-শিক্ষিকাদের নিজেদের ফোনে বাধ্যতামূলক ইনস্টল করতেই হবে। স্কুলে পৌঁছে সেই অ্যাপ তজেকে ফিঙ্গারপ্রিন্ট ও ফেসলকের মতো বায়োমেট্রিক সিস্টেমে লগ ইন করে শিক্ষক-শিক্ষিকাদের হাজিরা দিতে হবে। এই অ্যাপের সঙ্গে থাকবে জিপিএস। ফলে শিক্ষক-শিক্ষিকারা কোন সময়ে স্কুলে ঢুকছেন, স্কুল টাইমে বেরিয়ে কোথাও যাচ্ছেন কী না, তা সবটা প্রশাসনের নজরে থাকবে।
জেলা স্কুল পরিদর্শকের কথায়, স্কুলে না আসা, সময়ে স্কুলে না আসা, ক্লাস না নিয়ে অন্য কাজে বা প্রশাসনিক কাজের আমে বাইরে চলে যাওয়া, এমন নানান অভিযোগ রয়েছে শিক্ষক-শিক্ষিকাদের বিরুদ্ধে। সেই কারণেই জেলা প্রশাসনের তরফে এই অ্যাপের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এই অ্যাপ নিয়ে যদিও চাপানউতোর তৈরি হয়েছে রাজনৈতিক মহলে।
শাসক ও বিরোধীরা এই অ্যাপকে সমর্থন করেছেন বটে। তবে বিরোধীদের দাবী, শাসকদলের ছত্রছায়ায় থাকা শিক্ষক-শিক্ষিকারাই স্কুলে না গিয়ে রাজনৈতিক কাজ কিরেম। তাদের জন্য এই অ্যাপ উপযুক্ত। যদিও আবার এই ফাঁকিবাজির অভিযোগ মানতে নারাজ শাসক দল। তাদের কথায়, নানান ক্ষেত্রের মতো শিক্ষাক্ষেত্রেও এই ব্যবস্থা চালু হওয়া দরকার ছিল। আপাতত এই বিশেষ অ্যাপ আনছে উত্তর দিনাজপুর জেলা প্রশাসন।
আরও পড়ুনঃ ভাইফোঁটার মিষ্টির রসে মিশল ভাইয়ের রক্ত, দিদির বাড়ি ফোঁটা নিতে গিয়ে খোয়া গেল তরতাজা প্রাণ, ‘খুন’ যুবক!
বলে রাখি, উত্তর দিনাজপুরে মোট প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যা ১,৪৬৮। মোট শিক্ষকের সংখ্যা প্রায় সাড়ে ৭ হাজার। শাসক নেতারা দাবী করেন, সিংহভাগ ক্ষেত্রেই কোনও স্কুলে শূন্যপদ নেই। কিন্তু বিরোধী নেতৃত্বের আবার দাবী, প্রধান শিক্ষকের জন্য ৮৭৯টি ও সহ-শিক্ষক মিলিয়ে প্রায় ১৫০০টি শূন্যপদ এখনও রয়েছে। এই বিষয় নিয়ে কোনও পদক্ষেপ নেওয়া হয় কী না, সেটাই এখন দেখার!





