করোনার মধ্যে বারবার কেন্দ্র ও রাজ্য নিজেদের মধ্যে সংঘাতে জড়িয়ে পড়ছে। আরও একবার সেই ঘটনারই পুনরাবৃত্তি ঘটল। কলকাতা-সহ বাংলার আরও ৭ জেলার হাল হকিকত জানতে এবার রাজ্যে এসেছে কেন্দ্রের দুই প্রতিনিধি দল। আর তা নিয়েই ক্ষুব্ধ মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রী।
বিশ্বজুড়ে এখন করোনার ভয়াবহতা চলছে। তার হাত থেকে কেউই নিস্তার পাচ্ছে না। এই বিপর্যয় রুখতে সব রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীদের সঙ্গে আলোচনা করেই কেন্দ্রীয় সরকার লকডাউনের সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেছিলেন। প্রথম দফার লকডাউন শেষে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। সেখানে সব রাজ্যের পাশাপাশি উপস্হিত ছিলেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। দুটি বৈঠকের পর তিনি প্রতিশ্রুতি দেন যে, এবার থেকে করোনা মোকাবিলায় কেন্দ্র ও রাজ্য একসাথে কাজ করবে। দুই পক্ষই নিজেদের মধ্যে আলোচনা করেই পরবর্তী পদক্ষেপ নেবে। অর্থাৎ, এই দুঃসময় তারা রাজনৈতিক বিভেদ ভুলে হাতে হাত মিলিয়ে বিপদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াবে।
https://twitter.com/MamataOfficial/status/1252178147392589825?s=20
এদিকে, সোমবার কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের জারি করা নির্দেশিকায় উল্লেখ করেন, পশ্চিমবঙ্গের বেশ কয়েকটি এলাকায় লকডাউনকে মানছে না। সামাজিক দূরত্বের পরোয়া না করেই ব্যাংক, রেশন দোকান এবং বিভিন্ন বাজারে জমায়েত করছেন। প্রাইভেট এবং বাণিজ্যিক কাজে ব্যবহৃত গাড়িতে রীতিমত যাত্রী নিয়ে যাতায়াত চলছে। এইভাবে চললে লকডাউন করার মানে কী? এ নিয়ে প্রশ্ন তোলেন রাজ্য বিজেপি সভাপতি দিলীপ ঘোষ।
করোনা আতঙ্ক নিয়ে ইতিমধ্যেই কলকাতা ছাড়াও রাজ্যের আরও ৬টি জেলা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে কেন্দ্রীয় সরকার। তাই পরিস্থিতি দেখতে সোমবার বিকেলে পণ্যবাহী বিমানে রাজ্যে আসেন প্রতিনিধিরা। তাঁরা কলকাতা সহ স্পর্শকাতর জেলাগুলির অবস্থা দেখবেন। কেন্দ্রের এই সিদ্ধান্তেই মুখ্যমন্ত্রী বেশ রেগে যান।
ট্যুইটারে তিনি এই বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে উল্লেখ করে জানতে চান, কী কারণে এ রাজ্যে তাঁরা প্রতিনিধি দল পাঠানো হয়েছে। ভাইরাসের মোকাবিলায় কেন্দ্রকে যথাযথ সহযোগিতা করছে তাঁর প্রশাসন। তারপরেও কেন্দ্র কেন নিজের প্রতিনিধিদলকে রাজ্যে পাঠালো। এর কারণ স্পষ্ট না করলে আর রাজ্যে সরকার সহযোগিতার পথে হাটবে না। এই পদক্ষেপকে তিনি যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোয় আঘাত বলেও মনে করছেন।
https://twitter.com/MamataOfficial/status/1252178147392589825
যদিও কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রকের যুগ্ম সচিব পুণ্যসলিলা শ্রীবাস্তবের বক্তব্য, ভাবনাচিন্তা করেই এই প্রতিনিধিদল তৈরি হয়েছে।আর কেন্দ্রের এই পদক্ষেপে রাজ্যগুলির সুবিধাই হবে। আগামী ৩ দিনের মধ্যে রাজ্যের সংক্রমনের প্রাথমিক রিপোর্ট দিতে হবে। এই বিপর্যয়ের মধ্যেই কেন্দ্র ও রাজ্যের এই বিবাদ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলল বলে মনে করছেন অনেকে।





