চিকিৎসার গাফিলতির জেরে রোগী মৃত্যুর ঘটনা নতুন কোনও বিষয় নয়। এমন ঘটনার কথা আকছার শোনা যায়। সেই ঘটনা নিয়ে প্রতিবাদ, বিক্ষোভ দেখিয়েও কোনও লাভের লাভ কিছু হয়নি। এবার শুধুমাত্র চিকিৎসার গাফিলতি নয়, রোগীর মৃত্যুর কথা লুকিয়ে রেখে টাকা হাতানোর অভিযোগ উঠল রাজ্যের এক হাসপাতালের বিরুদ্ধে।
ঘটনাটি ঘটেছে হাওড়ার গোলাবাড়ি এলাকায়। জানা গিয়েছে, গত শনিবার রাতে টিকিয়াপাড়া এলাকায় ইস্ট-ওয়েস্ট বাইপাসে ট্রাকের ধাক্কায় জখম হন সুরজ শর্মা নামের এক যুবক। হাওড়ার ব্যাঁটরার বৈরাগীপাড়ার বাসিন্দা তিনি। সেদিন রাতে তাঁকে ভর্তি করা হয় গোলাবাড়ি এলাকার এক বেসরকারি হাসপাতালে।
ওই যুবকের উরুতে আঘাত লেগেছিল গুরুতর। চিকিৎসক পরীক্ষা করে জানান তাঁর অস্ত্রোপচার করতে হবে। এর জন্য অন্তত ৩ লক্ষ টাকা খরচ হবে বলে জানানো হয়। সেই মতোই গত রবিবার অস্ত্রোপচার হয় ওই যুবকের। অস্ত্রোপচারের পর তাঁকে আইসিইউ-তে রাখা হয়েছিল। সোমবার আইসিইউ থেকে জেনারেল বেডেও দেওয়া হয়। কিন্তু মঙ্গলবার আচমকাই হাসপাতালের তরফে রোগীর পরিবারকে ফোন করে জানানো হয় ২ লক্ষ টাকা লাগবে আরও এক অস্ত্রোপচারের জন্য।
সেই অনুযায়ী টাকা জমাও করে রোগীর পরিবার। কিন্তু টাকা জমা দেওয়ার ১০ মিনিট পরই হাসপাতালের তরফে জানানো হয় রোগীর মৃত্যু হয়েছে। এরপরই ক্ষোভে ফেটে পড়েন রোগীর আত্মীয়, পরিবার। তাদের দাবী, মঙ্গলবার ভোরেই মৃত্যু হয়েছে সুরজের। কিন্তু প্রথমে তা জানানো হয়নি পরিবারকে। ২ লক্ষ টাকা জমা নেওয়ার পর রোগীর মৃত্যুর খবর দেওয়া হয় বলে অভিযোগ।
এই ঘটনায় হাসপাতালে বিক্ষোভ দেখান রোগীর পরিবারের লোকজন। তাতে সামিল হন স্থানীয়দের একাংশও। চিৎকার-চেঁচামেচি হতে থাকে। উত্তেজনার খবর অএয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় হাওড়া সিটি থানার পুলিশ। বিক্ষোভকারীদের হাসপাতাল থেকে বের করে দেওয়া হয়। ডিসি নর্থ বিশপ সরকার এই ঘটনা প্রসঙ্গে বলেন, “হাসপাতালে বিশৃঙ্খলা করছিলেন রোগীর পরিবারের কেউ কেউ। পুলিশ তাঁদের সরিয়ে দিয়েছে। গোলমাল বাধানোর জন্য তিন জনকে আটক করা হয়েছে। তাঁদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে”।
রোগীর পরিবারের অভিযোগ, মৃত সুরজের ছোটো ভাইকে চার ঘণ্টা থানায় আটকে রাখে পুলিশ। এদিকে হাসপাতালের তরফে দাবী, রোগীর পায়ে একবার অস্ত্রোপচারের পর তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়। সেই কারণে মঙ্গলবার ফের চিকিৎসকরা অস্ত্রোপচারের সিদ্ধান্ত নেন। সেই কারণে টাকা চেয়ে ডেকে পাঠানো হয়েছিল রোগীর পরিবারকে। রোগীর কখন মৃত্যু হয়েছে, সেই বিষয়ে কিছু স্পষ্ট করে জানানো হয়নি হাসপাতালের তরফে।






