ভারত সংস্কৃতি এবং ঐতিহ্যের দেশ। কিন্তু এবার এই দেশেরই এক সাংসদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠল ভিনদেশি এক মহিলাকে অসম্মান করার। তিনি তাঁকে শুধু অসম্মানই করেননি সাথে কটুক্তিও করেছেন। বেঙ্গালুরু বিজেপি সাংসদ তেজস্বী সূর্যকে হুঁশিয়ারি দিয়ে দিলেন সংযুক্ত আরব আমিরশাহীর এক রাজকন্যা।
সোমবার ভারতের সবচেয়ে কমবয়সী বিজেপি সাংসদের কটূক্তির তীব্র নিন্দা করে টুইট করেন শারজা রাজ পরিবারের সদস্যা হেন্ড আল কাসেমি। তিনি তার টুইটে লেখেন, ‘আমি ভারতে গান্ধীর দেশ হিসেবে জানি। এই দেশ সারা বিশ্বের সামনে নিজের মাটিকে ভালোবেসে আত্মত্যাগের এক নজির স্থাপন করেছে। এখন গোটা বিশ্ব করোনা নামক মহামারীর বিরুদ্ধে লড়াই করছে। এই সময় অন্যদেশের প্রতি ঘৃণা ছড়ানো বন্ধ রাখা উচিত।’
@PMOIndia Respected Prime minister @narendramodi India’s relation with the Arab world has been that of mutual respect. Do you allow your parliamentarian to publicly humiliate our women? We expect your urgent punitive action against @Tejasvi_Surya for his disgraceful comment. pic.twitter.com/emymJrc5aU
— المحامي⚖مجبل الشريكة (@MJALSHRIKA) April 19, 2020
কয়েকদিন আগে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি টুইট করেছিলেন, ‘কোভিড-১৯ মানুষের ধর্ম, বর্ণ, সম্প্রদায়, জাতি, ভাষা বা সীমান্ত দেখে না।’ এরপরই বেঙ্গালুরু দক্ষিণের বিজেপি সাংসদ তেজস্বী সূর্যের পাঁচ বছর আগে করা একটি টুইটের স্কিনশট সোশ্যাল মিডিয়াতে বিদ্যুৎ বেগে ছড়িয়ে পড়তে শুরু করে। সেই টুইটে ২০১৫ সালের ২৩ মার্চ সূর্য লিখেছিলেন, আরবের ৯৫ শতাংশ মহিলাই শেষ কয়েকশো বছরে অর্গাজম কী তা বিস্মৃত হয়েছে! সেখানে মা সন্তানের জন্ম দেন শুধু যৌনতার অংশ হিসেবে। তাতে কোনো ভালবাসা থাকে না। এই টুইটের সঙ্গে তিনি ট্যাগ করেন সাংবাদিক তারেক ফতেহকে। এই টুইটে তিনি আরবের মহিলাদের শুধু অসম্মানই করেন নি উপরন্তু তাদের কদর্য ইঙ্গিতও দিয়েছেন।
পাঁচ বছরের পুরানো ঘটনা সম্প্রতি ফের সামনে আসায় তেজস্বী সূর্যকে সাংসদের পদ থেকে বহিষ্কার করার দাবি উঠেছে। তাঁকে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে হবে বলেও মন্তব্য করেন অনেকে। যদিও বিষয়টি নিয়ে বিতর্ক শুরু হওয়ার পরেই ওই টুইটটি ডিলিট করে দেন তেজস্বী। কিন্তু তাতে বিতর্ক একটুও থামেনি। এরপর ওই বিজেপি সাংসদের টুইটার অ্যাকাউন্টটি ডিলিট করার দাবি জানিয়ে টুইটার কর্তৃপক্ষকে টুইটও করেন অনেকেই। এবার সরাসরি সাংসদকে হুঁশিয়ারি দিলেন সংযুক্ত আরব আমিরশাহীর রাজ্যকন্যা। এই কদর্য উক্তি শুধু আরবীয় মহিলাদেরই নয় উপরন্ত সমস্ত মহিলাদেরই অপমান করে। ভারত তার পরম্পরাকে বয়ে নিয়ে এগিয়ে চলে। কিন্তু এইরূপ কদর্য ভাষা ভারতের কোন সংস্কারকে বিশ্বের সামনে তুলে ধরছে!






