বাংলাদেশে থামছে না হিংসা! ফের ঢাকার এক ইসকন সেন্টারে আগুন লাগাল দুষ্কৃতীরা, পুড়ে গেল লক্ষ্মীনারায়ণের মূর্তি

গত কয়েকমাস ধরেই বাংলাদেশে কার্যত আগুন জ্বলছে। কোনওভাবেই যেন হিংসা থামছে না। সংখ্যালঘু হিন্দুদের উপর অত্যাচার, হিন্দু মন্দিরে হামলার ঘটনা বেড়েই চলেছে। এই নিয়ে ভারত-সহ নানান দেশের তরফে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী ইউনুস সরকারকে কড়া বার্তা দেওয়া হলেও সেদেশের সরকার এই বিষয়ে উদাসীন। এবার ফের ঢাকার এক ইসকন সেন্টারে আগুন লাগানো হল।

বাংলাদেশে বিদ্বেষ মেটার নয়। হিন্দুদের উপর নির্যাতন, মন্দিরে হামলা-ভাঙচুর, ইসকনের সন্ন্যাসী চিন্ময় কৃষ্ণ প্রভুকে গ্রেফতারি, ইসকনকে নিষিদ্ধের দাবী, এমন নানান ঘটনায় উত্তাল বাংলাদেশ। এমন ঘটনার আঁচ পড়েছে এপার বাংলাতেও। এই রাজ্য তো বটেই, দিল্লি, ত্রিপুরার মতো নানান জায়গায় সাধারণ মানুষ ও হিন্দু সংগঠন এই ঘটনার বিরুদ্ধে আন্দোলন শুরু করেছেন। এসবের মধ্যেই ফের এল বাংলাদেশের এক ইসকন সেন্টারে আগুন লাগানোর খবর।    

আজ, শনিবার সকালে কলকাতার ইসকনের ভাইস প্রেসিডেন্ট রাধারমণ দাস সোশ্যাল মিডিয়ায় জানান, “বাংলাদেশে আরও এক ইসকনের নামহাট্টা সেন্টার পুড়ে গিয়েছে। ঢাকায় অবস্থিত শ্রী শ্রী লক্ষ্মীনারায়ণের মন্দিরের ভিতরের সমস্ত জিনিসপত্রও সম্পূর্ণরূপে পুড়ে গিয়েছে। আজ ভোর ৩টের মধ্যে, দুষ্কৃতীরা শ্রী শ্রী রাধাকৃষ্ণ মন্দির এবং শ্রী শ্রী মহাভাগ্য লক্ষ্মীনারায়ণ মন্দিরে আগুন লাগিয়ে দেয়। যা ধৌর গ্রামে অবস্থিত হরে কৃষ্ণ নামহট্ট সংঘের অধীনে পড়ে। মন্দিরের পিছনের টিনের ছাদ ভেঙে পেট্রোল বা অকটেন ব্যবহার করে আগুন লাগানো হয়”।

গতকাল, বৃহস্পতিবার ঢাকার ধর্মীয় নেতারা দেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ইউনুসের সঙ্গে ফরেন সার্ভিস অ্যাকাডেমিতে বৈঠক করেন। এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন আস সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান শায়খ আহমাদুল্লাহ, রমনার সেন্ট মেরি’স ক্যাথেড্রালের ফাদার আলবার্ট রোজারিও, বাংলাদেশ বুদ্ধিস্ট ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক ভিক্ষু সুনন্দ প্রিয়, রমনা হরিচাঁদ মন্দিরের সহ-সম্পাদক অবিনাশ মিত্র, গারো পুরোহিত জনসন ম্যুরি থামাল। ঢাকায় আন্তর্জাতিক ধর্মীয় সম্প্রীতি সম্মেলনের প্রস্তাব দেন তারা।

আরও পড়ুনঃ ‘কামদুনির মতোই জয়নগরের দোষীও হাইকোর্টে মুক্তি পেয়ে যাবে না তো’, জয়নগর কাণ্ডে ফাঁসির সাজার পরও আশঙ্কা শুভেন্দুর 

এদিন আলোচনা শেষে সমস্ত অভিযোগ উড়িয়ে শায়খ আহমাদুল্লাহ দাবি করেন, “আমাদের দেশের সংখ্যালঘু ভাইয়েরা নিরাপদে আছেন এবং আরও নিরাপদ থাকবেন। তাঁদের নিরাপদ রাখার জন্য সরকার যেমন কাজ করছে, ধর্মীয় নেতৃত্বও কাজ করছেন”। তবে এই ধর্মীয় সম্প্রীতি সম্মেলনের প্রস্তাব জানানোর পরই ফের ইসকন সেন্টারে আগুন লাগানোর খবর মিলল।

RELATED Articles