জন্ম থেকেই চলছে তাঁর কঠিন লড়াই। হাত-পা কোনওটাই সক্রিয় নয়। নিজের কাজ নিজের করতে পারেন না। চলাফেরা তো দূর অস্ত, কেউ হাত ধরে বসিয়ে না দিলে একা একা বসতেও পারেন না। চিকিৎসা করানো হয়েছে, কিন্তু তাঁর শরীর চিকিৎসায় সাড়া দেয়নি। কিন্তু তাতে কী! মনে যে রয়েছে এক অদম্য শক্তি। সেই মনের শক্তি ও সাহস নিয়েই অসাধ্যকে সাধন করার পথে তুহিন দে।
খড়গপুরের বাসিন্দা এই তুহিন দে। ২০১৭ সালে খড়গপুরের আইআইটি ক্যাম্পাসে কেন্দ্রীয় বিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক পাশ করেন তুহিন। এরপর রাজস্থানের কোটা থেকে উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা দেন। এরপর শিবপুর থেকে কম্পিউটার সায়েন্স নিয়ে বি টেক করেন তুহিন। হাতে লিখতে পারেন না। কিন্তু তা সত্ত্বেও পরীক্ষার সময় কোনও লেখকের সাহায্যও নেন না।
নিজের মুখটাই আসল অস্ত্র তুহিনের। মুখে পেন বা পেনসিল ধরেই অনায়াসেই গড়গড় করে সব লিখে ফেলতে পারেন তিনি। পাতা উল্টাতে শুধু সাহায্য নিতে হয় শিক্ষকদের। তাঁর হাত-পা সক্রিয় না হলে কী হবে, বুদ্ধিমত্তায় কিন্তু তুহিন অনেকের থেকেই অনেকটা এগিয়ে। কলেজ ক্যাম্পাসিংয়ে আমেরিকার ব্যাঙ্ক থেকে আসা ৫০ লক্ষ প্যাকেজের (মাসে প্রায় ৪ লক্ষেরও বেশি) চাকরি হেলায় ফিরিয়েছেন তিনি।
চাকরি নয়, তুহিনের লক্ষ্য আরও বড়। নিজের স্বপ্নজয়ের পথে প্রতিদিন একটু একটু করে এগিয়ে যাচ্ছেন তিনি। আগামী বছর ফেব্রুয়ারিতে এম টেক-এর প্রবেশিকা পরীক্ষা রয়েছে তুহিনের। সেই প্রস্তুতিই এখন চলছে পুরোদমে। স্পেসশিপ নিয়ে রিসার্চ করতে চান তুহিন। সেই কারণেই ৫০ লাখি চাকরি পেয়েও তা গ্রহণ করেন নি। ইতিমধ্যেই নিজের পড়াশোনা ও কাজের জন্য একাধিক পুরস্কার পেয়েছেন তুহিন। রাষ্ট্রপতি, রাজ্যপালের থেকেও পেয়েছেন পুরস্কার।
তুহিন জানান, “আমি মুখ দিয়েই সাধারণ পেন বা পেন্সিল দিয়ে লিখি। সমস্যা হয় না। পরীক্ষার সময় অতিরিক্ত সময়ও নিই না। মুখ দিয়ে ছবি আঁকতে বা কম্পিউটার চালাতেও অসুবিধে হয় না”। তুহিনের মা জানান, ছেলেকে নিত্য কাজ করে দিতে হয়। খাবারটাও খাইয়ে দিতে হয়। লেখাপড়ায় তবে স্বাবলম্বী সে। শুধু খাতা বা বইয়ের পাতা উল্টে দিলেই লিখতে পারেন তিনি। এভাবেই তুহিন এগিয়ে যান নিজের লক্ষ্যপূরণের দিকে, এটাই চান তাঁর মা।






