নাবালিকা মেয়েকে দীর্ঘদিন ধরে ধর্ষণ করেছিলেন। এবার আদালত উপযুক্ত শাস্তি দিল অভিযুক্ত বাবাকে। প্রথমে কাউকে কিছু বলতে না পারলেও পরে সাহস করে মুখ খোলে নির্যাতিতা। এর ফলে ধরা পড়ে দোষী।
ঘটনাটি ঘটেছিল নিউটাউন এলাকায়। জানা গিয়েছে, নির্যাতিতার মায়ের মৃত্যু হয় ২০২১ সালে। এরপর থেকে তেরো বছরের ওই নাবালিকা তার সৎ বাবার কাছেই থাকছিল। মায়ের মৃত্যুর কয়েকমাস পর থেকেই অসহায়তার সুযোগ নিয়ে প্রায় তিনমাস ধরে সৎ মেয়েকে ধর্ষণ করেছিল সৎ বাবা টুনটুনি সর্দার। একেই মা নেই, তার উপর ভয়ে আর লজ্জায় একথা কাউকে জানাতেই পারেনি ওই নাবালিকা।
তবে দিনের পর দিন নির্যাতন আরও বাড়তে থাকে।। শেষে সাহস জুটিয়ে ২০২১ সালে স্থানীয় ক্লাবে গিয়ে সৎ বাবার কুকীর্তির কথা জানায় ওই নাবালিকা। প্রতিবেশী মহিলাদের সঙ্গে ওই নাবালিকার কথা বলানোর ব্যবস্থা করেন ক্লাবের সদস্যরা। এরপর গোটা বিষয়টি জানানো হয় নিউটাউন থানায়।
অভিযোগ জানানো পরদিন অভিযুক্ত টুনটুনি সর্দারকে গ্রেফতার করে পুলিশ। ধৃতের বিরুদ্ধে পকসো ধারায় মামলা রুজু করা হয়। বারাসাত আদালতে প্রায় তিন বছর ধরে চলছিল এই মামলা। গতকাল, মঙ্গলবার অভিযুক্তকে দোষী সাব্যস্ত করে আদালত। এরপর আজ, বুধবার সাজা ঘোষণা করলেন বিচারক। জানা গিয়েছে, দোষীকে আমৃত্যু সশ্রম কারাদণ্ডের নির্দেশ দিয়েছে আদালত।
এই মামলার সরকারি আইনজীবী গৌতম সরকার বলেন, “১৪জন সাক্ষী ও প্রমাণের ভিত্তিতে বিচার প্রক্রিয়ার শেষে দোষীকে আমৃত্যু সশ্রম কারাদণ্ড-সহ ৫০হাজার টাকা জরিমানার নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক। এছাড়াও সরকারি নিয়ম অনুযায়ী, দোষীকে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। ৫০হাজার টাকা-সহ সরকারি নিয়মানুযায়ী আর্থিক সাহায্য় নির্যাতিতা পাবে”।





