বড়দিনের আনন্দঘন উৎসবের মরশুমে পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। হাজার হাজার মানুষ হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন ফ্লু-তে আক্রান্ত হয়ে। সরকারি রিপোর্ট অনুযায়ী, প্রায় ২ হাজার হাসপাতালের বেড এখন সম্পূর্ণ ভরতি। একটিও খালি নেই। এই ঘটনার জেরে প্রবল চাপে পড়েছে ইংল্যান্ডের জাতীয় স্বাস্থ্য পরিষেবা (NHS)। চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা প্রাণপণে কাজ চালিয়ে গেলেও পরিস্থিতি সামাল দিতে বেগ পেতে হচ্ছে। উৎসবের মৌসুমে ক্রমবর্ধমান সংক্রমণের ফলে দেশজুড়ে ফেস্টিভ ফ্লু নিয়ে চিন্তা বাড়ছে।
এক সপ্তাহের মধ্যেই ফ্লু আক্রান্তের সংখ্যা লাফিয়ে বেড়েছে ৭০ শতাংশ। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, শীতকালীন একগুচ্ছ ভাইরাস এই পরিস্থিতিকে আরও ভয়াবহ করে তুলছে। বড়দিনের ছুটির সময়ে জমায়েত, পার্টি, হইহুল্লোড়ের পাশাপাশি ঠান্ডা আবহাওয়া এই ফ্লু-র দ্রুত সংক্রমণের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কোভিড-১৯, আরএসভি এবং নোরোভাইরাসও পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে। বিশেষজ্ঞরা এটিকে “কোয়াড-ডেমিক” হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। এনএইচএস ইংল্যান্ডের অধ্যাপক স্যার স্টিফেন পোভিসের মতে, একসঙ্গে চারটি ভাইরাসের প্রভাবেই এই সংকট তৈরি হয়েছে।
চিকিৎসকরা সতর্ক করেছেন, ফেস্টিভ ফ্লু-র কোনও বিশেষ উপসর্গ নেই। সাধারণ ফ্লু-এর মতোই ঠান্ডা লাগা, জ্বর, গলা ব্যথা, সর্দি এবং শ্বাসকষ্ট দেখা দিচ্ছে। তবে দ্রুত চিকিৎসা না করালে পরিস্থিতি জটিল আকার ধারণ করতে পারে। হাসপাতালে রোগী ভর্তির সংখ্যা বেড়েই চলেছে। চিকিৎসকরা একদিকে সংক্রমিতদের চিকিৎসায় ব্যস্ত, অন্যদিকে ভাইরাস যাতে আরও ছড়িয়ে না পড়ে তার জন্য প্রয়োজনীয় সতর্কতাও অবলম্বন করছেন। হাসপাতালগুলিতে রোগীদের চাপে শয্যা পাওয়া দুষ্কর হয়ে পড়ছে।
এই ফেস্টিভ ফ্লু মূলত ঋতুগত ফ্লু, যা শীতকালেই বেশি ছড়ায়। বড়দিনের ছুটির মরশুমে মানুষের ঘনিষ্ঠ জমায়েত, পার্টি এবং সামাজিক উৎসব এই ফ্লু ছড়ানোর অন্যতম কারণ। বিশেষত ঠান্ডা আবহাওয়ায় ভাইরাসের সংক্রমণ দ্রুত বাড়ে। ইংল্যান্ডের চিকিৎসকরা এখন মানুষকে সতর্ক থাকতে বলেছেন। যাদের শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম, তাদের এই সময় আরও বেশি সাবধানে থাকতে হবে বলে পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
আরও পড়ুন: রণক্ষেত্র আসানসোল! পশ্চিমবঙ্গে কেন বাংলা ভাষায় ঘোষণা নয়? অবাঙালি যুবকদের হাতে রক্তাক্ত বাঙালি ব্যবসায়ী
ফেস্টিভ ফ্লু মোকাবিলায় জাতীয় স্বাস্থ্য পরিষেবা (NHS) পরিস্থিতি সামাল দিতে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করছে। আক্রান্তদের দ্রুত চিকিৎসা এবং প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। মানুষকে জমায়েত এড়িয়ে চলতে এবং ঠান্ডা আবহাওয়ায় যথাযথ সতর্কতা মেনে চলার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। তবে এই সংকট কাটিয়ে ওঠা আদৌ সম্ভব হবে কিনা, তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। উৎসবের আনন্দের মাঝেও ফেস্টিভ ফ্লু-র আতঙ্ক গোটা ইংল্যান্ডকে উদ্বিগ্ন করে তুলেছে।





