বছরের শুরুতে শীতের ঠান্ডা ছোঁয়ায় যেমন স্বস্তি মেলে, তেমনই অনেকের কাছে শীত মানে আনন্দের দিন। তবে এবার মাঘের মধ্যভাগ পেরিয়ে গেলেও শীত যেন তার স্বাভাবিক ছন্দে নেই। একদিকে শীত কমে এসেছে, অন্যদিকে পশ্চিমী ঝঞ্ঝার প্রভাবে বৃষ্টি এবং তাপমাত্রার পরিবর্তন ঘটছে। দক্ষিণবঙ্গ থেকে উত্তরবঙ্গ, সর্বত্রই আবহাওয়া যেন নতুন করে তার রং বদলাচ্ছে। আবহাওয়া দফতর জানাচ্ছে, আগামী কয়েক দিনে আরও বেশ কিছু পরিবর্তনের সম্ভাবনা রয়েছে।
আলিপুর আবহাওয়া দফতরের মতে, আজ দার্জিলিং, কালিম্পং এবং জলপাইগুড়িতে হালকা বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এর সঙ্গে পাহাড়ি এলাকায় তুষারপাতের পূর্বাভাসও রয়েছে। এটি মূলত দুইটি সক্রিয় পশ্চিমী ঝঞ্ঝার কারণে ঘটছে। প্রথম ঝঞ্ঝাটি ইতিমধ্যে পশ্চিম হিমালয়কে প্রভাবিত করতে শুরু করেছে এবং ২৯ জানুয়ারি থেকে সক্রিয় হয়েছে। দ্বিতীয় ঝঞ্ঝাটি ১ ফেব্রুয়ারি থেকে প্রভাব ফেলবে। ফলে উত্তরবঙ্গে বৃষ্টি এবং তুষারপাতের সম্ভাবনা বাড়ছে।
গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গে শীতের প্রভাব ক্রমশ কমছে। আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, আগামী চার দিন রাতের তাপমাত্রা ৩-৪ ডিগ্রি বাড়তে পারে। এছাড়া আপাতত বড় কোনও তাপমাত্রার পরিবর্তনের সম্ভাবনা নেই। তবে দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলি শুষ্ক থাকবে বলে জানানো হয়েছে। ২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দক্ষিণবঙ্গে কোনও বৃষ্টির সম্ভাবনা নেই। তবে কুয়াশার দাপট থাকবে, বিশেষত কলকাতা, হাওড়া, হুগলি, পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুরে।
আজ, বুধবার কলকাতার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা থাকবে ১৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং সর্বোচ্চ তাপমাত্রা থাকবে ২৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। দক্ষিণবঙ্গের অন্যান্য জেলাগুলিতেও কুয়াশার প্রভাব স্পষ্ট। আগামী কয়েক দিনে তাপমাত্রা কিছুটা বাড়লেও ২-৩ দিনের মধ্যে সামান্য কমার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে জাঁকিয়ে শীতের প্রত্যাবর্তনের আশা আপাতত নেই।
আরও পড়ুনঃ ২৬ ফেব্রুয়ারির মহাশিবরাত্রি, তিনটি রাশির জীবনে আসছে সুখের ঝরনা!
বছরের এই সময়টাতে যেখানে ঠান্ডা এবং শীতের জাঁকজমক আশা করা হয়, সেখানে আবহাওয়ার এই পরিবর্তন কিছুটা অস্বাভাবিক। বিশেষজ্ঞদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তন এবং পশ্চিমী ঝঞ্ঝার প্রভাবে এই বছর শীতের চেহারায় এমন পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। আগামী দিনগুলোতে আবহাওয়ার আরও কোন রং বদলায়, সেটাই এখন দেখার বিষয়।





