দেশজুড়ে আলোড়ন ফেলা তিলোত্তমা হত্যাকাণ্ড এখনও বিচার প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে। এক তরুণ চিকিৎসকের নৃশংস মৃত্যুর পর এই ঘটনা শুধুমাত্র বাংলায় নয়, গোটা দেশে আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে। ন্যায়বিচার চেয়ে পথে নেমেছেন সাধারণ মানুষ থেকে চিকিৎসক মহল। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্যের রাজনীতি এবং প্রশাসনও তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছে। ন্যায়বিচারের দাবি কতটা পূর্ণ হবে, তা নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে। তবে এই বিচার প্রক্রিয়া ঘিরে সম্প্রতি বেশ কিছু নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
ঘটনার মূল অভিযুক্ত সঞ্জয় রাইয়ের ফাঁসি চান না তিলোত্তমার বাবা-মা। কলকাতা হাইকোর্টে তাঁরা সেই মত প্রকাশ করেছেন। তাঁদের এই বক্তব্যের পরেই শাসকদলের বিভিন্ন নেতা এবং মন্ত্রীরা তাঁদের তীব্র আক্রমণ করেছেন। কুণাল ঘোষ, ফিরহাদ হাকিম, কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়দের পাশাপাশি এবার কামারহাটি তৃণমূল বিধায়ক মদন মিত্রও এই বিতর্কে অংশ নেন। তিনি বলেন, “মেয়ের ক্ষতিপূরণে টাকা চাইলে সেটা পরিষ্কার করে বলুন। আমরা হাজার-হাজার কোটি টাকা দিতে পারি।” মদনের এই মন্তব্যকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে নতুন বিতর্ক।
মদন মিত্রের মন্তব্যের জবাব দিতে গিয়ে তিলোত্তমার বাবা কড়া ভাষায় প্রতিক্রিয়া জানান। তিনি বলেন, “আমি ওঁকে টাকা দেব, আমার মেয়েকে ফেরত দিন।” তাঁর বক্তব্য, প্রথম দিন থেকেই এই ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা চলছে। তিনি আরও যোগ করেন, “ডিসি নর্থ নিজে টাকা দিতে এসেছিলেন। আজও প্রকাশ্যে সেই টাকা নিয়ে কথা বলা হচ্ছে। আমি যত টাকা দিয়ে কিনতে চাইছেন, তার থেকে বেশি দেব। কিন্তু আমার মেয়েকে ফেরত দিতে পারবেন?”
এর আগেও তিলোত্তমার বাবা-মা স্পষ্ট জানিয়েছেন, তাঁরা কোনও ক্ষতিপূরণ চান না। এমনকি, শিয়ালদহ কোর্টের বিচারক ক্ষতিপূরণের নির্দেশ দিলেও তাঁরা তা প্রত্যাখ্যান করেছেন। রাজ্য সরকারের তরফ থেকে ক্ষতিপূরণের প্রস্তাব এলেও তাঁরা তা ফিরিয়ে দেন। তবে মদন মিত্রের এমন মন্তব্য পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত করেছে। তৃণমূল নেতার এই বক্তব্যকে কেন্দ্র করে সোশ্যাল মিডিয়ায় ক্ষোভের ঝড় উঠেছে।
আরও পড়ুনঃ ফের বৃষ্টি উত্তরবঙ্গে, দক্ষিণবঙ্গে তাপমাত্রা বৃদ্ধির ইঙ্গিত!
তিলোত্তমা হত্যাকাণ্ড ঘিরে বিচার প্রক্রিয়ায় রাজনীতির প্রবেশ নিয়ে ইতিমধ্যেই নানা প্রশ্ন উঠছে। ন্যায়বিচার চেয়ে তিলোত্তমার পরিবারের অবস্থান এবং রাজনীতিকদের মন্তব্যের মধ্যে যে সংঘাত, তা পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলছে। বিচার প্রক্রিয়ার শেষ অধ্যায় কীভাবে এগোবে এবং তিলোত্তমার পরিবার আদৌ কি তাঁদের প্রত্যাশা পূরণ করতে পারবে, সেই দিকেই তাকিয়ে আছে সকলে।





