বর্তমান বিশ্বে রোগ প্রতিরোধে সচেতনতা যতই বাড়ছে, ততই নতুন রোগ ও তাদের জটিলতা মানুষের জীবনকে বিপর্যস্ত করে তুলছে। হৃদরোগ, ডায়াবেটিস, ক্যানসারের মতো রোগ নিয়ে গবেষণা হলেও এর প্রকোপ কমার বদলে ক্রমশ বাড়ছে। বিশেষত, পরিবেশ দূষণ ও আধুনিক জীবনযাত্রার প্রভাবে অনেক নতুন অসুখ মানুষের শরীরে থাবা বসাচ্ছে। এই তালিকায় ফুসফুসের ক্যানসার এখন উদ্বেগজনক জায়গায় পৌঁছেছে। যাঁরা ধূমপান করেন না বা তামাকজাত পণ্য ব্যবহার করেন না, তাঁদের মধ্যেও এই রোগের বাড়বাড়ন্ত এক নতুন বিপদের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
গতকাল অর্থাৎ ৪ ফেব্রুয়ারি বিশ্ব ক্যানসার দিবসে, ‘দ্য ল্যানসেট রেসপিরেটরি মেডিসিন’ জার্নালে প্রকাশিত এক গবেষণায় উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) এবং ইন্টারন্যাশনাল এজেন্সি ফর রিসার্চ অন ক্যানসার (IARC)-এর ডেটাসেট বিশ্লেষণ করে গবেষকরা জানিয়েছেন, ফুসফুসের ক্যানসারের ঘটনা ধূমপায়ীদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। বরং যাঁরা কখনও সিগারেট বা বিড়ি ছুঁয়ে পর্যন্ত দেখেননি, তাঁদের মধ্যেও এই রোগের প্রভাব দেখা যাচ্ছে।
বিশেষত, অ্যাডেনোকার্সিনোমা নামে এক বিশেষ ধরনের ক্যানসার, যা তরল উৎপাদনকারী গ্রন্থি থেকে শুরু হয়, তা দ্রুত বাড়ছে। গবেষণায় দেখা গিয়েছে, ২০২২ সালে বিশ্বজুড়ে ধূমপান না করাদের ফুসফুসের ক্যানসারের ৫৩-৭০ শতাংশ ক্ষেত্রে এই অ্যাডেনোকার্সিনোমা দায়ী।
গবেষকরা দাবি করেছেন, ধূমপান না করেও এই ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ার নেপথ্যে প্রধান কারণ বায়ুদূষণ। পরিসংখ্যান বলছে, ২০১৯ সালের হিসেব অনুযায়ী, বিশ্বের অধিকাংশ মানুষ এমন পরিবেশে বাস করেন যেখানে বাতাসের মান WHO-র বেঁধে দেওয়া মানদণ্ড পূরণ করে না। দূষিত বাতাসের সঙ্গে বিষাক্ত কণা শরীরে প্রবেশ করে ফুসফুসের কোষকে নষ্ট করছে। ফলে, দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব হিসেবে ক্যানসারের মতো প্রাণঘাতী রোগ বাড়ছে।
ফুসফুসের ক্যানসারের বিভিন্ন উপ-প্রকারের মধ্যে অ্যাডেনোকার্সিনোমার ঝুঁকি ধূমপানের সঙ্গে তেমনভাবে সম্পর্কিত নয়। গবেষণায় উঠে এসেছে, ধূমপায়ীদের তুলনায় ধূমপান না করা ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে অ্যাডেনোকার্সিনোমা হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। ধূমপানের হার অনেক দেশে কমলেও, পরিবেশগত কারণগুলোর ফলে ধূমপান না করা ব্যক্তিদের মধ্যেই ফুসফুসের ক্যানসারের হার বেড়ে চলেছে।
আরও পড়ুনঃ বেঙ্গল সামিটের মাঝে কলকাতা বিমানবন্দরে আগুন! কীভাবে ঘটল এই বিপদ?
বিশেষজ্ঞদের মতে, বায়ুদূষণ কমানো ছাড়া এই সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। পাশাপাশি, নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা, দূষণের প্রভাব থেকে নিজেকে রক্ষা করা এবং সচেতন জীবনযাত্রার মাধ্যমে ঝুঁকি এড়ানোর পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসকরা। বিশ্ব ক্যানসার দিবসে এই গবেষণার ফলাফল ফুসফুসের ক্যানসার সম্পর্কে নতুন করে ভাবার সুযোগ এনে দিল।





