দোল উৎসব এলেই প্রকৃতি সাজে নানা রঙে। গাছে গাছে নতুন পাতার মেলা, আর তারই সঙ্গে রঙের খেলায় মেতে ওঠে মানুষ। হিন্দু ধর্মের অন্যতম জনপ্রিয় উৎসব হোলি বা দোলযাত্রা, যা প্রকৃতির নবজাগরণ ও ভালবাসার উৎসব হিসেবেও পরিচিত। এই দিনে জাতি-ধর্ম নির্বিশেষে মানুষ একসঙ্গে রঙ খেলায় মেতে ওঠে। ইতিহাস ঘেঁটে দেখা যায়, দোলযাত্রার সঙ্গে কৃষ্ণভক্তির এক নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে। বৃন্দাবনের রাসলীলা থেকে বাংলার দোলযাত্রা— সর্বত্রই রঙের উচ্ছ্বাসেই ফুটে ওঠে সম্প্রীতির বার্তা।
সংস্কৃতির এক অনন্য রূপ শুধু ভারতেই নয়, সারা বিশ্ব জুড়ে হোলির প্রভাব পড়েছে। আজকাল বিভিন্ন দেশেও রঙের উৎসব উদযাপন করতে দেখা যায়। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে হোলি পালনের ধরনেও এসেছে পরিবর্তন। পুরনো দিনের আবির আর গুলালের জায়গায় এসেছে নানা রকম নতুন রঙ, ডিজে মিউজিক, বলিউডের জনপ্রিয় গান এবং জলকেলি। কিন্তু সময় যত এগোচ্ছে, ততই এই উৎসবকে কেন্দ্র করে নানা বিতর্কও দানা বাঁধছে। সম্প্রতি তেমনই এক বিতর্কে জড়িয়ে পড়েছেন বলিউডের জনপ্রিয় পরিচালক-কোরিওগ্রাফার ফারহা খান।
সম্প্রতি এক জনপ্রিয় রিয়্যালিটি শো ‘সেলিব্রিটি মাস্টার শেফ’-এর একটি এপিসোডে হোলি নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করেন ফারহা খান। তিনি নাকি বলেন, ‘এটা ছাপরিদের অনুষ্ঠান।’ এই মন্তব্য ঘিরে শুরু হয়েছে প্রবল বিতর্ক। সামাজিক মাধ্যমে একাংশের মতে, ফারহার এই মন্তব্য হোলির মতো এক সর্বজনীন উৎসবকে খাটো করে দেখানোর চেষ্টা। অনেকেই মনে করছেন, জাতি-বর্ণ নির্বিশেষে উদযাপিত এই উৎসব নিয়ে এমন মন্তব্য মোটেই গ্রহণযোগ্য নয়।
আইনি জটিলতা ঘিরে বিতর্ক আরও তীব্র এই মন্তব্যের জেরে ইতিমধ্যেই আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। মিডিয়া রিপোর্ট অনুযায়ী, বিকাশ পাঠক ওরফে ‘হিন্দুস্তানি ভাউ’ তাঁর আইনজীবী কাসিফ খান দেশমুখের মাধ্যমে ফারহা খানের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন। শুক্রবার মুম্বইয়ের খার থানায় অভিযোগ জমা পড়েছে। তাঁর অভিযোগ, ‘ছাপরি’ শব্দটি ব্যবহার করে ফারহা খান হোলি উৎসবকে অপমান করেছেন, যা হিন্দু ধর্মের ভাবাবেগে আঘাত হেনেছে। আইনজীবী কাসিফ খান দেশমুখও জানিয়েছেন, তাঁর মক্কেলের মতে, এই মন্তব্য অত্যন্ত অসম্মানজনক এবং ক্ষমার অযোগ্য।
আরও পড়ুনঃ বিচার তো পেলেন না, ডেথ সার্টিফিকেটও নেই! তিলোত্তমা মামলায় চাঞ্চল্যকর মোড়!
এই মুহূর্তে ফারহা খানের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে কিনা, তা সময়ই বলবে। তবে সোশ্যাল মিডিয়ায় এই বিতর্ক তীব্র আকার নিয়েছে। একদল তাঁর বিরুদ্ধে শাস্তির দাবি তুলছেন, আবার অন্যপক্ষ বলছেন, বিষয়টিকে অতিরিক্ত গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। তবে এই ঘটনার মধ্য দিয়ে স্পষ্ট, ধর্মীয় উৎসব নিয়ে মন্তব্য করার ক্ষেত্রে বলিউড সেলিব্রিটিদের আরও সংবেদনশীল হওয়া প্রয়োজন। শেষ পর্যন্ত এই বিতর্ক কোথায় গিয়ে থামে, সেদিকেই তাকিয়ে আছে গোটা দেশ।





