এক চিকিৎসকের মৃত্যু ঘিরে ছয় মাস ধরে চলছে জটিলতা। না মিলছে সুবিচার, না মিলছে ডেথ সার্টিফিকেট। আরজি কর হাসপাতালে কর্তব্যরত অবস্থায় মৃত্যু হয় তরুণ চিকিৎসক তিলোত্তমার। কিন্তু তাঁর পরিবার আজও মেয়ের মৃত্যুর নথি হাতে পাননি। অথচ আদালতের নথিতে সেই ডেথ সার্টিফিকেটের উল্লেখ রয়েছে! তাহলে প্রশ্ন উঠছে— কে এই নথি তৈরি করল? যদি সার্টিফিকেট ইস্যু হয়েই থাকে, তাহলে মৃতের বাবা-মা সেটি পাচ্ছেন না কেন? এ কি নিছক প্রশাসনিক জটিলতা, নাকি সত্য গোপনের চেষ্টা? ক্রমেই চাপ বাড়ছে হাসপাতাল ও প্রশাসনের উপর। তিলোত্তমার পরিবারের অভিযোগ, শুরু থেকেই ঘটনার ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা চলছে। এবার ডেথ সার্টিফিকেট ঘিরে আরও এক নতুন বিতর্কের জন্ম দিল এই রহস্যজনক দেরি।
তিলোত্তমার পরিবারের অভিযোগ, তাঁদের মেয়েকে ‘Brought Dead’ বলা হচ্ছে, অথচ তিনি কর্তব্যরত অবস্থায় খুন হয়েছেন। তাহলে কেন এই বিভ্রান্তি? কেনই বা এত অনিয়ম? ছয় মাস ধরে তাঁরা অপেক্ষা করছেন, কিন্তু কোনও সদুত্তর পাননি। এমনকি, আদালতের নথিতে ডেথ সার্টিফিকেটের উল্লেখ থাকলেও, তাঁরা সেটি হাতে পাননি। তাহলে আদালতে যে নথি জমা পড়েছে, সেটি এল কোথা থেকে?
এদিকে, কলকাতা পুরসভার তরফে দাবি করা হচ্ছে, তিলোত্তমার দাহ সংক্রান্ত নথিতে মৃত্যুর স্থান হিসেবে আরজি করের নাম উল্লেখ রয়েছে। তাই ডেথ সার্টিফিকেট দেওয়ার দায়িত্ব হাসপাতালের। অন্যদিকে, আরজি করের এমএসভিপি-র বক্তব্য, হাসপাতালে কোনও রোগীর মৃত্যু হলে তবেই তারা ডেথ সার্টিফিকেট ইস্যু করে। কিন্তু হাসপাতাল চত্বরে কেউ মারা গেলে, সেই দায়িত্ব পুরসভার। তাহলে কে আসল সত্যি বলছে? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে মৃত চিকিৎসকের পরিবার।
আরও পড়ুনঃ ‘ভগবান সর্বত্র রয়েছেন, ওয়ো-তেও!’— বিজ্ঞাপন ঘিরে তীব্র বিতর্ক, নিষেধাজ্ঞার দাবিতে সরব ধর্মীয় গোষ্ঠী!
এই মামলায় আরও বড় বিতর্ক তৈরি হয়েছে এমার্জেন্সি মেডিক্যাল অফিসার পলি সমাদ্দারের বয়ান ঘিরে। তিনি কোর্টে জানিয়েছেন, টালা থানার এসআই-এর হাতে ডেথ সার্টিফিকেট তুলে দিয়েছেন। কিন্তু যখন পরিবারই সেটি পায়নি, তখন এই নথির ভিত্তি কী? এটি কি সত্যিই ইস্যু করা হয়েছিল, নাকি আদালতের কাছে ভুল তথ্য দেওয়া হয়েছে? তিলোত্তমার বাবা দাবি করেছেন, প্রথম থেকেই বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা চলছে।
তিলোত্তমার মায়ের বক্তব্য, “বিচার তো পেলামই না, এখন ডেথ সার্টিফিকেটও পাচ্ছি না! আমার মেয়ে তো কর্তব্যরত অবস্থায় খুন হয়েছে, বাইরে তো নয়। তাহলে কেন ‘Brought Dead’ বলা হচ্ছে?” ছয় মাস পরও এই প্রশ্নের উত্তর মেলেনি। প্রশাসন ও হাসপাতালের গড়িমসির জেরে মৃত চিকিৎসকের পরিবার অসহায়। এখন দেখার, এই মামলায় আদৌ সত্যি সামনে আসে কিনা, নাকি ধোঁয়াশা থেকেই যাবে!





