সমাজে শৃঙ্খলা না থাকলে সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাপন ব্যাহত হয়। যখন অপরাধীরা নিজেদের আইন নিজেই হাতে তুলে নেয়, তখন সেই সমাজের অস্তিত্বই সংকটে পড়ে। একসময় যেসব এলাকা শান্তির প্রতীক ছিল, সেগুলোও ধীরে ধীরে অশান্তির আঁতুড়ঘর হয়ে উঠছে। এমনই এক পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়েছে কৃষ্ণনগরের বাসিন্দারা, যেখানে সন্ধ্যা নামতেই আতঙ্কের ঘনঘটা নেমে আসছে।
দিনের আলোয় জনজীবন ব্যস্ত থাকলেও, রাতের অন্ধকারে অপরাধীরা সক্রিয় হয়ে ওঠে। সাম্প্রতিক কিছু ঘটনায় স্পষ্ট, সমাজবিরোধীরা এখন আরও বেপরোয়া। শুধু ব্যক্তিগত শত্রুতা নয়, গ্যাং ওয়ারের মতো ঘটনাও বাড়ছে। প্রশাসন চেষ্টার ত্রুটি রাখছে না, কিন্তু তার মধ্যেও অপরাধের গ্রাফ নিম্নমুখী হচ্ছে না। তাহলে কোথায় যাচ্ছে আমাদের সমাজ?
গতকাল সন্ধ্যায় নদিয়ার কৃষ্ণনগর কালীনগর এলাকায় আচমকাই তিন রাউন্ড গুলি চালানোর ঘটনা ঘটে। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, চ্যাটার্জি পুকুরের কাছে কয়েকজন আড্ডা দিচ্ছিলেন, সেই সময় হঠাৎই একদল দুষ্কৃতী সেখানে পৌঁছে গুলি চালায়। সৌভাগ্যক্রমে কেউ গুরুতর আহত হননি, তবে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে গোটা এলাকায়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, গুলির শব্দে লোকজন ছুটোছুটি শুরু করে, কিন্তু তার আগেই দুষ্কৃতীরা এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যায়।
আরও পড়ুনঃ গরমের ঝটকা বসন্তেই! কলকাতায় পারদ ঊর্ধ্বমুখী, বৃষ্টি কবে? কি বলছে আবহাওয়ার পূর্বাভাস?
পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে এবং রাতভর অভিযান চালিয়ে তিনজনকে আটক করেছে। প্রাথমিক অনুমান, এটি ব্যক্তিগত শত্রুতার জেরে ঘটেছে, তবে আরও গভীর তদন্তের প্রয়োজন রয়েছে। পুলিশ এখনও নিশ্চিত নয়, এই হামলার পিছনে স্থানীয় গ্যাংয়ের হাত রয়েছে কি না। আটককৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে, খুব শীঘ্রই আরও তথ্য সামনে আসবে বলে মনে করা হচ্ছে।
এলাকাবাসীর একাংশের দাবি, কৃষ্ণনগরে ক্রমাগত এই ধরনের ঘটনা বেড়ে চলেছে, যা সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে। দুষ্কৃতীদের শাস্তি না হলে, তারা আরও সাহস পেয়ে যাবে। প্রশাসনের কাছে আবেদন জানানো হয়েছে, যাতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও কঠোর করা হয় এবং রাতের পাহারার ব্যবস্থা জোরদার করা হয়। তবে প্রশ্ন থেকে যায়—এই ঘটনার পর প্রশাসন কি সত্যিই তৎপর হবে, নাকি আতঙ্কের এই পর্ব চলতেই থাকবে?





