উচ্চ মাধ্যমিকের দিনই রাজ্যে ছাত্র বিক্ষোভ! যাদবপুর থেকে মেদিনীপুর এসএফআই বনাম টিএমসিপি-তে রণক্ষেত্র কলেজ চত্বর!

যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে (Jadavpur University) শিক্ষামন্ত্রীর উপস্থিতিতে ছাত্র সংঘর্ষ ঘিরে রাজ্যের রাজনৈতিক পরিবেশ ফের উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। শনিবার ওয়েবকুপার সম্মেলন চলাকালীন শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসুর গাড়ির ধাক্কায় এক ছাত্র আহত হন বলে অভিযোগ ওঠে। এরপরই বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে বিক্ষোভ শুরু করে এসএফআই ও অন্যান্য বামপন্থী ছাত্র সংগঠন। ঘটনার প্রতিবাদে সোমবার (৩ মার্চ) রাজ্যের সমস্ত কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র ধর্মঘটের ডাক দেয় এসএফআই। তবে, এই আন্দোলন ঘিরে রাজনৈতিক টানাপোড়েন চরমে ওঠে।

সোমবার এসএফআই-এর পক্ষ থেকে রাজ্যের সমস্ত কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে ধর্মঘট পালন করা হয়। সংগঠনের তরফে জানানো হয়, শিক্ষাঙ্গনে গণতন্ত্র ফেরানো এবং ছাত্র সংসদ নির্বাচনের দাবিতেই এই আন্দোলন। তবে, তৃণমূল ছাত্র পরিষদ (টিএমসিপি) এসএফআই-এর এই আন্দোলনকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে কটাক্ষ করে। তারা অভিযোগ করে, উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার দিন এই ধর্মঘট ডেকে এসএফআই সাধারণ ছাত্রদের অসুবিধার মুখে ফেলেছে। পুলিশ প্রশাসনও জানায়, পরীক্ষার্থীদের অসুবিধা হলে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এসএফআই-এর ধর্মঘটকে কেন্দ্র করে সোমবার সকালে মেদিনীপুর কলেজে চরম উত্তেজনা ছড়ায়। ধর্মঘটের সমর্থনে এসএফআই সমর্থকরা কলেজের মূল ফটক অবরোধ করলে টিএমসিপি সমর্থকরা তার বিরোধিতা করে। এরপর দু’পক্ষের মধ্যে প্রথমে বচসা, পরে হাতাহাতি শুরু হয়। অভিযোগ, টিএমসিপি সমর্থকরা এসএফআই-এর ব্যানার-পোস্টার ছিঁড়ে ফেলে এবং তাদের আন্দোলন ব্যাহত করার চেষ্টা করে। পাল্টা প্রতিবাদে এসএফআই সদস্যরাও সরব হন, যার জেরে পরিস্থিতি ক্রমশ উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

আরও পড়ুনঃ তিন রাউন্ড গুলি, আতঙ্কিত কৃষ্ণনগর! দুষ্কৃতীদের সামনে আইন কি হার মানছে?

এই উত্তেজনার মধ্যে ধাক্কাধাক্কির পাশাপাশি লাঠি এবং চেয়ার নিয়ে দু’পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয় বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান। ঘটনায় বেশ কয়েকজন ছাত্র আহত হন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কলেজে পুলিশ মোতায়েন করা হয়। পুলিশ এসে দু’পক্ষকে ছত্রভঙ্গ করে এবং কলেজ চত্বর থেকে আন্দোলনকারীদের সরিয়ে দেয়। তবে, সংঘর্ষের জেরে কলেজ চত্বরে চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং স্বাভাবিক পাঠদান ব্যাহত হয়।

এদিকে, সোমবার থেকেই শুরু হয়েছে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা। এরই মাঝে ছাত্র ধর্মঘট এবং সংঘর্ষের ঘটনায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ ছড়িয়েছে। পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে রাজ্যের বিভিন্ন পরীক্ষা কেন্দ্রে বাড়তি পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, পরীক্ষা দিতে আসা ছাত্রছাত্রীদের যেন কোনও সমস্যার সম্মুখীন হতে না হয়, সেদিকে কড়া নজর রাখা হবে। তবে, শিক্ষাঙ্গনে লাগাতার রাজনৈতিক সংঘর্ষে সাধারণ ছাত্রদের পড়াশোনার পরিবেশ যে বিঘ্নিত হচ্ছে, তা নিয়ে নানা মহলে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।

Khabor24x7 Desk

আরও পড়ুন

আরও অন্যান্য খবর