যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাম্প্রতিক ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্যের শিক্ষাঙ্গন উত্তপ্ত হয়ে উঠবে, সেই ইঙ্গিত আগেই মিলেছিল। ছাত্র রাজনীতি ফের একবার সরগরম করেছে রাজ্যের বিভিন্ন কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়কে। সোমবার সকাল থেকে বিভিন্ন ক্যাম্পাসে ছাত্র সংগঠনগুলির জমায়েত দেখা যায়। এসএফআই (SFI), এআইডিএসও (AIDSO), ডিএসও (DSO)-র মতো সংগঠনগুলি এই আন্দোলনের ডাক দিয়েছিল। দাবি ছিল একাধিক— শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসুর পদত্যাগ, আইসিসি ইলেকশন, ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং অবিলম্বে ইউনিয়ন নির্বাচন।
এই ছাত্র ধর্মঘট এমন একদিনে হয়েছে, যেদিন উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা শুরু। ফলে এই সিদ্ধান্ত নিয়ে তৈরি হয়েছে বিতর্ক। পুলিশের তরফে আগেই স্পষ্ট করা হয়েছিল, পরীক্ষার্থীদের যাতে কোনও অসুবিধা না হয়, তা নিশ্চিত করতে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। যদিও আন্দোলনকারী ছাত্র সংগঠনগুলি জানিয়েছে, উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার্থীদের জন্য আলাদা সাহায্য নম্বর চালু করা হয়েছিল, যেখানে যে কোনও সমস্যায় তাঁদের সহযোগিতা করা হবে। কিন্তু তবুও প্রশ্ন উঠছে, পরীক্ষার দিন এই আন্দোলনের প্রয়োজন ছিল কি?
সকালে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪ নম্বর গেটের সামনে শুরু হয় জমায়েত। এসএফআই ও এআইডিএসও-র সদস্যরা বিক্ষোভ দেখান, স্লোগান তোলেন, পিকেটিং শুরু করেন। পুলিশের সঙ্গে বাকবিতণ্ডাও হয়। তবে মূল উত্তেজনার সৃষ্টি হয় যখন এআইডিএসও-র এক সমর্থকের বুকে পুলিশ লাঠি চালায় বলে অভিযোগ ওঠে। মুহূর্তেই পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। ছাত্ররা আরও জোরালো প্রতিবাদ শুরু করলে পুলিশ তাঁদের হটিয়ে দেয়।
আরও পড়ুনঃ উচ্চ মাধ্যমিকের দিনই রাজ্যে ছাত্র বিক্ষোভ! যাদবপুর থেকে মেদিনীপুর এসএফআই বনাম টিএমসিপি-তে রণক্ষেত্র কলেজ চত্বর!
যাদবপুরের মতোই টানটান উত্তেজনা ছড়ায় বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয়েও। সকাল থেকেই বাম ছাত্র সংগঠনগুলির জমায়েত লক্ষ্য করা যায়। তবে কিছুক্ষণের মধ্যেই সেখানে পৌঁছয় পুলিশ। ছাত্রদের অভিযোগ, তাঁদের জোর করে সরিয়ে দেওয়া হয় এবং বেশ কয়েকজন কর্মীকে প্রিজন ভ্যানে তোলা হয়। পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তিও হয়। ডিএসও-র দাবি, এই আন্দোলন শান্তিপূর্ণ ছিল, কিন্তু পুলিশ অকারণ বলপ্রয়োগ করেছে।
কলকাতা ও পশ্চিম মেদিনীপুরের পাশাপাশি উত্তরবঙ্গেও এই ছাত্র ধর্মঘটের প্রভাব পড়ে। কোচবিহারে পরীক্ষার্থীদের শুভেচ্ছা জানাতে গেলে বাম ছাত্রদের বাধা দেওয়া হয়, তাঁদের এলাকা থেকে সরিয়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। মেদিনীপুর কলেজেও উত্তেজনা ছড়ায়, যেখানে এসএফআই-তৃণমূল ছাত্র পরিষদের সদস্যদের মধ্যে কথা কাটাকাটি থেকে শুরু হয়ে পরে হাতাহাতির পর্যায়ে পৌঁছায়। সব মিলিয়ে, শিক্ষাক্ষেত্রে ফের একবার রাজনৈতিক টানাপোড়েন চরমে উঠেছে, যার কেন্দ্রবিন্দু যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাম্প্রতিক ঘটনা।






