বিজ্ঞান যতই আধুনিক হোক, কিছু কিছু ঘটনা আজও আশ্চর্যজনক থেকে যায়। সাধারণত, গর্ভসঞ্চারের জন্য প্রয়োজন ডিম্বাণুর সঙ্গে শুক্রাণুর মিলন, যা মূলত যৌনমিলনের মাধ্যমেই ঘটে। কিন্তু ধরুন, যৌনমিলন ছাড়াই যদি কেউ অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ে? শুনতে অবিশ্বাস্য লাগলেও বাস্তবে এমন ঘটনা ঘটেছে। চিকিৎসাবিজ্ঞানের পরিভাষায় একে বিরল ঘটনা বলা হলেও একেবারে অসম্ভব নয় বলে মত বিশেষজ্ঞদের।
এমনই একটি চাঞ্চল্যকর ঘটনা সামনে আসে ১৯৮৮ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার লেসোথোতে। এক ১৫ বছরের নাবালিকা আচমকা তীব্র পেটে যন্ত্রণা নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়। চিকিৎসকরা প্রথমে বুঝতে পারেননি সমস্যার আসল কারণ। তবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে যা জানা যায়, তা সকলকেই হতবাক করে দেয়। দেখা যায়, মেয়েটির জরায়ু সংকুচিত হয়ে আসছে, সদ্যোজাত শিশুর মাথা জন্মনালির কাছে রয়েছে। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হল, তার যোনিপথের অস্তিত্বই নেই! চিকিৎসা পরিভাষায় একে বলা হয় ‘ডিস্টাল ভ্যাজাইনাল অ্যাট্রেসিয়া’। ফলে প্রশ্ন ওঠে, যদি যোনিপথই না থাকে, তাহলে সে অন্তঃসত্ত্বা হল কীভাবে?
এই রহস্যের উত্তর খুঁজতে গিয়ে চিকিৎসকরা নাবালিকার ব্যক্তিগত জীবনের কিছু ঘটনা জানতে পারেন। সে জানায়, ৯ মাস আগে এক যুবকের সঙ্গে মুখমেহনে লিপ্ত ছিল সে। আচমকা সেই সময় তার প্রেমিক এসে পড়ে এবং এই দৃশ্য দেখে ক্ষিপ্ত হয়ে যায়। রাগের বশে প্রেমিকার পেটে ছুরি চালিয়ে দেয় সে। চিকিৎসকদের মতে, এখান থেকেই ঘটনার মোড় ঘুরে যায় এবং শুরু হয় এক অবিশ্বাস্য জৈবিক প্রক্রিয়া।
বিশেষজ্ঞদের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, মুখমেহনের সময় কোনওভাবে শুক্রাণু গিলে ফেলে ওই কিশোরী। সাধারণত, পাকস্থলীর অ্যাসিডিক পরিবেশে শুক্রাণুর বেঁচে থাকার সম্ভাবনা কম। কিন্তু চিকিৎসকদের অনুমান, অপুষ্টির কারণে ওই কিশোরীর পাচনতন্ত্র হয়তো কম অ্যাসিডিক ছিল, যার ফলে শুক্রাণুগুলি নষ্ট হয়নি। এরপর, ছুরিকাঘাতের ফলে অন্ত্র ছিদ্র হয়ে শুক্রাণু জরায়ুতে পৌঁছে যায় এবং সেই কারণেই ঘটে গর্ভসঞ্চার!
আরও পড়ুনঃ ভোরে বসন্তের ছোঁয়া, দিনে চড়ছে পারদ! কতদিন চলবে এই আবহাওয়া, কি বলছে আবহাওয়ার দপ্তর?
এই ঘটনা চিকিৎসা বিজ্ঞানে বিরলতম বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। সাধারণত, এমন ঘটনা ঘটার সম্ভাবনা অত্যন্ত কম হলেও একেবারে অসম্ভব নয়। চিকিৎসকদের মতে, মানবদেহে কখনও কখনও এমন কিছু জৈবিক প্রক্রিয়া ঘটে যা বিজ্ঞানের সমস্ত নিয়ম ভেঙে দেয়। তবে এ ঘটনা চিকিৎসা গবেষণার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মত বিশেষজ্ঞদের।






