সুপারহিট হওয়ার ‘শাস্তি’? চিরঞ্জিত-প্রভাত রায়ের ষড়যন্ত্রেই কি ইন্ডাস্ট্রি থেকে মুছে গেলেন সঞ্জীব দাশগুপ্ত!

টলিউড মানেই জৌলুস, প্রতিযোগিতা, লড়াই। এখানে টিকে থাকতে গেলে শুধু প্রতিভাই যথেষ্ট নয়, সঙ্গে প্রয়োজন শক্তিশালী যোগাযোগ, সঠিক রাজনীতি বোঝার ক্ষমতা আর কখনো কখনো আপস করার মানসিকতা। কিন্তু কেউ যদি আপস না করেন? যদি শুধু নিজের প্রতিভার উপর নির্ভর করে এগিয়ে যেতে চান? এমনটাই করেছিলেন একসময়ের জনপ্রিয় অভিনেতা সঞ্জীব দাশগুপ্ত। নব্বইয়ের দশকের বাংলা সিনেমার ভক্তরা তাঁকে নিশ্চয়ই মনে রেখেছেন, কিন্তু আজকের প্রজন্মের অনেকেই হয়তো তাঁর নাম শোনেননি। একসময়ে বড় পর্দা থেকে ছোট পর্দা, সর্বত্র দাপিয়ে অভিনয় করেছেন তিনি, অথচ আজ সেই অভিনেতা ইন্ডাস্ট্রি থেকে একেবারে হারিয়ে গেছেন।

প্রশ্ন উঠছে, কেন? প্রতিভার অভাব ছিল না, জনপ্রিয়তাও যথেষ্ট ছিল, তাহলে কী এমন ঘটল যে তিনি একসময় নিজের ইচ্ছাতেই ইন্ডাস্ট্রি ছাড়লেন? টলিউডে বহু অভিনেতার উত্থান-পতনের গল্প শোনা যায়, কিন্তু সঞ্জীব দাশগুপ্তর ঘটনা যেন একটু আলাদা। কারণ তিনি নিজেই বলেছেন, এই ইন্ডাস্ট্রির ‘রাজনীতি’র শিকার হয়েছেন তিনি। অথচ একসময়ে ‘সজনী গো সজনী’, ‘কুয়াশা যখন’, ‘সেদিন চৈত্র মাস’, ‘দহন’-এর মতো সুপারহিট ছবিতে অভিনয় করেছেন। তাঁর চরিত্রগুলো দর্শকের মনে দাগ কেটেছিল। কিন্তু সেই সফলতাই কি তাঁর জন্য কাল হয়ে দাঁড়াল?

সঞ্জীবের দাবি, তাঁর জনপ্রিয়তা অনেকেই মেনে নিতে পারেননি। বিশেষ করে ‘সেদিন চৈত্র মাস’ ছবির দুরন্ত সাফল্যের পর পরিস্থিতি বদলে যায়। তিনি জানিয়েছেন, ছবির নায়ক হিসেবে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দেওয়ার পরেও ইন্ডাস্ট্রির একাংশ তাঁকে ঠেকানোর চেষ্টা করে। তিনি দাবি করেছেন, চিরঞ্জিত চক্রবর্তী এবং পরিচালক প্রভাত রায় নাকি টানা দু’বছর তাঁর সঙ্গে কোনো কথাই বলেননি! অথচ শুটিংয়ের সময় এই দু’জনের সঙ্গেই বেশ ভালো সম্পর্ক ছিল তাঁর। তাতেও সমস্যা তৈরি হয়, কারণ ইন্ডাস্ট্রির অনেকে নাকি ভাবতে শুরু করেন, সঞ্জীব দাশগুপ্তের জনপ্রিয়তা বাড়লে তাঁদের অবস্থান নড়বড়ে হয়ে যাবে! তাই নাকি পরিকল্পিতভাবে তাঁকে সরিয়ে দেওয়া হয়।

আরও পড়ুনঃ স্বপ্ন দেখেছিলেন, লড়াই করেছেন… অবশেষে আলোয় ঋত্বিক! কঠিন পথ পেরিয়ে আজ তিনি নায়ক!

তবে চিরঞ্জিত চক্রবর্তী এই অভিযোগ পুরোপুরি অস্বীকার করেছেন। তাঁর দাবি, “সঞ্জীব খুব সম্ভাবনাময় অভিনেতা ছিল। কিন্তু ও নিজেকে ধরে রাখতে পারেনি। একসময় প্রচণ্ড নেশাগ্রস্ত হয়ে পড়েছিল। প্রতিদিন রাতের বেলা ফোন করত, কিন্তু আমি সবসময় ফোন ধরতে পারতাম না। হয়তো সেই কারণেই ওর মনে হয়েছে, আমি ইচ্ছা করে কথা বলিনি।” চিরঞ্জিত আরও বলেন, “ও একা নয়, এমন ঘটনা অনেকের সঙ্গেই হয়েছে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত নিজেকেই তো ধরে রাখতে হয়, তাই না?”

সত্যি কী ঘটেছিল, তা নিয়ে বিতর্ক থেকেই যাবে। সঞ্জীব দাশগুপ্তর অভিযোগ যদি সত্যি হয়, তাহলে স্পষ্ট যে টলিউডের অন্দরমহলে ক্ষমতার খেলা অনেক বড় ভূমিকা রাখে। আবার চিরঞ্জিতের কথাও উড়িয়ে দেওয়া যায় না। তবে একটা ব্যাপার নিশ্চিত, ইন্ডাস্ট্রির নোংরা রাজনীতির কারণেই প্রতিভাবান অনেক অভিনেতা হারিয়ে যান, সঞ্জীব দাশগুপ্ত সেই তালিকার অন্যতম নাম। আজ তিনি ইন্ডাস্ট্রি থেকে দূরে, কিন্তু তাঁর অনুরাগীরা এখনও চান, যদি আবারও ফিরে আসেন তিনি!

Jui Nag

আমি জুই নাগ, পেশায় নিউজ কপি রাইটার, লেখালেখিই আমার প্যাশন। বিনোদন, পলিটিক্স ও সাম্প্রতিক খবর পাঠকদের সামনে তুলে ধরাই আমার লক্ষ্য। তথ্যভিত্তিক ও আকর্ষণীয় কনটেন্টের মাধ্যমে সঠিক সংবাদ পৌঁছে দিই।

আরও পড়ুন

আরও অন্যান্য খবর