যৌ’ন নিপীড়ন, কিন্তু ধ’র্ষণ নয়? নাবালিকার প্রতি অ’শ্লীল আচরণ নিয়ে হাইকোর্টের রায় ঘিরে ক্ষোভ!

সমাজ কি সত্যিই নাবালিকাদের সুরক্ষা দিতে পারছে? প্রতিদিন খবরের কাগজের পাতা খুললেই নৃশংস ঘটনার সাক্ষী হতে হয়। কোথাও স্কুল যাওয়ার পথে হয়রানি, তো কোথাও নির্জন রাস্তায় যৌন নির্যাতন। অনেক সময় অভিযুক্তরা ধরা পড়লেও তাদের শাস্তি কী হবে, সেই প্রশ্নে তৈরি হয় বিতর্ক। সাম্প্রতিক এক মামলায় এলাহাবাদ হাইকোর্টের রায় ফের এই বিতর্ক উসকে দিল। প্রশ্ন উঠছে, নাবালিকার প্রতি অশ্লীল আচরণ কি ধর্ষণের পর্যায়ে পড়ে না? নাকি তা শুধুমাত্র যৌন নিপীড়ন?

গত কয়েক বছরে পকসো আইনের কড়াকড়ির ফলে নাবালিকাদের উপর হওয়া অপরাধ নিয়ে পুলিশের তৎপরতা অনেকটাই বেড়েছে। তবে আইনের ধারা প্রয়োগে কিছু মামলায় প্রশ্ন ওঠে, কীভাবে বিচার করা হবে। ঠিক তেমনই একটি মামলা এলাহাবাদ হাইকোর্টের সামনে আসে, যেখানে ১১ বছর বয়সি এক শিশুর প্রতি অশ্লীল আচরণের অভিযোগ ওঠে। কিন্তু আদালত জানিয়ে দেয়, এটি ধর্ষণ বা ধর্ষণের চেষ্টার পর্যায়ে পড়ে না। স্বাভাবিকভাবেই এই রায় নিয়ে বিস্তর আলোচনা শুরু হয়েছে।

২০২১ সালে উত্তরপ্রদেশের কাসগঞ্জে ঘটে গিয়েছিল এই ভয়াবহ ঘটনা। অভিযোগ, পবন এবং আকাশ নামে দুই যুবক ১১ বছর বয়সি এক শিশুকে গাড়িতে লিফট দেওয়ার নাম করে যৌন হেনস্তার চেষ্টা করেছিল। তারা নাবালিকার স্তন চেপে ধরে এবং তার পায়জামার ফিতে ছিঁড়ে ফেলে। এরপর রাস্তার মাঝে তার পোশাক খুলে নেওয়ার চেষ্টাও করা হয়। পথচারীরা বাধা দিলে অভিযুক্তরা পালিয়ে যায়। ঘটনার পর ভুক্তভোগীর পরিবার পুলিশের দ্বারস্থ হলে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩৭৬ ধারা (ধর্ষণ) এবং পকসো আইনের ১৮ নম্বর ধারায় (ধর্ষণের চেষ্টা) মামলা দায়ের হয়।

প্রথমে এই মামলাটি কাসগঞ্জের নিম্ন আদালতে ওঠে। কিন্তু অভিযুক্তরা আদালতে দাবি করে, তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ ভিত্তিহীন। তারা মামলার ধারা বাতিলের আবেদন জানায় এলাহাবাদ হাইকোর্টে। বিচারপতি রামমনোহর নারায়ণ মিশ্র পর্যবেক্ষণে বলেন, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি। কারণ, শুধুমাত্র স্তন চেপে ধরা বা পায়জামার ফিতে ছেঁড়া, ধর্ষণ বা ধর্ষণের চেষ্টার পর্যায়ে পড়ে না।
বিচারপতি বলেন, ধর্ষণের চেষ্টা ও প্রস্তুতির মধ্যে সূক্ষ্ম পার্থক্য রয়েছে। অভিযুক্তরা সত্যিই ধর্ষণের চেষ্টা করেছিল কি না, তার জন্য তাদের উদ্দেশ্য স্পষ্ট হওয়া জরুরি। সাক্ষীদের বয়ান অনুযায়ী, নির্যাতিতাকে নগ্ন করা হয়েছিল কি না বা তার সঙ্গে বলপূর্বক যৌন সম্পর্ক স্থাপনের চেষ্টা হয়েছিল কি না, সেই বিষয়ে কোনও প্রমাণ নেই।

আরও পড়ুনঃ গরমের মাঝে স্বস্তির বৃষ্টি না দুর্যোগের সংকেত? ঝড়-শিলাবৃষ্টির সতর্কতা জারি!

হাইকোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ধর্ষণের মামলা চলবে না। তবে ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩৫৪-বি (অশালীন আচরণ বা পোশাক খুলে নেওয়ার চেষ্টা) এবং পকসো আইনের ৯/১০ ধারায় (গুরুতর যৌন নিপীড়ন) বিচার হবে। অর্থাৎ, তারা দোষী প্রমাণিত হলে গুরুতর যৌন নিপীড়নের অপরাধে শাস্তি পাবে, কিন্তু ধর্ষণ বা ধর্ষণের চেষ্টার জন্য নয়। এই রায়কে ঘিরে জনমানসে প্রশ্ন উঠেছে, তাহলে একজন নাবালিকার প্রতি এমন অশালীন আচরণ কি কম গুরুতর অপরাধ? সমাজে মেয়েদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইন কতটা কার্যকরী হচ্ছে, সেটাও আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে।

Jui Nag

আমি জুই নাগ, পেশায় নিউজ কপি রাইটার, লেখালেখিই আমার প্যাশন। বিনোদন, পলিটিক্স ও সাম্প্রতিক খবর পাঠকদের সামনে তুলে ধরাই আমার লক্ষ্য। তথ্যভিত্তিক ও আকর্ষণীয় কনটেন্টের মাধ্যমে সঠিক সংবাদ পৌঁছে দিই।

আরও পড়ুন

RELATED Articles