টলিউড ইন্ডাস্ট্রির সম্পর্ক শুধু ক্যামেরার সামনে সীমাবদ্ধ থাকে না, পর্দার বাইরেও গড়ে ওঠে এক অদৃশ্য বন্ধন। সিনেমার স্ক্রিপ্ট যেমন নায়ক-নায়িকার চরিত্র তৈরি করে, তেমনই শুটিং সেটের হাসি-মজাও একেকটা স্মরণীয় মুহূর্ত সৃষ্টি করে। বাংলার সিনেমাপ্রেমীরা আজও ‘বিন্দুমাসি’কে ভুলতে পারেন না, একসময় তাঁর চোখরাঙানি, সংলাপ, চরিত্রের দৃঢ়তা টলিপাড়ায় দাপট দেখিয়েছিল। আর প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়? তিনি বাংলা ইন্ডাস্ট্রির মেগাস্টার, যাঁর সঙ্গে কাজ করা প্রতিটি অভিনেতার কাছেই এক বড় অভিজ্ঞতা। এই দুই তারকার এক পুরনো ঘটনার কথা শেয়ার করেছিলেন অনামিকা সাহা, যা শুনলে হাসি আটকানো দায়!
অনামিকা সাহা পর্দায় যেমন শক্তিশালী অভিনেত্রী, বাস্তব জীবনেও তিনি তেমনই প্রাণোচ্ছল। তাঁর কেরিয়ারে একাধিক সুপারহিট সিনেমা থাকলেও প্রসেনজিতের সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা তাঁকে বরাবরই আনন্দ দেয়। বহু ছবিতে তাঁরা একসঙ্গে কাজ করেছেন, কখনও খলচরিত্রে, কখনও বা অন্য ভূমিকায়। তবে একবার এক শুটিং সেটে ঘটেছিল এমন এক ঘটনা, যা নিয়ে আজও গল্প বলেন তিনি।
ঘটনাটি সরস্বতী পুজোর দিন, এক সিনেমার মহরতের দিন ধার্য হয়েছিল। ছবির কলাকুশলীদের মধ্যে ছিলেন প্রসেনজিৎ, ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত সহ আরও অনেকে। সেটে তখন উৎসবের মেজাজ, পুজো শেষ, খাওয়া-দাওয়া মিটে গিয়েছে। তারপর শুটিং শুরু। দৃশ্যটি ছিল অনামিকা সাহার, যেখানে তাঁকে প্রসেনজিতের উদ্দেশে বলতে হত, “হারামজাদা, বুদ্ধি আক্কেল জীবনে হবে না?” দৃশ্য শট হওয়ার পর মুহূর্তের জন্য যেন নীরবতা নেমে আসে সেটে।
কিন্তু এরপরই প্রসেনজিৎ রসিকতা করে বলে ওঠেন, “ছিঃ ছিঃ অনামিকাদি, আজ সরস্বতী পুজোর দিন, তুমি আমাকে গালাগাল দিলে?” প্রথমে অনামিকা থমকে গিয়েছিলেন, সত্যিই কি কিছু ভুল হয়ে গেল? পরে বুঝতে পারেন, প্রসেনজিৎ নিছকই মজা করছিলেন! এমন অভিনয়ক্ষমতা তাঁর, যে মুহূর্তের জন্য হলেও অনামিকা বিভ্রান্ত হয়ে গিয়েছিলেন। পরে অবশ্য প্রসেনজিৎ এসে তাঁকে জড়িয়ে ধরে হাসতে হাসতে বলেন, “তুমি একেবারে সিরিয়াস হয়ে গিয়েছিলে!”
আরও পড়ুনঃ Mothabari: পুলিশ কি শাসকের ‘ঢাল’? মোথাবাড়িতে আটকে বিজেপি সভাপতি, উঠল পক্ষপাতের অভিযোগ!
এই ঘটনা আজও অনামিকার স্মৃতিতে উজ্জ্বল। তিনি বলেন, “প্রসেনজিৎ ওর অভিনয়ের মধ্য দিয়েই এতটা জীবন্ত করে তুলেছিল যে, আমি সত্যিই কিছুক্ষণ ধরে ভাবছিলাম ও কষ্ট পেয়েছে! পরে বুঝলাম, সবটাই মজা।” টলিউডের তারকাদের জীবনে এমন অসংখ্য ঘটনা ঘটে, যার অনেক কিছুই দর্শকদের অজানা রয়ে যায়। কিন্তু এই ছোট্ট মজার মুহূর্তই প্রমাণ করে, ইন্ডাস্ট্রির সম্পর্ক শুধুই কাজের নয়, তার বাইরেও অনেক আন্তরিকতা লুকিয়ে থাকে।





