চৈত্রের এই তীব্র দাবদাহে যেন হাঁসফাঁস অবস্থা রাজ্যবাসীর। সকাল থেকেই সূর্যের তেজ, দুপুরে রাস্তায় নামা কার্যত দুঃসাধ্য হয়ে উঠেছে। রোদ এতটাই চড়া যে, মিনিট দশেক বাইরে থাকলেই ঘামে ভিজে যাচ্ছে শরীর। পানীয় জলের দোকানগুলিতে ভিড় লেগেই আছে, অনেকেই হাতে নিয়ে বেরোচ্ছেন ছাতা কিংবা গামছা দিয়ে মাথা ঢেকে পথ চলছেন। গরমের দাপট এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, দুপুরে রাস্তাঘাট কার্যত ফাঁকা থাকছে।
এই অস্বস্তির মধ্যেই রবিবার সকালে ধর্মপ্রাণ মুসলিমদের ঈদের নমাজ আদায়ের দৃশ্য ছিল চোখে পড়ার মতো। নতুন পোশাকে সেজে খোলা জায়গায় বা মসজিদে জমায়েত হলেও, রোদের চোটে অনেকেরই কষ্ট হচ্ছে। বিশেষ করে বয়স্ক ও শিশুদের বেশ সমস্যায় পড়তে হয়েছে। বিভিন্ন জায়গা থেকে খবর আসছে, নমাজ পড়তে গিয়ে গরমে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন কেউ কেউ। তবে উৎসবের আনন্দে একটুও ভাটা পড়েনি, বরং সকলেই একসঙ্গে মিলিত হয়ে ঈদের খুশি ভাগ করে নিয়েছেন।
এদিকে, আবহাওয়াবিদদের মতে, এই অস্বস্তিকর গরমের পিছনে রয়েছে দুটি প্রধান কারণ। প্রথমত, সাধারণত এই সময় বঙ্গোপসাগর থেকে জলীয় বাষ্প উঠে আসে, যা ঝড়বৃষ্টির মাধ্যমে কিছুটা স্বস্তি দেয়। কিন্তু এবছর সেই জলীয় বাষ্পের যোগান অনেকটাই কম। দ্বিতীয়ত, পশ্চিম দিক থেকে প্রবল গরম বাতাস ঢুকছে, যা দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলিতে তাপমাত্রা আরও বাড়িয়ে তুলছে।
আবহাওয়া অফিসের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী পাঁচদিনে কোনও বৃষ্টির সম্ভাবনা নেই। ফলে এই তীব্র গরম আরও কিছুদিন সহ্য করতে হবে। রবিবার কলকাতার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা স্বাভাবিকের থেকে কিছুটা বেশি। বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ সর্বোচ্চ ৯১ শতাংশ থাকায়, শরীরে গরমের চাপ আরও বেশি অনুভূত হচ্ছে।
আরও পড়ুনঃ Astrology : অপ্রতিরোধ্য সৌভাগ্যের ঢেউ! ১ এপ্রিল থেকে গজকেশরী যোগে ভাগ্য বদলাবে এই ৩ রাশির
উত্তরবঙ্গের পরিস্থিতিও একই রকম। যদিও দার্জিলিং ও কালিম্পংয়ে সামান্য বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে, তবে শিলিগুড়ি, জলপাইগুড়ি ও কোচবিহার সহ অন্যান্য জেলাগুলিতে তাপমাত্রার বিশেষ কোনও পরিবর্তন হবে না। ফলে আপাতত স্বস্তি মিলবে না, বরং গরমের দাপট আরও বাড়তে পারে বলে মনে করছেন আবহাওয়াবিদরা।





