পশ্চিমবঙ্গে(west bengal) এক হিন্দু সন্ন্যাসীর উপর হামলার ঘটনা ঘিরে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। ধর্মীয় সহিষ্ণুতা ও ব্যক্তির স্বাধীনতাকে কেন্দ্র করে নতুন করে বিতর্ক দানা বাঁধছে। একাধিক মহল থেকে এই ঘটনাকে রাজ্যের সাম্প্রতিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির প্রতিফলন বলে দাবি করা হচ্ছে। সাধারণ মানুষের বিশ্বাস এবং সংস্কৃতির উপর এমন আঘাত নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ধর্মীয় অসহিষ্ণুতার ঘটনা মাঝে মাঝেই সামনে আসে, যা সাধারণ মানুষের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতার অনুভূতি তৈরি করে। হিন্দু ধর্মগুরুদের উপর অতীতে হামলার ঘটনা ঘটলেও, এবার পশ্চিমবঙ্গে এক সন্ন্যাসীর উপর এমন নৃশংসতা বিশেষ উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে। এই ঘটনার পর রাজনৈতিক মহল থেকে শুরু করে সাধু-সন্ত সমাজের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে।
বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী এই হামলার খবর সামনে এনে রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছেন। তিনি এক্স হ্যান্ডেলে পোস্ট করে বলেছেন, “বাংলাদেশের মতোই পশ্চিমবঙ্গে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের উপর আক্রমণ বাড়ছে। ধর্মাচরণের স্বাধীনতা সংকুচিত হচ্ছে।” তাঁর এই মন্তব্য ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে।
জানা গেছে, তমলুকের আশ্রমের সন্ন্যাসী হিরন্ময় গোস্বামী মহারাজ (Hiranmay Maharaj) ঘাটালে এক ভক্তের বাড়িতে নাম-সংকীর্তন অনুষ্ঠানে যোগ দিতে গিয়েছিলেন। অনুষ্ঠানের শেষে বিকেলে শিষ্যসহ বেরোনোর পরই দুষ্কৃতীদের আক্রমণের শিকার হন তিনি। অভিযোগ, মুখ ঢাকা তিনজন ব্যক্তি তাঁকে ঘিরে ধরে, গলায় দড়ি পেঁচিয়ে শ্বাসরোধের চেষ্টা করে, পিছন থেকে মারধর করে এবং অস্ত্র দিয়ে হাতে আঘাত করে। হামলাকারীরা তাঁর জটা ও দাড়িও কেটে নেয়।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন মহারাজ নিজেই ঘটনার বিবরণ দিয়েছেন। তিনি জানান, রাত ১১টা থেকে সাড়ে ১১টার মধ্যে গীতা পাঠ শেষ করে বেরনোর সময় তিনজন দুষ্কৃতী তাঁর উপর চড়াও হয়। একজন তাঁর গলা দড়ি দিয়ে চেপে ধরে, অন্যজন পেছন থেকে জোরে আঘাত করে এবং তৃতীয় ব্যক্তি অস্ত্র দিয়ে তাঁর হাতে আঘাত করে। হামলাকারীদের মুখ কালো কাপড়ে ঢাকা থাকায় তিনি কাউকেই চিনতে পারেননি। তিনি আরও জানান, প্রথমে তাঁকে অক্সিজেন দেওয়া হচ্ছিল, তবে বর্তমানে তাঁর শ্বাসপ্রশ্বাস কিছুটা স্বাভাবিক হওয়ায় সেটি খুলে দেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুনঃ Ram Navami Procession: ধর্মীয় উৎসব না রাজনৈতিক চাল? রামনবমীর মিছিল নিয়ে বিজেপি-তৃণমূলের টক্কর!
স্থানীয়রা খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে সন্ন্যাসীকে উদ্ধার করে প্রথমে ঘাটাল মহকুমা হাসপাতালে ভর্তি করেন। পরে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে কলকাতায় স্থানান্তরিত করা হয়। বর্তমানে তিনি চিকিৎসাধীন থাকলেও তাঁর অবস্থা স্থিতিশীল বলে জানা গেছে। এই ঘটনার পর সাধু-সন্তদের মধ্যে ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে, পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মধ্যেও নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে। প্রশাসনের তরফে এখনও পর্যন্ত কোনও গ্রেপ্তারির খবর নেই।






