গত কয়েকদিনে রাজ্যবাসীর চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে মুর্শিদাবাদের সামশেরগঞ্জ কেন্দ্রিক অশান্তি। দুপুর গড়াতে না গড়াতেই হঠাৎ ছড়িয়ে পড়া উত্তেজনা শুধুমাত্র একটি এলাকার মধ্যেই আটকে থাকেনি—তাতে জড়িয়ে পড়েছে সুতি, ধুলিয়ানের মতো একাধিক অঞ্চল। কারও কাছে এটি স্থানীয় সমস্যা, আবার কারও মতে এর পিছনে রয়েছে গভীর ষড়যন্ত্র। আতঙ্ক, গুজব ও প্রশ্নের আবহে দিন কাটাচ্ছে সাধারণ মানুষ।
একজন নাগরিক হিসেবে প্রত্যেকেই জানতে চাইছেন—কেন এই হিংসা? কারা এই ঘটনার পেছনে? প্রশাসন কেমন ভূমিকা নিচ্ছে? সাধারণ মানুষের সেই প্রশ্নের উত্তর এখনও ধোঁয়াশা। এর মধ্যেই যে ছবি উঠে আসছে সংবাদপত্রের শিরোনামে, তা যথেষ্ট উদ্বেগজনক। হিংসার ছায়ায় স্কুল-কলেজ বন্ধ, ব্যবসা মুখ থুবড়ে পড়েছে, মানুষের মনে জন্ম নিচ্ছে নিরাপত্তাহীনতা।
এই পরিস্থিতিতেই ইতিমধ্যে হস্তক্ষেপ করেছে কলকাতা হাইকোর্ট। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে শনিবারই কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েনের নির্দেশ আসে আদালতের তরফ থেকে। কিন্তু এতেও আশ্বস্ত হতে পারছেন না অনেকে। সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত এক রিপোর্ট অনুযায়ী, এবার এই ইস্যু নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন আইনজীবী শশাঙ্কশেখর ঝা। তিনি একটি জনস্বার্থ মামলা দায়ের করেছেন যেখানে দাবি করা হয়েছে, এই অশান্তির পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত হোক সুপ্রিম কোর্টের নজরদারিতে।
মামলাকারী জানিয়েছেন, মুর্শিদাবাদের অশান্তির ঘটনায় মৃত্যুর মতো গুরুতর ঘটনা ঘটেছে। তাই কোনও স্থানীয় তদন্ত নয়, বরং বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT) গঠন করে আদালতের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে তদন্ত হওয়া উচিত। তাঁর আরও দাবি, ওয়াকফ বোর্ড সংক্রান্ত আইন নিয়ে যাতে অশান্তি না ছড়ায়, সেই দিকেও নজর দিক সুপ্রিম কোর্ট। আইনজীবীর এই আবেদনের ফলে রাজনৈতিক মহলেও চর্চা শুরু হয়েছে।
আরও পড়ুনঃ Murshidabad : বাজার খুলেছে, বিড়ি শ্রমিকেরাও কাজে ফিরছেন—তবু আতঙ্ক কাটেনি! মুর্শিদাবাদে গ্রামে গ্রামে চলছে শান্তি বৈঠক!
এই মুহূর্তে রাজ্যের প্রশাসন দাবি করছে, পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণে। এডিজি আইনশৃঙ্খলা জাভেদ শামিম জানিয়েছেন, নতুন করে কোনও অশান্তির খবর নেই, তবে সন্দেহভাজন হিসেবে এখনও পর্যন্ত ২০০ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তা সত্ত্বেও, আদালতের হস্তক্ষেপের দাবি ক্রমেই জোরাল হচ্ছে। সুপ্রিম কোর্টে দায়ের হওয়া মামলাটি কবে শুনানির জন্য গ্রহণ করা হবে, সে দিকেই এখন নজর গোটা রাজ্যের। আদালতের নির্দেশেই নির্ধারিত হবে, আদৌ SIT গঠন হবে কি না এবং আদলতের নজরদারিতেই তদন্ত হবে কিনা।






