Ssc scam : চাকরি কেড়ে নেওয়া হলেও হার মানেননি! যোগ্যতার প্রমাণ দিতে ক্লাসেই ঢুকে পড়লেন ‘অযোগ্য’ শিক্ষকরা !

কলকাতার ব্যস্ত রাস্তায় প্রতিদিন হাজারো মানুষের আনাগোনা। তবে বৃহস্পতিবার দুপুরে কিছুটা ভিন্ন চিত্র ধরা পড়ল—হাতে পোস্টার, চোখে স্পষ্ট প্রতিজ্ঞার ছাপ, একদল মানুষ পা মেলালেন নিজেদের আত্মসম্মান রক্ষার দাবিতে। তাঁদের চেহারা দেখে শিক্ষক বলেই মনে হয়। কিন্তু এ কোন লড়াইয়ে সামিল হলেন তাঁরা?

আসলে এই লড়াই শুধুই চাকরি রক্ষার নয়, এটি সম্মানের, এটি পরিচয়ের। শিক্ষকতা কোনও সাধারণ পেশা নয়। সমাজগঠনের এক অন্যতম স্তম্ভ এই শিক্ষকেরাই। সেই শিক্ষকদের যদি ‘অযোগ্য’ তকমায় দাগানো হয়, তবে প্রশ্ন ওঠে গোটা ব্যবস্থার উপরেই। নিজেদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগকে সরাসরি অস্বীকার করে এবার পথে নামলেন সেইসব শিক্ষকরা।

সম্প্রতি পশ্চিমবঙ্গ প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদের নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে নানা ধরনের দুর্নীতির অভিযোগ সামনে এসেছে। সিবিআই তদন্তে ৪০৯১ জন প্রার্থীর ওএমআর শিটে অসঙ্গতির কথা বলা হলেও, আদালত তাতে স্থায়ী কোনও রায় দেয়নি। তবে সেই প্রেক্ষিতেই একাংশ শিক্ষককে ‘অযোগ্য’ বলে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়। আর তাতেই ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন শিক্ষকরা। তাঁদের স্পষ্ট বক্তব্য, নিয়ম মেনেই তাঁরা চাকরি পেয়েছেন, কোনও দুর্নীতিতে তাঁরা যুক্ত নন।

এই অবস্থায় কিছু শিক্ষক নিজের স্কুলে ফেরার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তাঁদের মতে, যখন তাঁদের কোনও দোষ প্রমাণ হয়নি, তখন তাঁরা কেন স্কুলে পড়াতে পারবেন না? এক শিক্ষক বলেন, “আমি যে পরীক্ষা দিয়ে চাকরি পেয়েছি, তার প্রমাণ তো আছে। তা হলে আমি কেন পড়াতে পারব না?” এমন প্রশ্নে সমাজের নানা স্তরে আলোড়ন পড়েছে।

তাঁরা আরও জানান, তদন্ত চলতেই পারে, দোষীদের সাজা হোক—তাতে তাঁদের কোনও আপত্তি নেই। কিন্তু যাঁরা নির্দোষ, যাঁরা নিয়ম মেনেই শিক্ষক হয়েছেন, তাঁদের কেন এইভাবে বাদ দেওয়া হবে? এই প্রশ্নেই তাঁরা রাস্তায় নেমেছেন, এবং সেইসঙ্গে ঘোষণা করেছেন—যত বাধাই আসুক, তাঁরা নিজেদের দায়িত্ব থেকে সরবেন না।

আরও পড়ুনঃ Political Controversy: ‘ভোটে লাগবে হিন্দু সন্ন্যাসী!’—ইমামের সঙ্গে বৈঠকে কেন ছদ্মবেশে গেলেন তৃণমূল কর্মীরা? উঠছে বিস্ফোরক প্রশ্ন

এই পরিস্থিতিতে রাজ্য সরকারের দায়িত্ব আরও বেড়েছে। একদিকে আদালতের পর্যবেক্ষণ, অন্যদিকে তদন্তকারীদের রিপোর্ট—তার মাঝখানে পড়ে শিক্ষকেরা যে অসহায়, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। তবে এই প্রতিবাদ তাঁদের একটাই বার্তা দিচ্ছে—শিক্ষকের সম্মান শুধু চাকরির মাধ্যমে মাপা যায় না, তা মাপে তাঁর শিক্ষাদান, তাঁর দায়িত্ববোধ, আর সমাজের প্রতি তাঁর প্রতিশ্রুতি।

Jui Nag

আমি জুই নাগ, পেশায় নিউজ কপি রাইটার, লেখালেখিই আমার প্যাশন। বিনোদন, পলিটিক্স ও সাম্প্রতিক খবর পাঠকদের সামনে তুলে ধরাই আমার লক্ষ্য। তথ্যভিত্তিক ও আকর্ষণীয় কনটেন্টের মাধ্যমে সঠিক সংবাদ পৌঁছে দিই।

আরও পড়ুন

আরও অন্যান্য খবর