বাজারে বেরোলেই হাঁসফাঁস দশা। একদিকে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম চড়চড়িয়ে বাড়ছে, অন্যদিকে সাধারণ মানুষের আয় তেমন বাড়ছে না। চাকরি না পেয়ে বহু তরুণ-তরুণীকে বাধ্য হয়ে চলে যেতে হচ্ছে অন্য রাজ্যে, পরিযায়ী শ্রমিক হয়ে। যাঁদের হাতে ছিল ভবিষ্যৎ গড়ার স্বপ্ন, তাঁদের কাঁধেই এখন অনিশ্চয়তার ভার। এই সব কিছুই যেন চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিচ্ছে—সমাজের বড় একটা অংশ আজ কতটা বেহাল দশায় দিন কাটাচ্ছেন।
দূরদৃষ্টিতে বদল আসছে না। রাজ্যের শিল্পক্ষেত্রে বিনিয়োগ নেই, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যে সংকট প্রকট, আর শ্রমজীবী মানুষ দিনের পর দিন নিদারুণ অবহেলার শিকার হচ্ছেন। এই পরিস্থিতিতে, বহুদিন বাদে ব্রিগেডের মাটিতে জমায়েত করল বামপন্থী শ্রমিক সংগঠনগুলি। উদ্দেশ্য একটাই—গণআন্দোলনের শক্তিকে আবার সক্রিয় করা এবং মানুষের দুঃখ-দুর্দশাকে রাজনীতির কেন্দ্রে ফেরানো।
রবিবার দুপুরে, কলকাতার ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে অনুষ্ঠিত হল সিপিএম ঘনিষ্ঠ চারটি শ্রমিক সংগঠনের ডাকা বিশাল সমাবেশ। রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ট্রেড ইউনিয়নের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন সেখানে। মঞ্চে ছিলেন অনাদি সাহু, মহম্মদ সেলিম, সমীর পুততুণ্ড-সহ একাধিক বাম নেতা। তাঁদের বক্তব্যে উঠে এল—পরিযায়ী শ্রমিকের সংখ্যা বেড়েছে, কর্মসংস্থান নেই, মজুরি নেই, অথচ জিনিসপত্রের দাম প্রতিদিনই বাড়ছে। বক্তব্যে কেন্দ্র ও রাজ্য—দু’ই সরকারের বিরুদ্ধেই ক্ষোভ উগরে দেন তাঁরা।
সমাবেশে অনাদি সাহু সরাসরি অভিযোগ করেন, “চা বাগান থেকে কয়লাখনি— সব জায়গার শ্রমিক আজ বিপন্ন। সরকারের ভুলনীতির খেসারত দিচ্ছেন সাধারণ মানুষ। যারা এতদিন শ্রম দিয়ে দেশের সম্পদ তৈরি করেছেন, সেই সম্পদই এখন তুলে দেওয়া হচ্ছে আদানি-আম্বানির হাতে।” পাশাপাশি তৃণমূল ও বিজেপি উভয়কেই বিঁধেছেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, এই দুই দল মিলে রাজ্যে সাম্প্রদায়িক বিভাজন ও অশান্তি তৈরি করছে।
আরও পড়ুনঃ Students Viral Answer Sheets : পরীক্ষায় নম্বর নয়, খাতায় ‘নগদ’! ৫০০ টাকার ঘুষে পাশ চাইল পড়ুয়া, হতবাক শিক্ষক!
সবশেষে, মঞ্চ থেকেই দেওয়া হল বড় ঘোষণা। জানানো হয়, আগামী ২০ মে দেশজুড়ে সাধারণ ধর্মঘটের ডাক দেওয়া হয়েছে। এই ধর্মঘট আহ্বান করেছেন দেশের ১০টি কেন্দ্রীয় শ্রমিক সংগঠন—যাঁদের মধ্যে রয়েছে সিটু, আইএনটিইউসি, এআইটিইউসি, এইচএমএস সহ আরও অনেকে। তাঁদের মূল দাবি, শ্রমিকদের স্বার্থ বিরোধী নয়া শ্রমকোড বাতিল করতে হবে। ব্রিগেড থেকে মোদী সরকারকে হুঁশিয়ার করে অনাদি সাহু বলেন, “আগুন নিয়ে খেলবেন না। জনগণই জবাব দেবে।”






