দেশের বিচারব্যবস্থা সাধারণ মানুষের কাছে ন্যায়ের শেষ আশ্রয়স্থল। কিন্তু যদি সেই ব্যবস্থাকেই ঘিরে উঠে আসে প্রশ্ন, তাহলে আস্থার ভিতটাই নড়ে যায়। সম্প্রতি এমন এক ঘটনা সামনে এসেছে, যা আইনের শীর্ষ পর্যায়ে থাকা প্রাক্তন ব্যক্তিত্বকে ঘিরেই তৈরি করেছে বিতর্কের আবহ। একসময়ের প্রভাবশালী প্রধান বিচারপতিকে কেন্দ্র করে উঠেছে ‘পদের অপব্যবহার’-এর মতো গুরুতর অভিযোগ।
বিচারপ্রক্রিয়ার নিরপেক্ষতা, স্বাভাবিক গতি এবং নিয়ম মেনেই সিদ্ধান্ত নেওয়া—এগুলি বিচারব্যবস্থার মেরুদণ্ড। অথচ, যখন দেখা যায় একজন অভিযুক্তের মামলায় ‘অসাধারণ দ্রুততা’ দেখানো হয়েছে, তখন অনেকেই চমকে ওঠেন। এমনকি কেউ কেউ প্রশ্ন তোলেন, এটা কি কাকতালীয়, নাকি এর পিছনে রয়েছে কিছু অজানা তৎপরতা? এই নিয়েই বিতর্ক চরমে।
২০২৪ সালের ৮ই নভেম্বর, দেশের রাষ্ট্রপতির উদ্দেশে একটি চিঠি লেখেন প্রাক্তন হাই কোর্ট বিচারপতি রাকেশ কুমার। সেখানে তিনি উল্লেখ করেন, তৎকালীন প্রধান বিচারপতি ডঃ ডিওয়াই চন্দ্রচূড়ের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। তিনি দাবি করেন, সমাজকর্মী তীস্তা সেতালভাদের জামিন মামলায় প্রাক্তন সিজেআই দুইবার একই দিনে বেঞ্চ গঠন করেছিলেন, যেটি বিচারব্যবস্থার প্রচলিত রীতিনীতির বাইরে। তাঁর কথায়, “এত দ্রুততা আর নিয়ম বহির্ভূত পদক্ষেপই সন্দেহের জন্ম দেয়।” সেই কারণেই তিনি সিবিআই তদন্তের দাবি জানান এবং চিঠির মাধ্যমে ১৯৮৮ সালের দুর্নীতি দমন আইনের ১৭এ ধারা অনুযায়ী অনুমতির অনুরোধ করেন।
এই একই ডিওয়াই চন্দ্রচূড় অতীতে ‘অভয়া’ মামলায় কলকাতা হাই কোর্টের সিবিআই তদন্তের নির্দেশকে ঘিরেও প্রশ্নের মুখে পড়েছিলেন। সেই সময় সুপ্রিম কোর্টের দুই প্রবীণ আইনজীবীর সুপারিশের ভিত্তিতে তিনি নিজে থেকেই একটি মামলা গ্রহণ করেন। প্রশ্ন ওঠে, কীভাবে এত দ্রুত সুপ্রিম কোর্টের তরফে পদক্ষেপ নেওয়া হল? এবারও একই ধাঁচের দ্রুত বেঞ্চ গঠন এবং শুনানির ঘটনায় সেই পুরনো বিতর্ক আবার মাথা চাড়া দিচ্ছে।
আরও পড়ুনঃ Brigade 2025: “আগুন নিয়ে খেলবেন না!”— অনাদি সাহুর হুঁশিয়ারি, ২০ মে দেশজুড়ে ধর্মঘটের ডাক ব্রিগেড থেকে!
রাকেশ কুমারের চিঠি প্রথমে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক হয়ে ২০২৫ সালের ৬ই ফেব্রুয়ারি পৌঁছয় আইন মন্ত্রকে। তারপর ৫ই মার্চ আইন মন্ত্রক সেটি ফরওয়ার্ড করে দেয় কর্মীবিভাগ তথা ডিওপিটির কাছে, প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের জন্য। চিঠিতে তিনি স্পষ্ট করে জানান, “আমি কোনও রায়ের বিরুদ্ধে প্রশ্ন তুলছি না, বরং একটি সাংবিধানিক পদে থেকে নিয়ম লঙ্ঘনের প্রক্রিয়া নিয়েই উদ্বিগ্ন।” তাঁর মতে, এই ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত হওয়া দরকার। তিনি আরও বলেন, তদন্তে প্রমাণ মিললে দুর্নীতি দমন আইনের ৭(সি), ৭এ ও ৮ ধারায় মামলা দায়ের করে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হোক। এখন দেখা যাক, ডিওপিটির তরফে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়।





