Suicide : ‘যদি পুরুষদের জন্য কোনও আইন থাকত, আমি মরতাম না!’ স্ত্রীর হেনস্থায় সামনে এলো ক্ষুব্ধ যুবকের আত্মঘাতী ভিডিও!

সাম্প্রতিক সময়ে আত্মহত্যার পিছনে পারিবারিক অশান্তি একটি বড় কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রতিদিন সংবাদমাধ্যম খুললেই দেখা যাচ্ছে, কোনও না কোনও দাম্পত্য কলহের জেরে নিজের জীবন শেষ করে ফেলছেন কেউ না কেউ। মানসিক চাপ, সামাজিক চোখরাঙানি কিংবা আইনি জটিলতা – সব মিলিয়ে অনেকে এমন পথ বেছে নিচ্ছেন, যা একটিবারের জন্য থমকে যেতে বাধ্য করছে সমাজকে।

এই প্রবণতা আরও ভয়ঙ্কর হয়ে উঠছে যখন আত্মঘাতী হওয়ার আগে ব্যক্তি ভিডিও করে নিজের যন্ত্রণা জানিয়ে যান। এমন একটি ঘটনা সারা দেশের সামনে আলোড়ন ফেলেছিল বেঙ্গালুরুর টেকি অতুল সুভাষের মৃত্যু। এবার সেই ঘটনার ছায়া দেখা গেল লখনউতেও। ফের একটি আত্মহত্যার আগে স্ত্রীর বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ, বিচার না পেলে মৃতদেহের অস্থি ফেলে দেওয়ার নির্দেশ—এতটাই অসহায় হয়ে উঠেছিলেন তিনি।

উত্তরপ্রদেশের অরাইয়া জেলার বাসিন্দা মোহিত যাদব পেশায় ছিলেন ফিল্ড ইঞ্জিনিয়র। বৃহস্পতিবার তিনি ইটাওয়াহ রেলস্টেশনের কাছে একটি হোটেলে ওঠেন। শুক্রবার সকাল থেকে ঘর না ছাড়ায় সন্দেহ হয় হোটেল কর্তৃপক্ষের। সন্ধ্যায় দরজা ভেঙে উদ্ধার হয় তাঁর ঝুলন্ত দেহ। সঙ্গে পাওয়া যায় মোহিতের মোবাইলে রেকর্ড করা একটি ভিডিও, যা প্রকাশ্যে আসতেই শোরগোল পড়ে যায়।

ভিডিওতে মোহিত জানান, তাঁর স্ত্রী প্রিয়া যাদব ও শ্বশুরবাড়ির সদস্যরা তাঁর উপর মানসিক নির্যাতন চালাচ্ছেন। স্ত্রী গর্ভবতী হওয়ার পর বিহারে একটি স্কুলে চাকরি পান, কিন্তু তাঁর মা জোর করে গর্ভপাত করিয়ে দেন—এমনই অভিযোগ করেছেন তিনি। মোহিতের দাবি, স্ত্রী তাঁর নামে বাড়ি ও সম্পত্তি না করালে মিথ্যা পণ নেওয়ার মামলা করার হুমকি দিতেন। এমনকি, স্ত্রী ও তাঁর পরিবার তাঁকে প্রাণে মারার হুমকি দিত। ভিডিওতে বলেন, “যদি পুরুষদের সুরক্ষার জন্য কোনও আইন থাকত, তাহলে আমি এই সিদ্ধান্ত নিতাম না।”

আরও পড়ুনঃ Shocking family scandal: বিয়ের দীর্ঘবছর পর ফাঁস হল গোপন সত্য! মায়ের সঙ্গে অবৈধ সম্পর্কে স্বামী, হতবাক মেয়ে!

ভিডিওর একেবারে শেষে মোহিত বলেন, “আমার মৃত্যুর পরও যদি বিচার না হয়, তাহলে আমার ছাই নালায় ফেলে দিও।” তিনি তাঁর মা-বাবার কাছে ক্ষমাও চান। মোহিতের ভাই তরুণ প্রতাপ জানান, মোহিতের মোবাইলেই তাঁরা ভিডিওটি দেখতে পান এবং তখনই ঘটনার কথা জানতে পারেন। এখনও পর্যন্ত প্রিয়া যাদব বা তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকে কোনও মন্তব্য মেলেনি। বিশেষজ্ঞদের মতে, আইন যেমন নারীদের সুরক্ষায় রয়েছে, তেমনই পুরুষদের ক্ষেত্রেও নির্দিষ্ট আইন তৈরি করা দরকার, যাতে কোনও পক্ষই অন্যায়ের শিকার না হন। এই ঘটনাগুলি কেবল ব্যক্তিগত নয়, সামাজিকভাবে ভাবনার কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে।

Jui Nag

আমি জুই নাগ, পেশায় নিউজ কপি রাইটার, লেখালেখিই আমার প্যাশন। বিনোদন, পলিটিক্স ও সাম্প্রতিক খবর পাঠকদের সামনে তুলে ধরাই আমার লক্ষ্য। তথ্যভিত্তিক ও আকর্ষণীয় কনটেন্টের মাধ্যমে সঠিক সংবাদ পৌঁছে দিই।

আরও পড়ুন

RELATED Articles