সকাল হতেই রোদের ঝলকে চোখ ধাঁধিয়ে দিচ্ছে। মাথার উপর প্রখর সূর্য, আর তীব্র তাপে ঘরবন্দি হতে বাধ্য হচ্ছেন বহু মানুষ। অফিস-কাছারির কাজ, স্কুল-কলেজে যাওয়া, এমনকি বাজারে যাওয়ার কথাও এখন যেন ভাবা যাচ্ছে না। সকালের হালকা রোদও এখন মনে হচ্ছে দুপুরের চড়া রোদ। শীত চলে গিয়েছে বহুদিন আগেই, কিন্তু গ্রীষ্ম যেন আরও ভয়ঙ্কর হয়ে উঠেছে এ বছরে।
এপ্রিলের শেষ প্রান্তে এসে বসন্তের ছোঁয়া মিলবে, এমন আশা করেছিল বঙ্গবাসী। কিন্তু বাস্তবটা একেবারে উল্টো। চারিদিকে ধুলোয় ঢাকা শহর, সড়কে কমেছে যান চলাচল, হাসপাতালের আউটডোরে বাড়ছে হিট স্ট্রোকের রোগী। এমনকি গ্রামাঞ্চলেও ধানখেতে কাজ করা কৃষকরাও সময় বেঁধে নিচ্ছেন, কারণ দুপুরের রোদ সহ্য করা অসম্ভব হয়ে উঠেছে।
আলিপুর হাওয়া অফিস জানাচ্ছে, আগামী ৪৮ ঘণ্টায় দক্ষিণবঙ্গে তাপপ্রবাহের সম্ভাবনা অত্যন্ত বেশি। বিশেষত কলকাতা, হাওড়া, হুগলি, পশ্চিম মেদিনীপুর ও বাঁকুড়ায় একধাক্কায় ৫ থেকে ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত তাপমাত্রা বেড়ে যেতে পারে। তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রির ঘর ছুঁয়ে ফেলবে বলেই পূর্বাভাস। হাওয়ায় জলীয় বাষ্পের মাত্রাও বেড়ে চলেছে, যার ফলে গরমের পাশাপাশি বাড়ছে অস্বস্তিও।
যদিও দক্ষিণবঙ্গের আবহাওয়া শুকনো থাকলেও, হালকা আশার আলো দেখা দিয়েছে। আলিপুর হাওয়া অফিস জানাচ্ছে, স্থানীয়ভাবে কালবৈশাখী হতে পারে যে কোনওদিন বিকেলের পর। যদিও এই সম্ভাবনা খুবই ক্ষীণ এবং এলাকা নির্দিষ্ট। অন্যদিকে উত্তরবঙ্গের পার্বত্য জেলা এবং কোচবিহার, আলিপুরদুয়ার, জলপাইগুড়ি, দার্জিলিং-এ বজ্রবিদ্যুৎ-সহ ঝড়বৃষ্টির পূর্বাভাস মিলেছে আগামী কয়েকদিন ধরে।
আরও পড়ুনঃ Astrology : আকাশে বিরল যোগ, মাটিতে সাফল্যের জোয়ার! মে মাসে কোন ৩ রাশি ছিনিয়ে নেবে দারুন সুযোগ?
দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলিতে এপ্রিলের শেষ পর্যন্ত বৃষ্টির সম্ভাবনা একেবারেই নেই বলে জানিয়েছে হাওয়া অফিস। দিঘা-সহ উপকূলবর্তী জেলাগুলিতে তাপমাত্রা বাড়বে ৫-৬ ডিগ্রি। সকাল থেকেই পরিষ্কার আকাশ এবং ঝলমলে রোদে দিনের পাশাপাশি রাতের তাপমাত্রাও বাড়বে। বাতাসে জলীয় বাষ্পের মাত্রা ৭৮ শতাংশের কাছাকাছি পৌঁছনোয় আবহাওয়া হবে আরও অস্বস্তিকর। তাই এখনই সাবধান হোন, হিট স্ট্রোক এবং ডিহাইড্রেশনের বিরুদ্ধে সতর্কতা অবলম্বন করুন। এখনই বৃষ্টির স্বস্তি নেই দক্ষিণবঙ্গে—আরও কিছুদিন তাপপ্রবাহেই জেরবার হতে হবে রাজ্যবাসীকে।






