রাত নামলেই অজানা আতঙ্ক গ্রাস করছে কাশ্মীরের সীমান্তবর্তী গ্রামগুলিকে। কোনওদিন কোনও শিশু ঘুম থেকে কেঁদে উঠে পড়ছে, আবার কোথাও কোনও প্রবীণ ঘর ছেড়ে বাঙ্কারে আশ্রয় নিচ্ছেন। দিনের আলোয় যতই স্বাভাবিকতা দেখা যায়, সন্ধ্যা নামলেই শুরু হয় চরম অস্বস্তি। সীমান্তের একাধিক অঞ্চলে মানুষের মুখে এখন একটাই কথা— “রাতের দিকে কিছু একটা ঘটবেই।”
এই পরিস্থিতিতে শুধু সেনারাই নয়, বিপাকে পড়েছেন কৃষক ও স্থানীয় বাসিন্দারাও। কৃষি জমি বা ব্যবসার কাজে সীমান্তে যেতে সাহস পাচ্ছেন না অনেকে। ছেলেমেয়েদের স্কুলে পাঠানো, স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যাওয়া— সবকিছুতেই তৈরি হয়েছে এক অদৃশ্য বাধা। ছোট্ট একটি গুলির আওয়াজই যেন তাঁদের শান্ত জীবনে ধ্বংস ডেকে আনছে। আর এই আতঙ্কের আবহেই সীমান্তের ওপার থেকে ছোঁড়া হচ্ছে একের পর এক গুলি।
কাশ্মীরের কুপওয়াড়া, বারামুল্লা, রাজৌরি, পুঞ্চ, মেন্ধর, নৌসেরা, সুন্দেরবানি ও আখনুর— একাধিক সেক্টরে গত দশ দিন ধরে গুলির লড়াই চলছে ভারত ও পাকিস্তানের সেনার মধ্যে। রাত হলেই আচমকা গুলি ছোড়া শুরু করছে পাকিস্তানি বাহিনী। নিয়ন্ত্রণ রেখা বরাবর সংঘর্ষবিরতির চুক্তি লঙ্ঘন করে তারা লাগাতার আগ্রাসী মনোভাব দেখাচ্ছে বলে সেনা সূত্রে জানা গিয়েছে। ভারতীয় সেনাও পাল্টা জবাব দিচ্ছে।
তবে এখানেই শেষ নয়। সূত্রের খবর, শনিবার রাতে একাধিক পোস্ট থেকে একযোগে গুলি চালিয়েছে পাক সেনা, যার উদ্দেশ্য ছিল ভারতীয় সেনা চৌকিগুলি। তবে ভারতও শক্ত হাতে জবাব দেয়। সংঘর্ষে ভারতীয় পক্ষের কোনও ক্ষয়ক্ষতির খবর মেলেনি, যা স্বস্তির বিষয় হলেও, পাক সেনার এই আচরণে ভবিষ্যতের জন্য উদ্বেগ থেকেই যাচ্ছে।
শনিবারই সীমান্তরক্ষী বাহিনী রাজস্থানে ভারত-পাক সীমান্তের কাছে পাক বাহিনীর এক সদস্যকে ধরে ফেলে। জানা গিয়েছে, সেই রেঞ্জার ইচ্ছাকৃতভাবেই ভারতের ভূখণ্ডে প্রবেশ করেছিল। বিএসএফ তাকে গ্রেফতার করে এবং বর্তমানে সে তাদের হেফাজতে রয়েছে। এই ঘটনার পরেই সীমান্তে আচমকা গুলির পরিমাণ ও ঘনত্ব বেড়ে গিয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরা পড়ার ঘটনাকে প্রতিক্রিয়া হিসেবে পাকিস্তান আরও আগ্রাসী হয়ে উঠেছে। কারণ এমন ঘটনা আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে পাক সেনার ভাবমূর্তিকে ধাক্কা দেয়। ফলে, গুলি চালিয়ে তারা চাপ তৈরি করতে চাইছে। কিন্তু ভারতের প্রতিক্রিয়াও এবার অনেক বেশি কড়া।
আরও পড়ুনঃ Dilip Ghosh : মমতা ‘সৌজন্য’ দেখাননি রামমন্দিরে, তাই দিঘায় মন্দির? বিতর্কের মুখে দিলীপের পাল্টা খোঁচা মুখ্যমন্ত্রীকে!
এদিকে, এখনও পর্যন্ত পাকিস্তানের হেফাজতেই রয়েছেন বিএসএফ জওয়ান পূর্ণম কুমার সাহু। ২৩ এপ্রিল পাঞ্জাবের ফিরোজপুর সেক্টরে কৃষকদের জমি পাহারা দিতে গিয়ে ভুলবশত পাকিস্তানের ভূখণ্ডে প্রবেশ করে ফেলেন তিনি। তারপর থেকেই পাকিস্তান তাঁকে ছাড়েনি।
এই দুই ঘটনা— একদিকে পাক রেঞ্জারের ধরা পড়া, অন্যদিকে পূর্ণমের মুক্তি না পাওয়া— মিলিয়ে সীমান্তে সম্পর্ক একেবারে টানটান। এখন গোটা দেশ চাইছে, যেন পাকিস্তানের এই বেয়াদপির উপযুক্ত জবাব দেওয়া হয়। সরকারের তরফে কূটনৈতিকভাবে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়, সেটাই এখন দেখার। তবে স্পষ্ট যে সীমান্তে ফের অশান্তি চরমে উঠেছে।





