ভোরবেলার নিস্তব্ধতা ভেঙে তীব্র গুলির শব্দ
কাশ্মীরের গ্রামগুলোয় এখন আর পাখির ডাক শুনতে পাওয়া যায় না। শুনতে পাওয়া যায় শুধু আতঙ্কে কাঁপা মানুষের কান্নার শব্দ। সাধারণ মানুষ যারা চাষবাস, পশুপালন বা ছোট ব্যবসা করে সংসার চালান—তাঁদের কাছে যুদ্ধ মানেই মৃত্যু আর ধ্বংসের ছায়া। যখনই সীমান্তে উত্তেজনা বাড়ে, সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হন এই নিরীহরাই। এবারও তার ব্যতিক্রম হল না।
পাকিস্তান ও কাশ্মীর সীমান্তে উত্তেজনার আঁচ
গত কয়েক সপ্তাহে ভারতের তিন সেনার তৎপরতা, কূটনৈতিক স্তরে বৈঠক এবং সর্বোপরি দেশের আবেগ—সব মিলিয়ে পরিস্থিতি ছিল টানটান। দেশবাসী চেয়েছিল পহেলগামের জঙ্গি হামলার বদলা। প্রধানমন্ত্রী থেকে প্রতিরক্ষা মন্ত্রী—সকলেই ইঙ্গিত দিয়েছিলেন পাল্টা প্রতিক্রিয়ার। সাধারণ মানুষের মনেও ছিল প্রশ্ন—‘কবে আসবে বদলা?’
জবাব দিল ভারত, পাল্টা খেল পাক সেনার
অবশেষে এল সেই জবাব। ১৫ দিনের মাথায় ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর মাধ্যমে পাকিস্তান ও পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরের (POK) একাধিক সন্ত্রাসবাদী ঘাঁটি গুঁড়িয়ে দেয় ভারতীয় সেনা। জইশ-ই-মহম্মদের হেডকোয়ার্টার, মাদ্রাসা সহ বহু ঘাঁটি সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়। পাল্টা আঘাত পেয়ে দিশেহারা পাক সেনা যে কোনওভাবেই ভারতকে চাপে রাখতে চাইছিল—তার প্রমাণ মিলল কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই।
নিরীহদের ওপর হামলা, কাশ্মীরে মৃত্যুমিছিল
‘অপারেশন সিঁদুর’-এর পরের দিন রাতেই কাপুরুষোচিতভাবে আক্রমণ চালায় পাকিস্তান সেনা। কাশ্মীরের পহেলগামের পার্শ্ববর্তী গ্রামে বুধবার ভোররাতে অতর্কিতে চালানো গুলিতে মৃত্যু হয় অন্তত ১০ জন গ্রামবাসীর। নিহতদের মধ্যে রয়েছে দুই মহিলা এবং এক কিশোর। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানাচ্ছেন, কোনওরকম উসকানি ছাড়াই ঘুমন্ত মানুষদের লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়। আহতদের শ্রীনগরের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
আরও পড়ুনঃ Weather update : গরমে নাজেহাল বাংলা! তাপমাত্রা ছুঁই ছুঁই ৪০! জেলায় জেলায় তাপপ্রবাহ, আবার বৃষ্টি হবে কবে?
এই হামলার পরে আবারও প্রমাণ হল, পাকিস্তান শুধুমাত্র সন্ত্রাসকে প্রশ্রয় দেয় না, বরং বদলার ভয়েই নিরীহদের প্রাণ কেড়ে নেওয়ার মত কাপুরুষোচিত পথে হাঁটে। উপত্যকায় তৈরি হয়েছে ব্যাপক চাঞ্চল্য, নিরাপত্তা আরও বাড়ানো হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী আশ্বাস দিয়েছেন, শহিদের রক্ত বৃথা যাবে না। ততক্ষণে কাশ্মীরের আকাশে শুধুই ভেসে বেড়াচ্ছে কান্না আর প্রতিহিংসার ঝড়।





