India pakistan war : কিছুদিন আগেও নিজের সোশ্যাল মিডিয়া একাউন্ট ভারতে চালু করার জন্য অনুরোধ ছিল হানিয়ার! আজ ভারতকে কাপুরুষ বলছেন তিনি—তবে ভারতের মাটিতে সিনেমা করতে এঁদের লজ্জা করে না?

সাধারণ মানুষের মনে ঘূর্ণিঝড়ের মতো প্রশ্ন
বর্ডার পেরিয়ে রাজনৈতিক উত্তেজনা যখন তুঙ্গে, তখনই ভাইরাল হল কিছু চেনা মুখের মন্তব্য। যাঁদের আমরা বহুবার বড় পর্দায় দেখেছি, প্রশংসা করেছি অভিনয়ের, ভালোবেসেছি চরিত্রগুলিকে। অথচ, তাঁরাই যখন ভারতের বিরুদ্ধে বিষ উগরে দেন, তখন সাধারণ মানুষের মনে একটাই প্রশ্ন—এদের কেন জায়গা দেওয়া হয় বলিউডে? কেনই বা এমন শিল্পীদের ডাক পড়ে ভারতীয় ছবিতে, যাঁরা বিপদের সময় পাশে দাঁড়ানো তো দূরে থাক, উলটে অপমান করেন আমাদের সেনা, আমাদের দেশকে?

বিনোদন জগতের অনেক তারকাই মাঝেমধ্যে সামাজিক বা রাজনৈতিক বিষয়ে মুখ খোলেন। তাতে ক্ষতি নেই, কিন্তু যখন সেই মতামত দেশের বিরুদ্ধে যায়, তখন তা আর শুধুই মতামত থাকে না—তা হয়ে ওঠে অপমান। এমন সময় যখন পহেলগাঁও হামলায় ভারতের বহু সেনা শহিদ হয়েছেন, তখন পাকিস্তানি অভিনেতা-অভিনেত্রীদের এই ধরনের মন্তব্য শুধু ভারতীয়দের নয়, গোটা দেশের আত্মমর্যাদার বিরুদ্ধেই।

পাকিস্তানে শুরু হয়েছে বিতর্কের ঝড়। পহেলগাঁও হামলার পাল্টা জবাবে ভারতীয় সেনার এই অভিযান যখন দেশজুড়ে প্রশংসিত, তখনই একের পর এক পাক তারকারা কটাক্ষ ছুঁড়েছেন ভারতের দিকে। অভিনেত্রী হানিয়া আমির লেখেন, “একটি শিশুর মৃত্যু হয়েছে, পরিবার ধ্বংস হয়েছে। এভাবে দেশের সুরক্ষা হয় না। মিসাইল ছুঁড়ে নিরীহ মানুষ মারা, এটা কাপুরুষের কাজ।” মাহিরা খান লেখেন, “এই আক্রমণ লজ্জাজনক, আল্লাহ আমাদের দেশকে রক্ষা করুন।” এমনকি ‘কাপুর অ্যান্ড সন’ খ্যাত ফাওয়াদ খানও লেখেন, “এই হিংসা বন্ধ হোক। পাকিস্তান জিন্দাবাদ!”

এই পরিস্থিতিতে ক্ষুব্ধ ভারতীয় দর্শক মহল। সোশ্যাল মিডিয়ায় উঠছে প্রশ্ন—যাঁরা আমাদের দেশের মাটিতে এসে কাজ করেন, তাঁরা কীভাবে এত অনায়াসে দেশের বিরুদ্ধে কথা বলেন? বহু ভারতীয় প্রশ্ন তুলেছেন, “এই ফাওয়াদ-হানিয়ারা কবে অভিনয় করলেন পহেলগাঁওর শহিদ সেনাদের পক্ষে? সিনেমায় অভিনয় করা আর সেই দেশের মানুষের সম্মান না রাখা—এ কেমন দ্বিচারিতা?” আরও বলা হচ্ছে, এতবার নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও কেন পাকিস্তানি শিল্পীদের সুযোগ দেওয়া হয় বলিউডে? দেশের দুর্দিনে যাঁরা পাশে দাঁড়ান না, তাঁদের জন্য জায়গা কীভাবে থাকে দেশের সবচেয়ে বড় ইন্ডাস্ট্রিতে?

আরও পড়ুনঃ HS 2025: পাশের হার ছুঁল ৯০.৭৯%! আগের রেকর্ড ছাপিয়ে কোন বিভাগ কতদূর এগোল?

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, যখন ভারতীয় সেনারা পহেলগাঁও হামলার যোগ্য জবাব দিয়েছেন ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর মাধ্যমে, তখন তা ‘কাপুরুষের পদক্ষেপ’ বলে কটাক্ষ করা কোনওভাবেই মেনে নেওয়া যায় না—এমনটাই মত দেশের বহু সাধারণ মানুষের। শহিদ সেনাদের আত্মবলিদানের প্রতি যে অসম্মান প্রকাশ পেয়েছে এই পাক তারকাদের কথায়, তা দেশবাসীর হৃদয়কে ক্ষত-বিক্ষত করেছে। ভারতবর্ষের সার্বভৌমত্ব এবং আত্মরক্ষার প্রয়াসকে ‘হিংসা’ বলাটা নিছকই এক প্রচ্ছন্ন অপমান। তাই এদের বলিউডে জায়গা দেওয়া কতটা যুক্তিসঙ্গত, সেই প্রশ্নই এখন গোটা দেশবাসীর মুখে।

Jui Nag

আমি জুই নাগ, পেশায় নিউজ কপি রাইটার, লেখালেখিই আমার প্যাশন। বিনোদন, পলিটিক্স ও সাম্প্রতিক খবর পাঠকদের সামনে তুলে ধরাই আমার লক্ষ্য। তথ্যভিত্তিক ও আকর্ষণীয় কনটেন্টের মাধ্যমে সঠিক সংবাদ পৌঁছে দিই।

আরও পড়ুন

আরও অন্যান্য খবর