নিশুতি রাত। গোটা শহর তখন ঘুমিয়ে। হঠাৎ তীব্র আলোয় ঝলসে উঠল আকাশ। চারিদিক কেঁপে উঠল প্রচণ্ড শব্দে। এক মুহূর্তে মনে হচ্ছিল যেন যুদ্ধ শুরু হয়ে গিয়েছে। ভিডিও করছিল সাধারণ মানুষ, ছুটছিল আতঙ্কে ছোট্ট শিশুরা। কোনওটা গাড়ির নিচে আশ্রয় নিচ্ছে, তো কেউ আবার ছুটছে মসজিদের দিকে। এমন ঘটনার মুখোমুখি হওয়ার জন্য একেবারেই প্রস্তুত ছিল না পাকিস্তানের সাধারণ নাগরিকরা।
এই ঘটনায় যারা ভিডিও করছিল, তাদের একাংশের গলা শুনে বোঝা যাচ্ছিল বিস্ফোরণ এসেছে ‘মারাত্মক’ দিক থেকে। কেউ বলছেন, “ড্রোন দিয়ে হামলা হয়েছে!”, তো কেউ বলছেন, “এটা ভারতীয়দের বদলা!” যদিও তৎক্ষণাৎ সরকারিভাবে কিছু জানানো হয়নি। তবে সোশ্যাল মিডিয়া জুড়ে দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ে খবর— পাকিস্তানের তিনটি বায়ুসেনা ঘাঁটিতে হামলা!
ভারতের বিদেশমন্ত্রক সূত্রে জানা যাচ্ছে, বৃহস্পতিবার রাতে ভারতের উপর হামলা চালাতে চেয়েছিল পাকিস্তান। ৩০০-৪০০টি তুরস্ক ড্রোন আকাশে পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু প্রতিটি ড্রোনই ধ্বংস হয় দেশের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায়। কোনও ড্রোনই মিনিটখানেকের বেশি ভারতীয় বায়ুসীমায় থাকতে পারেনি। তবে এরপরেই পাকিস্তান পালটা পদক্ষেপ নেয়। জম্মু, পাঞ্জাব, রাজস্থান সীমান্তে ছোট ছোট ড্রোন হামলা চালায় তারা, যাতে কয়েকজন ভারতীয় নাগরিক আহত হন।
এই আঘাতের পর আর দেরি করেনি ভারত। রাত বাড়তেই সীমান্তের ওপারে গোপন অভিযানে নামে ভারতীয় বাহিনী। নিশানা করা হয় পাকিস্তানের বায়ুসেনা ঘাঁটিগুলিকে। একের পর এক বিস্ফোরণে কেঁপে ওঠে রাওয়ালপিন্ডি, মুরিদ এবং রাফিকুই ঘাঁটি। রাতের অন্ধকারে আগুনের গোলা নিক্ষেপ করা হয়, যার ভিডিয়ো ইতিমধ্যেই ভাইরাল। এই ঘটনায় গোটা পাকিস্তান জুড়ে চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। অনেকে বলছেন, ভারত যেন এক ঝটকায় বুঝিয়ে দিল— বদলা নিতে কতটা প্রস্তুত তারা।
আরও পড়ুনঃ Weather update : রোদের তাপে জ্বলবে বাংলা! তিন দিনে আরও ৪ ডিগ্রি বাড়বে তাপমাত্রা, ৬ টি জেলায় জারি তাপপ্রবাহের সতর্কতা!
পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের তরফে ISPR-এর ডিরেক্টর জেনারেল লেফটেনেন্ট আহমেদ চৌধুরী স্বীকার করেছেন, রাওয়ালপিন্ডির নূর খান, মুরিদ ও রাফিকুই বায়ুসেনা ঘাঁটিতে হামলা হয়েছে। যদিও ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রক এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া দেয়নি। তবে একাংশের মতে, এই হামলার মাধ্যমেই গত দু’দিন ধরে পাকিস্তানের উসকানির জবাব দিয়েছে ভারত। শুধু প্রতিরক্ষা নয়, আঘাত করা হয়েছে মনোবলেও। এবার পরিস্থিতি কোন দিকে যায়, সেই দিকেই তাকিয়ে দেশবাসী।





