কলেজে প্রথমবার হস্টেলে ওঠার অভিজ্ঞতা বহু পড়ুয়ার কাছেই জীবনের সেরা অধ্যায় হয়ে ওঠে। পড়াশোনা, বন্ধুত্ব, স্বাধীনতা—সব মিলিয়ে হস্টেল মানেই নতুন জীবন। কিন্তু সেই জীবন যদি আতঙ্কে ঢেকে যায়, তাহলে? নতুন পরিবেশে নিজেদের মানিয়ে নিতে গিয়ে যদি দিনের পর দিন সহ্য করতে হয় মানসিক ও শারীরিক নিপীড়ন, তাহলে শিক্ষাজীবনের সূচনা হয়ে ওঠে বিভীষিকাময়। এমনটাই ঘটছে রাজ্যের এক ঐতিহ্যবাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের হস্টেলে।
সমাজ যখন শিক্ষার আলোয় এগিয়ে চলেছে, তখন এখনও কিছু প্রতিষ্ঠানে র্যাগিংয়ের নামে চলে নির্মম নির্যাতন। প্রশ্ন ওঠে, কলেজ কর্তৃপক্ষ কী করছে? হস্টেলের চার দেওয়ালের ভিতর যখন ঘটছে চূড়ান্ত অন্যায়, তখন প্রশাসনের নীরবতা আরও ভয় ধরায় সাধারণ মানুষকে। বহু সময় অভিযোগ করেও কোনও লাভ হয় না, বরং ভুক্তভোগীদেরই মুখ বন্ধ রাখতে বলা হয়। এবার বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের টেকনোলজির ছাত্রাবাস থেকে উঠে এল এমনই এক ভয়াবহ ঘটনার অভিযোগ।
জানা গিয়েছে, বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন ইউনিভার্সিটি ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজির এজিসি বোস বয়েজ হস্টেলে দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রদের উপর দিনের পর দিন চলে আসছিল মানসিক ও শারীরিক অত্যাচার। অভিযোগ উঠেছে, তৃতীয় ও চতুর্থ বর্ষের কিছু ছাত্রই এই ‘র্যাগিং’-এর জন্য দায়ী। দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা এই অমানবিক আচরণ রবিবার ভোররাতে চরম পর্যায়ে পৌঁছায়। আক্রান্ত পড়ুয়াদের মধ্যে একজন, অনিরুদ্ধ শর্মা, জানান যে তিনি বহুবার কলেজ কর্তৃপক্ষকে এই বিষয়ে জানিয়েছিলেন, কিন্তু কোনও সুরাহা হয়নি।
অভিযোগ অনুযায়ী, ওই দিন ভোরে হস্টেলের ঘরে চড়াও হয় সিনিয়র ছাত্ররা। অনিরুদ্ধকে রড ও লাঠি দিয়ে বেধড়ক মারধর করা হয়। তাঁর মাথা লক্ষ্য করে আঘাত হানার চেষ্টা করা হলেও, প্রতিরোধ করতে গিয়ে রড লাগে হাতে এবং গুরুতর আঘাত পান তিনি। অনিরুদ্ধের রুমমেট ও অন্যান্যরা তাঁকে বাঁচাতে এলে, তাঁদেরও মারধর করা হয়। এই ঘটনার পর অনিরুদ্ধ থানায় গিয়ে অভিযোগ দায়ের করেন। আক্রান্ত আরও কয়েকজন পড়ুয়াও শারীরিকভাবে জখম হয়েছেন বলে খবর।
আরও পড়ুনঃ Weather update : তাপপ্রবাহের মাঝেই স্বস্তির ইঙ্গিত! আগেভাগেই বর্ষা, হাওয়া অফিসের সতর্ক বার্তা রাজ্যবাসীকে!
এই ঘটনায় পুলিশ বিহারের দুই ছাত্র—পীযূষ কুমার ও সৌরভ কুমারকে গ্রেফতার করেছে। পীযুষ নওদা জেলার মুফ্ফসিল থানার ভাদোখানা এবং সৌরভ বৈশালীর বাজেদপুরের বাসিন্দা। তাঁদের বর্ধমানের গোলাপবাগ মোড় এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়। ধৃতদের বর্ধমান সিজেএম আদালতে পেশ করলে, তাঁদের দুদিনের পুলিশ হেফাজতে নেওয়ার নির্দেশ দেন বিচারক। পুলিশ ভারতীয় দণ্ডবিধির একাধিক ধারায় মামলা রুজু করেছে এবং রড সহ অন্যান্য প্রমাণ উদ্ধারের জন্য তদন্ত চালাচ্ছে। আরও কেউ জড়িত কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ছাত্র সমাজ ও অভিভাবকদের প্রশ্ন—এই ভয়াবহ ঘটনার পরেও হস্টেল নিরাপদ বলা যায় কি?






