Pahalgam terror attack : সোপিয়ানে ফের জঙ্গি তৎপরতা! পহেলগাঁও হামলার ৩ পাক আততায়ীর ছবি নিয়ে তল্লাশি অভিযান জারি!

যাদের নামও শোনেনি আগে, আজ তাদের মুখ ছাপা হয়ে উঠেছে জনসমক্ষে। কাশ্মীরের পথঘাটে হঠাৎই চোখে পড়ছে পোস্টার—তাতে তিন অপরিচিত মুখ, আর ঠিক নিচেই লেখা, “মাথার দাম ২০ লক্ষ টাকা”। এমন এক সময় এই পোস্টার সামনে এসেছে, যখন দক্ষিণ কাশ্মীরের প্রত্যন্ত গ্রামে গ্রামে ছড়িয়ে পড়েছে চাপা ভয়। দোকানপাট খোলার সাহস পাচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা, অকারণে কেউ বেরোচ্ছেন না ঘর থেকে। পহেলগাঁওয়ে ঘটে যাওয়া ভয়ঙ্কর হামলার রেশ এখনও টাটকা সাধারণ মানুষের মনে।

উপত্যকার নানা প্রান্তে এখন সেনার টহল, পুলিশি তল্লাশি এবং রাস্তায় রাস্তায় চেকিং চলছে। সোপিয়ান, কুলগাম, অনন্তনাগের মতো দক্ষিণ কাশ্মীরের বিস্তীর্ণ অঞ্চলজুড়ে পাহাড় আর জঙ্গলের মাঝে খোঁজ চলছে এক দল অদৃশ্য ঘাতকের। চারদিকে যেন নিস্তব্ধতা—কিন্তু সেই নিস্তব্ধতার মধ্যেই শোনা যাচ্ছে গুলির শব্দ, হেলিকপ্টারের শব্দ। প্রশাসন বলছে, এটা নিছক সতর্কতা নয়, বরং বড় কিছু ঘটার আশঙ্কা থেকেই এমন কড়াকড়ি।

গত ২২ এপ্রিল বৈসরন উপত্যকায় ভয়াবহ হামলা চালিয়েছিল এক দল জঙ্গি। ঘটনার পরপরই চার অভিযুক্তের স্কেচ প্রকাশ করেছিল পুলিশ। এবার সেই তিন পাকিস্তানি জঙ্গির ছবি ছাপিয়ে সোপিয়ানে পোস্টার দিয়ে দিল তদন্তকারী সংস্থা। গোয়েন্দাদের অনুমান, এই তিন পাক নাগরিক এবং এক স্থানীয় জঙ্গি মিলে সেই হামলা চালিয়েছিল। কিন্তু ঘটনার পর এতদিন কেটে গেলেও তাদের কোনও খোঁজ মেলেনি। এবার সোপিয়ানে হঠাৎ চার লস্কর জঙ্গির সন্ধান মেলায় নতুন করে প্রশ্ন উঠছে—তারা কি তাহলে পহেলগাঁওয়ের মূল হামলাকারী? সেনা ও পুলিশ মঙ্গলবার যৌথ অভিযান চালায় এলাকায়, শুরু হয় গুলির লড়াই, যা দীর্ঘক্ষণ চলতে থাকে।

পহেলগাঁও কাণ্ডের ঠিক দুই সপ্তাহ পর, ৭ মে থেকে ভারত শুরু করে ‘অপারেশন সিঁদুর’। এই অভিযানে জইশ এবং লশকর জঙ্গিদের মোট ৯টি ঘাঁটি একে একে গুঁড়িয়ে দেয় ভারতীয় সেনা। তারপর থেকেই পাক সীমান্তে চরম উত্তেজনা দেখা দেয়। একের পর এক ড্রোন হামলা, ক্ষেপণাস্ত্রের হুমকি—সবই প্রতিহত করেছে ভারতের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। পাল্টা জবাবে ভারতের বায়ুসেনাও আঘাত হানে পাকিস্তানের বেশ কয়েকটি বিমানঘাঁটিতে। জম্মু, পঞ্জাব, রাজস্থান হয়ে গুজরাত পর্যন্ত সীমান্তে উত্তেজনা অব্যাহত।

আরও পড়ুনঃ Couple Kissing in Train : ‘এটা কি লোকাল ট্রেন, না প্রেম করার জায়গা?’— ট্রেনের ভিতরে যুগলের চুম্বন কাণ্ডে উত্তাল নেটপাড়া!

ঘটনার পর থেকে উপত্যকার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে শতাধিক স্থানীয় বাসিন্দাকে। পুলিশের দাবি, এরা জঙ্গিদের ‘ওভারগ্রাউন্ড ওয়ার্কার’ হিসেবে কাজ করত। এইসব ধৃতদের কাছ থেকেই পাওয়া গেছে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য। তদন্তের দায়িত্বে থাকা জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (NIA) এখন সেই সূত্র ধরেই চালাচ্ছে তল্লাশি। যদিও এখনও পর্যন্ত ওই চার জঙ্গির কোনও নির্দিষ্ট হদিস পাওয়া যায়নি। কিন্তু এবার তাদের ছবি প্রকাশ্যে আসায়, প্রশাসনের আশা—চাপা পড়ে থাকা রহস্য আর বেশি দিন গোপন থাকবে না।

আরও অন্যান্য খবর