Bangladesh : শিলিগুড়ি করিডরের পাশে বাংলাদেশে বায়ুসেনা ঘাঁটি, জায়গা দেখে গিয়েছে চিন

দেশের নিরাপত্তা সম্পর্কিত যে কোনও খবর সাধারণ মানুষকে সরাসরি প্রভাবিত করে। শিলিগুড়ি করিডর, যাকে ‘চিকেন নেক’ও বলা হয়, ভারতীয় ভূখণ্ডের উত্তর-পূর্ব সাত রাজ্যের সঙ্গে মূল দেশের সংযোগ রক্ষায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই সংকীর্ণ অঞ্চলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা মানে পুরো দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সুসংহত সংযোগ রক্ষা। তাই এই এলাকায় যে কোনও ধরনের পরিবর্তন বা নতুন কৌশলগত পদক্ষেপ সহজে এড়িয়ে যাওয়া যায় না। সাধারণ মানুষের মনে এই করিডরের গুরুত্ব থাকে নানা খবরের মাঝে, কারণ এটি দেশের অখণ্ডতার সুরক্ষা নিশ্চিত করার প্রধান চাবিকাঠি।

তবে সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশ ও চিনের সঙ্গে সম্পর্কের পরিবর্তন, কূটনৈতিক চিত্রে নতুন রং এবং সীমান্তবর্তী অঞ্চলে নজরদারির মাত্রা বেড়ে যাওয়ায় এই অঞ্চলের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বেড়েই চলেছে। প্রতিবেশী দেশগুলোর কূটনৈতিক ও সামরিক কার্যক্রমের দিকে চোখ রাখতে ভারতের গোয়েন্দা এবং প্রতিরক্ষা সংস্থাগুলো সর্বদা সতর্ক। তবে এসব বিষয় সাধারণ মানুষের কাছে আংশিকই বোঝা যায়, কারণ খবরগুলো বেশিরভাগ সময়ে গভীর কূটনৈতিক ও সামরিক বিশ্লেষণের অন্তর্ভুক্ত।

সূত্রের খবর অনুযায়ী বাংলাদেশ শিলিগুড়ি করিডরের কাছাকাছি একটি বায়ুসেনা ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করছে। এটি শুধু বাংলাদেশে নয়, গোটা অঞ্চলে নতুন ধরনের নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জের ইঙ্গিত দিচ্ছে। জানা গিয়েছে, চিনের কর্মকর্তারা সরাসরি বাংলাদেশে এসে ওই স্থানটি পরিদর্শনও করেছেন। ভারতের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো এই খবর পেয়েছে এবং পুরো পরিস্থিতির ওপর কড়া নজরদারি চালাচ্ছে। যদিও বাংলাদেশের সরকারের সম্পূর্ণ অধিকার রয়েছে নিজেদের সীমান্তে বায়ুসেনা ঘাঁটি নির্মাণের, তবু বিশেষ উদ্বেগের বিষয় হল, এই ঘাঁটি কি চিন বা পাকিস্তানকে ব্যবহার করতে দেবে না, যা ভারতের জন্য হুমকিস্বরূপ হতে পারে।

বাংলাদেশের রংপুর জেলার লালমনিরহাট অঞ্চলে নির্মাণ পরিকল্পনা হওয়া এই বায়ুসেনা ঘাঁটি ভারতীয় সীমান্ত থেকে মাত্র ২০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। এটি শিলিগুড়ি করিডরের একেবারে নিকটবর্তী এলাকা হওয়ায় এর কৌশলগত গুরুত্ব অপরিসীম। বিশ্লেষকরা বলছেন, এই ঘাঁটির মাধ্যমে চিন ভারতীয় সেনার চলাফেরার ওপর নজরদারি চালাতে পারে, যা ভারতের নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকি হিসেবে ধরা হচ্ছে। দক্ষিণ এশিয়ার এই রাজনৈতিক ও সামরিক পরিবেশ বর্তমানে অত্যন্ত জটিল, যেখানে প্রতিবেশী দেশগুলোর সম্পর্ক ও অভিপ্রায় নিয়ে সন্দেহ ও সতর্কতা বেড়ে গেছে।

আরও পড়ুনঃ West Bengal : মমতা সরকারের স্কিমে বাংলাদেশী অনুপ্রবেশকারীর লাভ! সীমান্তে ধরা পড়তেই ফাঁস বড় জালিয়াতি!

শিলিগুড়ি করিডরের কৌশলগত গুরুত্ব নিয়ে বলা হয়, এটি ভারতের মূল ভূখণ্ডকে উত্তর-পূর্ব সাত রাজ্যের সঙ্গে সংযুক্ত রাখে। মুরগির গলার মতো সংকীর্ণ এই করিডরটি যে কোনো সময় সঙ্কুচিত বা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়লে ভারতের উত্তর-পূর্ব অঞ্চল সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে যেতে পারে। পাকিস্তান, চিন ও নতুন কিছু রাজনৈতিক গোষ্ঠী এই করিডরকেই লক্ষ্য করে ভারতকে দুর্বল করার পরিকল্পনা করছে বলে জানানো হয়। সামরিক মহড়ার মাধ্যমে ভারত এ ব্যাপারে নিজেকে প্রস্তুত রাখলেও, এই অঞ্চলের নিরাপত্তা নিয়ে চ্যালেঞ্জ অদূর ভবিষ্যতে আরও বাড়তে পারে বলে সতর্কবার্তা মিলেছে।

Jui Nag

আমি জুই নাগ, পেশায় নিউজ কপি রাইটার, লেখালেখিই আমার প্যাশন। বিনোদন, পলিটিক্স ও সাম্প্রতিক খবর পাঠকদের সামনে তুলে ধরাই আমার লক্ষ্য। তথ্যভিত্তিক ও আকর্ষণীয় কনটেন্টের মাধ্যমে সঠিক সংবাদ পৌঁছে দিই।

আরও পড়ুন

আরও অন্যান্য খবর