গত কয়েকদিন ধরেই রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে, বিশেষ করে কলকাতার বিকাশ ভবনের সামনে চাকরি হারানো মানুষজন একটানা আন্দোলন করে যাচ্ছেন। জীবনের নিরাপত্তা ও ভবিষ্যতের আশায় এই কর্মহীনেরা তাদের চাকরি ফেরানোর দাবি তুলেছেন। প্রতিদিন মানুষের স্রোত বাড়ছে, উত্তেজনাও ক্রমেই ছড়িয়ে পড়ছে। পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তির ঘটনাও ঘটেছে, যা এলাকায় ভয়াবহতার সঞ্চার করেছে। সাধারণ মানুষের কাছে এটি কেবল এক আন্দোলন নয়, বরং তাদের জীবনের মৌলিক অধিকার ফিরে পাওয়ার লড়াই।
চাকরিহারাদের এই লড়াই নিয়ে নানা স্তরে মতামত উঠে আসছে। অনেকেই এই আন্দোলনকে সমর্থন করলেও, কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিম একে ‘নাটক’ বলে কটাক্ষ করেছেন। তাঁর বক্তব্য, “বিকাশ ভবনের সামনে আন্দোলন করলেই সুপ্রিম কোর্টের রায় বদলাবে না।” তিনি বলেন, রায় পরিবর্তনের একমাত্র কর্তৃপক্ষ সুপ্রিম কোর্ট, তাই অন্য কোনো আন্দোলন বা প্ররোচনা দিয়ে তা সম্ভব নয়। এই মন্তব্যে কর্মহীনদের মধ্যে নতুন করে ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে। তারা বলছেন, সরকারই দায়ী দুর্নীতির জন্য, তাই নেতাদের উচিত তাদের পাশে দাঁড়ানো।
এই বিতর্কে পাল্টা প্রতিক্রিয়া এসেছে বঙ্গ বিজেপির রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার থেকে। তিনি ফিরহাদ হাকিমের কথাকে উদ্দেশ্য করে বলেছেন, “যদি তিনি এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিতেন, তবে বুঝতেন পরীক্ষার কঠিনতা এবং চাকরি হারানোর যন্ত্রণার গভীরতা।” আইনজীবী বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্যও মন্তব্য করেছেন, “যখন প্রশাসন দুর্নীতিতে জড়িয়ে থাকে, তখন তাদের বিরুদ্ধে যে কোনও প্রতিবাদকে ‘নাটক’ বলা হয়।” অর্থাৎ, সরকারের ব্যর্থতা ও দুর্নীতি থাকার কারণে কর্মহীনদের দাবিকে অবমূল্যায়ন করা হচ্ছে।
অবশেষে মূল প্রশ্ন দাঁড়ায় সুপ্রিম কোর্টের রায়ের ওপর। ফিরহাদের বক্তব্য অনুযায়ী, আদালতের রায় বদলানো আন্দোলনের মাধ্যমে সম্ভব নয়, কিন্তু চাকরিহারারা তাদের দাবি তুলে ধরে যাচ্ছে। আন্দোলনের চাপ ও উত্তেজনা সরকারকে পদক্ষেপ নিতে বাধ্য করতে পারে। যদিও আদালতের রায় কার্যকর করা প্রয়োজন, সরকারের আন্তরিকতা ছাড়া সমস্যা মিটবে না। প্রশাসনিক দায়িত্বশীলতা ও রাজনীতির সংবেদনশীলতা মিলেই এই সংকটের সমাধান সম্ভব।
আরও পড়ুনঃ Bangladesh : শিলিগুড়ি করিডরের পাশে বাংলাদেশে বায়ুসেনা ঘাঁটি, জায়গা দেখে গিয়েছে চিন
চাকরিহারাদের লড়াই এখনও চলমান, তাদের আশা সরকারের তরফে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হবে। রাজনীতির ময়দানে এই ইস্যু আরও গভীর প্রভাব ফেলছে। সময়ই দেখাবে আন্দোলন নাটক থেকে বের হয়ে বাস্তবতার রূপ নেবে কি না। সাধারণ মানুষের নজর এখন সরকারের প্রতিশ্রুতি ও কর্মপন্থার ওপর। শেষ পর্যন্ত কর্মহীনদের ভবিষ্যত কেমন হবে, তা এখনই ভাবার বিষয়।





