পাকিস্তান সীমান্ত সংলগ্ন এলাকায় যদি হঠাৎ রাতের অন্ধকারে আলো ফুটে ওঠে, তবে সেটা এখন আর বিস্ময়ের নয়। একদিকে যেমন দেশবাসী অভ্যস্ত হয়ে উঠেছে সীমান্তে হঠাৎ করে ঘটে যাওয়া কড়া পদক্ষেপে, অন্যদিকে সোশ্যাল মিডিয়া যেন আগে থেকেই আঁচ করতে শুরু করেছে কিছু একটা আসতে চলেছে। বিশেষ করে যখনই সরকার “মকড্রিল” শব্দটি ব্যবহার করে, তখনই মানুষের মনে উঁকি মারে পুরনো কিছু স্মৃতি—যেখানে যুদ্ধ ছিল ক্যামেরার আড়ালে, কিন্তু বার্তা ছিল বিস্ফোরক।
৭ মে পহেলগাঁও জঙ্গি হামলার পরে ঠিক যেভাবে ভারত সরকার মকড্রিলের কথা ঘোষণা করেছিল, এবং ঠিক তার আগের রাতেই পাকিস্তান ও পাক-অধিকৃত কাশ্মীরের ন’টি জঙ্গি শিবির গুঁড়িয়ে দেওয়ার যে নজির রয়েছে—সেই স্মৃতি আজও অনেকের মনে তাজা। ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর সেই ২২ মিনিট যেন রক্তমাংসের ইতিহাস হয়ে দাঁড়িয়েছে। এবারও যখন আবার মকড্রিলের খবর প্রকাশ্যে এল, তখন স্বাভাবিক ভাবেই কানাঘুষো শুরু হয়েছে।
সূত্র অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় গুজরাট, রাজস্থান, পঞ্জাব এবং জম্মু ও কাশ্মীরে মকড্রিলের পরিকল্পনা করা হয়েছে। পাকিস্তান সীমান্ত ঘেঁষা এই চারটি রাজ্যে এমন হঠাৎ প্রস্তুতি দেখে মানুষ ফের ভাবতে শুরু করেছে—এ কি নিছকই অনুশীলন, নাকি আবার কোনও গোপন অপারেশনের প্রস্তুতি? কারণ, এর আগে যখন মকড্রিলের কথা বলা হয়েছিল, তার ঠিক আগেই ঘটে গিয়েছিল অভাবনীয় এক ঘটনা।
নেটিজেনদের মধ্যে অনেকেই কটাক্ষ করে লিখেছেন, “রাতে আবার সূর্য উঠবে না তো?” কেউ কেউ আবার পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর ছবি পোস্ট করে লিখেছেন, “আন্ডারগ্রাউন্ড হওয়ার সময় এসে গেছে।” কেউ আবার ভিডিও পোস্ট করে দেখাচ্ছেন পাকিস্তানে আতঙ্কের পরিবেশ। সোশ্যাল মিডিয়ায় এখন যেন চলছে একটা অলিখিত প্রস্তুতি—যেখানে প্রত্যেকে নিজের মতো করে বিশ্লেষণ করছেন, অনুমান করছেন, ট্রোল করছেন।
আরও পড়ুনঃ Bangladesh : হিন্দু নিপীড়নের পাশে যুক্তি, তলায় লেখা ‘Boost Post’! সোশ্যাল মিডিয়ায় ট্রোলড বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা
এই আবহেই ফের উঠে এসেছে ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর প্রসঙ্গ। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী সম্প্রতি বলেন, “২২ মিনিটে আমরা ৯টি জঙ্গি শিবির ধ্বংস করেছিলাম। এবার ক্যামেরার সামনেই করেছি।” অর্থাৎ, এবার আর শুধু মকড্রিল নয়, সম্পূর্ণ প্রস্তুতি নিয়ে মাঠে নামছে ভারত। যদিও সরকারিভাবে এটি শুধুই একটি অনুশীলন বলা হলেও, অতীতের ঘটনা মাথায় রেখেই অনেকেই মনে করছেন—এই ‘মকড্রিল’-এর আড়ালেই হতে চলেছে আসল ‘অপারেশন’।





