কলকাতার বুকে আবার চাঞ্চল্যকর ঘটনা। এক স্বর্ণ ব্যবসায়ীর ঠিকানায় আচমকা এসে পৌঁছল এক হুমকি চিঠি, যেখানে ৫০ লাখ টাকা তোলা চাওয়া হয়েছে। আর চিঠিতে দেওয়া হয়েছে মাওবাদীদের নাম। ঘটনা জানাজানি হতেই তড়িঘড়ি নড়েচড়ে বসেছে পুলিশ প্রশাসন। কিন্তু আসল প্রশ্ন, সত্যিই কি মাওবাদীরা জড়িত, নাকি এর নেপথ্যে লুকিয়ে রয়েছে অন্য কোনও চক্রান্ত?
জানা গিয়েছে, বড়বাজারের রাম রহিম মার্কেটের এক স্বর্ণ ব্যবসায়ীর কাছে সম্প্রতি একটি টাইপ করা হুমকি চিঠি পৌঁছয়। বাংলায় লেখা সেই চিঠিতে সরাসরি ৫০ লাখ টাকা দাবি করা হয়েছে। সেখানে উল্লেখ রয়েছে, এই অর্থ মাওবাদী সংগঠনের তহবিল (Maoist Fund) শক্তিশালী করার জন্য প্রয়োজন। টাকা না দিলে ব্যবসায়ীর উপর ‘ব্যবস্থা’ নেওয়ারও হুমকি দেওয়া হয়েছে।
চিঠিতে একাধিক নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তার মধ্যে রয়েছে ‘সমীর মণ্ডল’ এবং ‘গুপীকান্ত’ ওরফে ‘মুকুল’ নাম। চিঠিতে আরও লেখা ছিল, গুপীকান্তের কাছেই এই টাকা পৌঁছে দিতে হবে। এছাড়াও উত্তর ২৪ পরগনার দেগঙ্গা থানার হাদিপুর কলোনির বাসিন্দা হিসেবে এক ব্যক্তির নামও রয়েছে। উল্লেখযোগ্য বিষয়, প্রথমে ‘বাগচি’ শব্দ লিখে তা কেটে ‘ব্যানার্জি’ লেখা হয়েছে। ফলে গোটা বিষয়টির সত্যতা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।
এই ঘটনায় বড়বাজার থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন ওই ব্যবসায়ী। পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, হয়তো মাওবাদীদের নাম ভাঁড়িয়েই কোনও অসাধু মহল তোলাবাজির চেষ্টা করছে। কারণ, অতীতে শহরের মধ্যে থেকে এমন ঘটনা সামনে আসেনি। আরও জানা গিয়েছে, বারাসত থেকে এই চিঠিটি পাঠানো হয়েছে বলে অনুমান। তবে সত্যিই এর পেছনে মাওবাদী যোগ রয়েছে কিনা, তা খতিয়ে দেখছে তদন্তকারী দল।
আরও পড়ুনঃ RG KAR case : ‘টাকা নিয়ে মামলা চাপা পড়ছে?’ সিবিআই-কে নিয়ে প্রশ্ন তুলল আরজি কর কাণ্ডে নির্যাতিতার পরিবার!
এদিকে মাওবাদী দমনে বিগত কয়েক বছরে বড়সড় সাফল্য পেয়েছে নিরাপত্তাবাহিনী। একের পর এক মাও নেতা নিকেশ হয়েছে। এমন অবস্থায় শহরের একেবারে কেন্দ্রে এই ধরনের হুমকি চিঠি নিঃসন্দেহে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। পুলিশ ইতিমধ্যেই গোটা ঘটনার উৎস ও নেপথ্যের রহস্য উদঘাটনে জোর তদন্ত শুরু করেছে। কে বা কারা রয়েছে এর পেছনে, শীঘ্রই সেই প্রশ্নের উত্তর মিলবে বলেই মনে করা হচ্ছে।





