কলকাতার শান্তিপূর্ণ নাগরিক জীবনে হঠাৎ করে ছায়া ফেলেছিল এক অস্বস্তিকর গুঞ্জন। সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে এমন এক দাবি, যা নড়ে বসায় সাধারণ মানুষ থেকে প্রশাসনকে। বলা হতে থাকে, শহরের কসবা এলাকা থেকে তিন যুবককে আটক করেছে কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা, আর তাদের যোগ রয়েছে ইসলামিক স্টেটের (আইএস) সঙ্গে! কলকাতা শহরের সঙ্গে জঙ্গি যোগাযোগ? মুহূর্তে আতঙ্কের সৃষ্টি হয় জনমানসে।
ভাইরাল হওয়া একাধিক পোস্টে দাবি করা হয়, আইএস-এর কিছু সদস্য কলকাতায় আত্মগোপন করে রয়েছে বলে গোপন সূত্রে খবর পেয়েছে গোয়েন্দারা। সেই সূত্রের ভিত্তিতে দিল্লি থেকে এক বিশেষ গোয়েন্দা দল শহরে এসে পৌঁছয়। গুজবে আরও বলা হয়, তদন্ত চালিয়ে কসবা এবং রাজডাঙার একটি ফ্ল্যাটে হানা দেন গোয়েন্দারা, যেখানে নাকি দু’টি ল্যাপটপের মাধ্যমে সিরিয়ার সঙ্গে যোগাযোগের প্রমাণ মেলে। ধৃত তিনজন নিজেদের আইটি কর্মী বলে পরিচয় দিলেও, তাঁদের কথায় অসঙ্গতি মেলে বলে দাবি করা হয়।
সেই পোস্টগুলিতে বলা হয়, ওই তিন যুবকের মধ্যে একজন ভিনরাজ্যের বাসিন্দা। তাঁদের ল্যাপটপ ঘেঁটে নাকি কিছু সন্দেহজনক নথিও উদ্ধার করা হয়। এমনকী বলা হয়েছিল, ধৃতদের প্রাথমিকভাবে ফ্ল্যাটেই জেরা করে পরে তাঁদের দিল্লি নিয়ে যাওয়া হয়েছে। গোটা ঘটনাকে ঘিরে ক্রমেই বেড়ে চলছিল উদ্বেগ, কসবা ও রাজডাঙা এলাকার বাসিন্দারা নানান জল্পনায় বিভ্রান্ত হচ্ছিলেন।
এই ঘটনার পরই কলকাতা পুলিশের তরফে সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি বিবৃতি জারি করে জানানো হয়, এমন কোনও ঘটনার সত্যতা নেই। কলকাতা পুলিশ স্পষ্ট জানায়, কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এনআইএ বা অন্য কোনও গোয়েন্দা সংস্থা এই ধরনের কোনও গ্রেফতার চালায়নি। অর্থাৎ, তিন যুবকের গ্রেফতার কিংবা সিরিয়ার সঙ্গে ল্যাপটপের মাধ্যমে যোগাযোগ – সবটাই ভিত্তিহীন এবং মিথ্যা।
আরও পড়ুনঃ DA : ডিএ নিয়ে বড় জট! হাতে দু’দিন, নির্দেশিকা জারি হয়নি এখনও, কবে মিলবে বকেয়া টাকা?
কলকাতা পুলিশের তরফে আরও জানানো হয়, উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে আতঙ্ক সৃষ্টি করতেই কেউ বা কারা এই ভুয়ো খবর ছড়িয়েছে। সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি এবং অস্থিরতা তৈরি করতেই এই ষড়যন্ত্র করা হয়েছে বলেই সন্দেহ পুলিশের। সেই সঙ্গে পুলিশ হুঁশিয়ারি দিয়েছে, ভুয়ো খবর ছড়ানোর বিরুদ্ধে কড়া আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে। প্রশাসনের তরফে অনুরোধ করা হয়েছে, যাচাই না করে কোনও খবর বিশ্বাস না করার জন্য।





