বিশ্ববাসী আজও ভুলতে পারেনি ২০২০ সালের সেই ভয়ংকর দিনগুলো। মুখে মাস্ক, হাতে স্যানিটাইজার, আর ঘরবন্দি জীবন—করোনার দাপটে থমকে গিয়েছিল গোটা পৃথিবী। চিনের উহান থেকেই শুরু হয়েছিল সেই মৃত্যুর মিছিল। আজও অনেকে বিশ্বাস করেন, চিনের গোপনীয়তা আর উদাসীনতাই বিশ্বজুড়ে করোনার এমন দাপটের অন্যতম কারণ। আর এবার সেই চিন থেকেই ফের উঠে এল নতুন ভাইরাস আতঙ্ক, যা নিয়ে শঙ্কিত বিজ্ঞানীরাও।
সম্প্রতি চিনের উহানের পাঁচটি জায়গা থেকে সংগ্রহ করা ১৪২টি বাদুড়ের কিডনি টিস্যু পরীক্ষা করে বিজ্ঞানীরা চমকে যাওয়ার মতো তথ্য পেয়েছেন। ওই নমুনাগুলিতে পাওয়া গিয়েছে ২২টি ভাইরাসের অস্তিত্ব। এর মধ্যে ২০টি ভাইরাস বিজ্ঞানীদের পূর্বপরিচিত হলেও দুটি একেবারে নতুন এবং ভয়ঙ্কর বলে দাবি করেছেন গবেষকরা। চিনের বিজ্ঞানীদের পাশাপাশি অন্যান্য দেশের গবেষকরাও এই গবেষণায় অংশ নেন।
নতুন ভাইরাসদুটি ‘হেনিপাভাইরাস’ গোত্রের বলে মনে করছেন বিজ্ঞানীরা। এর মধ্যে নিপা এবং হেন্ড্রা ভাইরাসের সঙ্গে রয়েছে জিনগত মিল। এই দুটি ভাইরাস আগে থেকেই অত্যন্ত প্রাণঘাতী বলে চিহ্নিত। এগুলি মানুষের শরীরে মারাত্মক প্রভাব ফেলে—শ্বাসকষ্ট, স্নায়ু বিকল, এমনকি হঠাৎ মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে। সারা বিশ্বে এখন নিপা ও হেন্ড্রার জন্য পৃথক ভ্যাকসিন তৈরি থাকলেও এই নতুন ভাইরাসগুলির ক্ষেত্রে কোনও প্রতিরোধক ব্যবস্থা এখনও নেই। ফলে বিশ্বজুড়ে বাড়ছে উদ্বেগ।
বিজ্ঞানীদের মতে, বাদুড় থেকে এইসব ভাইরাস ছড়াতে পারে নানা মাধ্যমে—ফল, জল অথবা অন্যান্য প্রাণীর সংস্পর্শে এসে। আগেও দক্ষিণ আফ্রিকায় নিপা ভাইরাস ছড়িয়েছিল খেজুরের মাধ্যমে। এই প্রবণতা নতুন ভাইরাসের ক্ষেত্রেও দেখা যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন গবেষকরা। এমনকি মানুষ ও গৃহপালিত পশুপাখির মধ্যে সহজেই ছড়াতে পারে এইসব ভাইরাস। অর্থাৎ আবারও নতুন এক অতিমারীর আশঙ্কা উড়িয়ে দিচ্ছেন না বিজ্ঞানীরা।
আরও পড়ুনঃ Kasba law college : “নিরাপত্তা চাই, ক্লাস নয়!” কসবা ল কলেজে বহিরাগতদের অনায়াসে প্রবেশ, নিরাপত্তারক্ষী দেখেও চুপ— ফুঁসে উঠলেন ছাত্রীরা!
গবেষণাপত্রে বিজ্ঞানীরা দাবি করেছেন, এই নতুন ভাইরাসগুলোর সংক্রমণ ক্ষমতা করোনা ভাইরাসের তুলনায় ২০ গুণ বেশি। করোনার মতই হতে পারে প্রাথমিক উপসর্গ—জ্বর, কাশি, শ্বাসকষ্ট, কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তা পৌঁছতে পারে মস্তিষ্ক ও স্নায়ুতন্ত্রেও। আর ঠিকমতো চিকিৎসা না হলে ঘটতে পারে হঠাৎ মৃত্যু। তাই ভবিষ্যতের কথা মাথায় রেখে এখনই প্রয়োজন আন্তর্জাতিক নজরদারি এবং সুরক্ষা ব্যবস্থা জোরদার করা। না হলে, ফের একবার সেই লকডাউনের দিনগুলি ফিরে আসতে পারে বিশ্বে।





