বাংলাদেশে নারীর প্রতি সহিংসতা যেন থামছেই না। একের পর এক ঘটনা সমাজ ও প্রশাসনকে অস্বস্তিতে ফেলছে। সম্প্রতি ভোলার তজুমদ্দিন উপজেলার কামারপট্টি এলাকায় এক নারীর ওপর সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনা নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে। এর আগে কুমিল্লার মুরাদনগরের একটি হিন্দু পরিবারেও এমনই মর্মান্তিক ঘটনার খবর মিলেছিল, যা সমগ্র সমাজের মানবিক চেতনাকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করায়। এবারও এমন এক ঘটনা, যা শুধু একটি পরিবার নয়—সমগ্র দেশের জন্য এক চরম লজ্জার বিষয়।
ঘটনার সূত্রপাত গত শনিবার রাতে, যখন তজুমদ্দিনের শম্ভুপুর ইউনিয়নের এক যুবককে তাঁর বাড়িতেই ডেকে পাঠায় একটি সংঘবদ্ধ দল। অভিযোগ, ওই যুবকের কাছে চাঁদা দাবি করে মো. ফরিদ উদ্দিন, তজুমদ্দিন সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী রাসেল ও তাঁর ভাই আলাউদ্দিন। চাঁদা না পেয়ে তাঁকে বেধড়ক মারধর করা হয়। তাঁর স্ত্রীকে ফোনে ডেকে পাঠানো হয়, যেন টাকা এনে স্বামীকে ছাড়াতে পারেন।
রবিবার সকালে স্ত্রী ঘটনাস্থলে পৌঁছলে ৪ লক্ষ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। কিন্তু টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় স্বামীকে বেঁধে রাখা অবস্থায় তাঁর সামনেই ওই নারীর ওপর চলে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ। চোখের সামনে নিজের স্ত্রীকে নির্যাতনের শিকার হতে দেখেন স্বামী, অথচ কিছুই করতে পারেননি। ভুক্তভোগী নারী জানান, তিনি ‘ভাই’ বলে ডাক দিয়ে বারবার ধর্ষকদের অনুরোধ করেন, কাঁদেন, কিন্তু দয়া দেখায়নি কেউ।
ধর্ষণের পর ভয় দেখিয়ে ওই দম্পতিকে ছেড়ে দেওয়া হয়। বাড়ি ফিরে রোববার সন্ধ্যায় ধর্ষণের শিকার ওই নারী আত্মহত্যার চেষ্টা করেন দু’বার। গ্রামবাসীরা তাঁকে উদ্ধার করে স্থানীয় বাজারে নিয়ে যান এবং ঘটনা প্রকাশ্যে আসে। পরে ৯৯৯-এ ফোন করে নারী নিজেই পুরো বিষয়টি জানালে রাতেই পুলিশ তাঁদের থানায় নিয়ে যায়।
তজুমদ্দিন থানার ওসি মো. মহব্বত খান জানান, ঘটনাটি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। ভুক্তভোগীদের বক্তব্যের ভিত্তিতে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের মামলা হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করা যায়নি। পুলিশ জানিয়েছে, দ্রুত সময়ের মধ্যে অভিযুক্তদের খুঁজে বের করে আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে। ওসি আরও জানান, ভুক্তভোগী স্বামীর একাধিক বিয়ের কারণে কিছু আর্থিক লেনদেনের বিষয় জড়িত থাকতে পারে বলেও মনে করা হচ্ছে।
আরও পড়ুনঃ Kasba : ‘আমার কান কেটে রক্ত ঝরছিল, তাও থামেনি!’ মনোজিতের বিরুদ্ধে আরও এক নির্যাতিতার বিস্ফোরক স্বীকারোক্তি!
এই ঘটনার পর সমাজজুড়ে ফের প্রশ্ন উঠছে—নারীরা কতটা নিরাপদ? সংখ্যালঘু কিংবা সংখ্যাগরিষ্ঠ—প্রতিটি নারীর জীবন কি এভাবেই ঝুঁকিপূর্ণ থেকে যাবে? এর আগে কুমিল্লার ঘটনায়ও দেখা গিয়েছিল, পরিচিত মানুষের আস্থাকে ব্যবহার করে ঘটানো হয়েছিল ধর্ষণ। এবারও সেই একই চিত্র। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী যতই তৎপর হোক, বিচার না হলে বারবার ঘটবে এমন লোমহর্ষক ঘটনা। প্রয়োজন কঠোর, দ্রুত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি। নাহলে নারী নিপীড়নের এই চক্র কখনই থামবে না।






