কলেজে পড়তে আসে ছেলেমেয়েরা ভবিষ্যতের স্বপ্ন নিয়ে। কিন্তু কখনও কখনও সেই শিক্ষাঙ্গনই পরিণত হয় ভয়ের ঘরে। সাম্প্রতিক কসবা-কাণ্ড তারই এক চাঞ্চল্যকর উদাহরণ। একের পর এক অভিযোগে স্পষ্ট হয়ে উঠছে, ওই আইন কলেজে ছাত্রছাত্রীদের নিরাপত্তা ছিল শুধুই কাগজে-কলমে। প্রশাসনের চোখের সামনে দিনের পর দিন ঘটে গিয়েছে নিগ্রহ ও হেনস্থার ঘটনা, কিন্তু প্রকৃত দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলেই অভিযোগ।
এই কলেজের ছাত্রসংগঠন, বিশেষ করে টিএমসিপির এক নেতার হাতে কেন্দ্রীভূত ছিল একচেটিয়া ক্ষমতা। তিনি ছিলেন কলেজের অস্থায়ী কর্মী, তবে কলেজের সব অফিসিয়াল হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে অ্যাডমিন হওয়া থেকে শুরু করে ইউনিয়ন রুমের নিয়ন্ত্রণ পর্যন্ত—সবকিছুই ছিল তাঁর হাতের মুঠোয়। এমনকি শিক্ষকদেরও তাঁকে এড়িয়ে চলতে হত বলেই অভিযোগ উঠছে। পড়ুয়াদের দাবি, প্রশাসন থাকলেও কলেজ চালাতেন সেই ‘দাদারা’।
অভিযোগকারীদের বক্তব্য, প্রথম বর্ষের ছাত্রীদের উপরে নজরদারি চালানো হত কসবা থেকে কালীঘাট মেট্রো পর্যন্ত। ক্লাস না করে ছাত্রীদের একপ্রকার জোর করেই নিয়ে যাওয়া হত ইউনিয়ন রুমে। সেখানে বসিয়ে রাখা হত ঘণ্টার পর ঘণ্টা। এক ছাত্রী জানিয়েছেন, অভিযুক্ত নেতা তাঁকে বলেছিলেন, ‘‘বস না তোকে একটু দেখি…’’। এই ধরনের মন্তব্য একাধিক মেয়েকে শোনানো হয়েছে বলেই অভিযোগ উঠেছে।
এই প্রথম নয়। এর আগেও ওই টিএমসিপি নেতার বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানি ও যৌন হেনস্থার একাধিক অভিযোগ দায়ের হয়েছে শহরের বিভিন্ন থানায়। তবে আশ্চর্যের বিষয়, পুলিশের তরফে দীর্ঘদিন কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। অভিযোগকারীদের দাবি, প্রশাসনের মদতে দিনের পর দিন চলেছে এই অনাচার।
আরও পড়ুনঃ ভোররাতে কসবার ল কলেজে হাজির ‘এম’! রক্ষী-সহ অভিযুক্তদের নিয়ে পাঁচ ঘণ্টা ধরে ঘটনার পুনর্নির্মাণ পুলিশের!
শুধু ছাত্রনেতাই নয়, যিনি নিজেকে কলেজের জিএস বলে দাবি করতেন, তিনিও ওই অভিযুক্ত নেতার অনুগত বলেই দাবি পড়ুয়াদের একাংশের। তাঁরা বলছেন, পুরো কলেজজুড়ে ছিল একপ্রকার ‘সিন্ডিকেট রাজ’। বর্তমানে অভিযুক্ত সহ তিনজন পুলিশ হেফাজতে রয়েছেন। তবে এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং কলেজ থেকে অপরাধীদের নির্মূল করার দাবি জানাচ্ছেন ছাত্রছাত্রীরা। তাদের প্রশ্ন, “আর কত মেয়ে এইভাবে শিকার হবে? এবার তো বিচার হোক প্রকৃত অপরাধীর।”





