কলেজ ক্যাম্পাসে ফের অস্বস্তিকর হাওয়া। শহরের দক্ষিণ প্রান্তের কসবা এলাকা হঠাৎই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে। সেই ভয়াবহ রাতের পর সপ্তাহ ঘুরতেই আবার আলোচনার কেন্দ্রে ‘সাউথ ক্যালকাটা ল কলেজ’। তবে এবার নাটকীয় রূপে হাজির অভিযুক্তেরা। গোপনে, পুলিশি ঘেরাটোপে, ক্যাম্পাসে ফিরে এলেন তাঁরা। কেন?
শুক্রবার ভোররাতে, যখন শহর এখনও নিস্তব্ধ ঘুমে আচ্ছন্ন, তখনই নড়েচড়ে বসে পুলিশ। তিনটে নাগাদ চার অভিযুক্তকে নিয়ে কসবায় পৌঁছয় তদন্তকারী দল। ছিল কড়া নিরাপত্তা। মূল অভিযুক্ত ‘এম’-এর পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন আরও তিন অভিযুক্ত – ‘পি’, ‘জে’ এবং ধৃত নিরাপত্তারক্ষী। দীর্ঘ পাঁচ ঘণ্টা ধরে কলেজ চত্বরে চলে ঘটনার ‘রিকনস্ট্রাকশন’।
জানা যাচ্ছে, কলেজের ইউনিয়ন রুম থেকে শুরু করে রক্ষীর ঘর—প্রত্যেকটি জায়গায় ঘুরে ঘটনার ধাপে ধাপে পুনর্নির্মাণ করিয়েছেন তদন্তকারীরা। চলেছে ভিডিওগ্রাফি, এমনকি থ্রিডি স্ক্যানিংও। তদন্তে এক আধিকারিক জানিয়েছেন, “এই পুনর্নির্মাণ থেকে পাওয়া তথ্য নির্যাতিতার বয়ানের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হবে। তদন্তে এর বড় ভূমিকা থাকবে।”
২৫ জুন সন্ধ্যা সাড়ে সাতটা থেকে রাত প্রায় এগারোটা পর্যন্ত নির্যাতিতা ছিলেন অভিযুক্তদের কবলে। তাঁর অভিযোগ অনুযায়ী, প্রথমে ধর্ষণের চেষ্টা করা হয় ইউনিয়ন রুমে। পরে রক্ষীর ঘরে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করেন ‘এম’। সাহায্যের জন্য নিরাপত্তারক্ষীর কাছে গিয়েও কোনও সাড়া পাননি তিনি। উলটে তাঁকে ঘরের সামনে বসিয়ে রাখা হয়। সহায়তায় ছিলেন ‘পি’ ও ‘জে’। বাধা দিলে মারধরের হুমকিও দেওয়া হয় বলে অভিযোগ।
আরও পড়ুনঃ Abhijit Sarkar Murder case: ‘ওসির হাতে ধুয়ে গিয়েছিল রক্ত!’ অভিজিৎ হত্যায় দাদার বিস্ফোরক বয়ান ঘিরে পুলিশ-নেতা মিলিয়ে ১৮ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট!
তদন্তে উঠে এসেছে, মূল অভিযুক্ত একসময় কলেজের প্রাক্তনী ও অস্থায়ী কর্মী ছিলেন। বর্তমানে প্র্যাকটিসরত আইনজীবী হলেও ইতিমধ্যেই তাঁর নামে ১১টি পুরনো মামলা রয়েছে। অভিযোগ, অতীতেও মহিলাদের হেনস্থা করেছেন তিনি। এমনকি, ঘটনার পরে কলেজ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগও করেছিলেন তিনি। তাঁর দুই সঙ্গী কলেজের ছাত্র এবং সক্রিয়ভাবে যুক্ত তৃণমূল ছাত্র পরিষদের সঙ্গে। ঘটনার পর তদন্তভার দেওয়া হয়েছে কলকাতা পুলিশের গোয়েন্দা শাখার হাতে।





